হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে চীনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি বন্ধে অনুমোদন দিয়েছে ইরানের পার্লঅমেন্ট। এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে চীন যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাতে প্রণালিটি বন্ধ না করে। খবর সিএনবিসি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ।
রোববার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘চীনকে বলব তারা যেন ইরানকে ফোন করে। কারণ তারা নিজেরাই এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। যদি ইরান এটি বন্ধ করে, তাহলে সেটা হবে তাদের নিজের অর্থনীতির ওপর আত্মঘাতী আঘাত।’
চীন বর্তমানে ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা। গত মাসে ইরান দৈনিক ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ব্যারেল চীনেই রফতানি হয়।
ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, ‘ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার রাখে।’ এদিনই হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রস্তাব সমর্থন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তাই, চীনকে এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ করা হয়েছে। চীন যেহেতু ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার, তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, চীনের হস্তক্ষেপে ইরান হয়তো তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
বিশ্ববাজারে এর প্রভাব এরইমধ্যেই দৃশ্যমান। যদি প্রণালিটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গোল্ডম্যান স্যাকস ও র্যাপিডান এনার্জি।
রুবিও বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশের অর্থনীতির ওপর আরো বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং এর জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।










