বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আমি সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘নগর পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা এমন একটি ঢাকা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ও মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকার নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা, জনসংখ্যার চাপ এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিদিন কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রত্যাশায় অসংখ্য মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে। ফলে আবাসন, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। এ বাস্তবতায় ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার নগর উন্নয়ন মডেল হুবহু অনুসরণ না করে আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকার ওপর জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ কমাতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কর্মসংস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করা জরুরি।

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় কোনো এলাকাকে জলাশয়, উন্মুক্ত স্থান কিংবা নির্দিষ্ট ভূমি ব্যবহারের জন্য চিহ্নিত করা হলে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভূমির ব্যবহার নিশ্চিত করা, জলাশয় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা এবং অননুমোদিত ভবন নির্মাণ প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে শুধু রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পয়োনিষ্কাশন ও গণপরিবহনসহ নগরের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।

নগরকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। ভবনের নকশা অনুমোদনের পর অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা ভবনমালিক, আবাসন ব্যবসায়ী, স্থপতি ও প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। পাশাপাশি ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুতের মতো টেকসই প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে।

নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও বাস্তবতাভিত্তিক। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গণপরিবহনকেন্দ্রিক নগর উন্নয়ন, জলাশয় ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আমি বিশ্বাস করি, সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আবাসন খাতের উদ্যোক্তা ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি তার যথাযথ বাস্তবায়ন, কার্যকর সমন্বয় এবং আইন মেনে চলার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬-এ আমাদের অঙ্গীকার হোক—সমন্বিত নগর পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন ও সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করা এবং একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা।

বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬ সফল হোক।