ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ হয়েছে বলে দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার একদিন পরই মার্কিন প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন—তারা জানেন না ইরানের প্রায়-বোমা-গ্রেড ইউরেনিয়ামের মজুত এখন কোথায় আছে।

স্থানীয় সময় রোববার এবিসি'র এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব এই ইউরেনিয়ামের সুরাহা করার। সে লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ থাকবে।’ তার মতে, ইরান এই মুহূর্তে ইউরেনিয়ামকে অস্ত্ররূপে পরিণত করার যন্ত্রপাতি হারিয়েছে, তাই তাৎক্ষণিক পারমাণবিক হুমকি হ্রাস পেয়েছে।

কিন্তু ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করতে আগ্রহ দেখায়নি। বরং তেহরান অভিযোগ করছে, পূর্ববর্তী কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এখন সেই ইউরেনিয়াম মজুতই ইরানের হাতে অন্যতম কূটনৈতিক কার্ড হিসেবে থাকছে বলে হুমকি দিয়েছে তেহরান।

রোববার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ড্যান কেইন জানান, বিমান হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ‘গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তবে তারা ট্রাম্পের মতো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হওয়ার দাবি করেননি।

উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ফোর্দো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের পাহাড়ি ভূগর্ভস্থ অংশে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের একাধিক ‘ম্যাসিভ ওরডান্যান্স পেনেট্রেটরস’ বোমা ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দার প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই দীর্ঘদিনের লক্ষ্যবস্তু ফোর্ডোতে প্রচণ্ড ধ্বংস সাধিত হলেও এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।

দুইজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইরান হামলার আগে থেকেই ফোর্দো কেন্দ্র থেকে যন্ত্রপাতি ও ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলেছিল। তারা বলছেন, প্রায় ৪০০ কেজি, অর্থাৎ ৮৮০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম—যার সমৃদ্ধতা ৬০ শতাংশ, সেগুলোর স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে হামলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল ইরান। তাদের অবকাঠামোয় যা ক্ষতি হয়েছে তা দ্রুত পুণর্নিমাণ করা সম্ভব। এখন আর ইরানের এনপিটি চুক্তিতে থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা ও ইরানের প্রস্তুতিতে বিশ্ব একটি বিপজ্জনক পারমাণবিক চুক্তিহীন পর্বে প্রবেশ করছে।