ঢাকা শহরের সকাল শুরু হয় ব্যস্ততা দিয়ে। প্রতিদিনের কর্মজীবন, যানজট, দীর্ঘ যাতায়াত আর নানা নাগরিক চাহিদার মধ্যে কাটে কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন। তবু এ শহর ছেড়ে যেতে চান না অনেকেই। কারণ কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও জীবনের নানা সুযোগ-সুবিধা শহরকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের ওপর চাপও বাড়ছে। বাড়ছে মানুষের সংখ্যা, বাড়ছে আবাসনের চাহিদা, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে এমন একটি পরিবেশের প্রয়োজন, যেখানে শহরের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি পাওয়া যাবে স্বস্তির জীবন।

এ বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে: ভবিষ্যতের ঢাকা কেমন হবে? শুধু নতুন নতুন ভবন তৈরি হলেই কি একটি শহর গড়ে ওঠে, নাকি শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজন আরো বড় পরিকল্পনা? এ প্রশ্নগুলোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বিশ্ব নগর দিবসে।

প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর বিশ্ব নগর বা শহর দিবস পালিত হয়। নগরায়ণের নানা দিক, শহরের সমস্যা এবং ভবিষ্যতের জন্য আরো ভালো নগর গড়ে তোলার উপায় নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে এই দিন।

ঢাকার সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা জলসিঁড়ি

রাজধানী ঢাকার আশপাশে পরিকল্পিত নগরাঞ্চল গড়ে ওঠার সম্ভাবনা এ বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গেই যুক্ত। ঢাকার মূল শহরের ওপর চাপ কমাতে এবং মানুষের আবাসনের চাহিদা পূরণে এসব এলাকার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে শুধু নতুন ঠিকানা তৈরি করলেই হবে না, সেই ঠিকানাকে ঘিরে গড়ে উঠতে হবে একটি কার্যকর ও বাসযোগ্য পরিবেশ।

এ প্রেক্ষাপটে জলসিঁড়ি ধীরে ধীরে ঢাকার নতুন নগরজীবনের একটি সম্ভাবনাময় ঠিকানা হিসেবে সামনে আসছে। পরিকল্পিত সড়ক, আধুনিক অবকাঠামো ও আবাসন উন্নয়নের সুযোগকে ঘিরে এলাকাটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রত্যাশা। যারা ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে তুলনামূলক পরিকল্পিত পরিবেশে বসবাস করতে চান, তাদের কাছে জলসিঁড়ি হতে পারে বিবেচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প।

একটি নতুন নগরাঞ্চলের বিকাশে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়। প্রথমে তৈরি হয় অবকাঠামোর ভিত্তি। এরপর বাড়তে থাকে আবাসন, মানুষের বসবাস এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে একটি কমিউনিটি, যেখানে প্রতিবেশী, পরিবার ও বিভিন্ন পেশার মানুষ মিলে তৈরি করেন নতুন সামাজিক পরিবেশ।

জলসিঁড়ির ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখতে হবে এ ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে। পরিকল্পিত অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজন হবে কার্যকর যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন। এসব বিষয় যত ভালোভাবে একসঙ্গে এগোবে, এলাকাটি তত বেশি মানুষের বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে।

জলসিঁড়িতে শেল্‌টেক্‌-এর ২১টি আবাসন প্রকল্প

ঢাকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের নগর পরিকল্পনার ওপর। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে আবাসনের পাশাপাশি প্রয়োজন পরিকল্পিত সড়ক, সবুজ উন্মুক্ত স্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদনের মতো নাগরিক সুবিধা। এ সমন্বিত ভাবনা সামনে রেখে ঢাকার পূর্ব প্রান্তে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প, যা একটি আধুনিক স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রায় ২ হাজার ১৩৩ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পটি ১৭টি সেক্টরে বিভক্ত। প্ল্যান অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রায় ৪৮ শতাংশ এলাকা উন্মুক্ত স্থানের জন্য রাখা হয়েছে। রয়েছে পরিকল্পিত সড়ক নেটওয়ার্কের পাশাপাশি লেক, গলফ কোর্স, পার্ক, হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক। জলসিঁড়িতে এরই মধ্যে রয়েছে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শাখাসহ মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উন্নত চিকিৎসাসেবা ও বিনোদন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে জলসিঁড়ির লক্ষ্য শুধু আবাসন নির্মাণ নয়; বরং উন্মুক্ত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত নগরজীবন গড়ে তোলা।

এ পরিকল্পিত নগরায়ণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলসিঁড়িতে পরিবেশসচেতন নকশা ও প্রকৃতিবান্ধব নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে শেল্‌টেক্‌। জলসিঁড়ির ১২, ১৩, ১৬ ও ১৭ নম্বর সেক্টরে প্রতিষ্ঠানটির ২১টিরও বেশি আবাসন প্রকল্প রয়েছে। সব মিলিয়ে জলসিঁড়িতে শেল্‌টেক্‌-এর অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা ১৬০-এরও বেশি।

জলসিঁড়িতে শেল্‌টেক্‌-এর অ্যাপার্টমেন্টগুলোর আয়তন সাধারণত ২ হাজার ৬৮০ থেকে ২ হাজার ৮০০+ বর্গফুটের মধ্যে। সিঙ্গেল ইউনিটের এসব অ্যাপার্টমেন্টে বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রকল্পভেদে নান্দনিক লাউঞ্জ, রিসেপশন, কমিউনিটি হল, ছাদবাগান, ছাদে বসার জায়গা ও জেন গার্ডেনের মতো সুবিধাও রয়েছে। আধুনিক স্থাপত্য ও ব্যবহারিক নকশার সমন্বয়ে এসব আবাসন নান্দনিকতার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনের চাহিদা পূরণেও গুরুত্ব দেয়। শেল্‌টেক্‌-এর এসব প্রকল্পের নকশায় দেশের স্বনামধন্য আর্কিটেকচার ফার্মগুলোর দক্ষতাও প্রতিফলিত হয়েছে। প্রকল্পভেদে Volumezero Ltd., DWm4, Binyash Green Tree-এর মতো প্রতিষ্ঠিত আর্কিটেকচার ফার্মের সম্পৃক্ততা স্থাপত্য পরিকল্পনা, নান্দনিকতা ও ব্যবহারিক নকশার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

একটি আবাসন প্রকল্পের মূল্য শুধু ভবনের নকশা বা নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতা এবং আশপাশের নগর পরিবেশ। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করে এবং আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানসম্মত আবাসন গড়ে তোলাই শেল্‌টেক্‌-এর অন্যতম লক্ষ্য। তাই জলসিঁড়ির মতো পরিকল্পিত স্মার্ট সিটিতে আবাসন বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে শেল্‌টেক্‌ হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। বাড়ির প্রতিটি জায়গার কার্যকর ব্যবহার, পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী নকশা এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনের পরিবেশও এর অংশ। শেল্‌টেক্‌-এর জলসিঁড়ি প্রকল্পগুলোতে আধুনিক আবাসনের এসব দিক সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজের প্রয়োজন ও পছন্দের সঙ্গে মানানসই অ্যাপার্টমেন্ট বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

জলসিঁড়িতে শেল্‌টেক্‌-এর আবাসন প্রকল্পগুলো সরজমিনে দেখতে এবং প্রতিটি প্রকল্পের নকশা, অবস্থান ও অ্যাপার্টমেন্টের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহীরা জলসিঁড়ি আবাসন পরিদর্শন করতে পারেন। নিজের পরিবারের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই বাড়ি বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রকল্প ঘুরে দেখা হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিস্তারিত জানতে বা প্রকল্প পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে যোগাযোগ করুন শেল্‌টেক্‌-এর হটলাইন ১৬৫৫০-এ।

বিশ্ব নগর দিবসের প্রেক্ষাপটে জলসিঁড়ির বিকাশ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আগামীর শহর গড়ে তুলতে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও মানসম্মত আবাসনকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। আর সেই যাত্রায় আধুনিক আবাসন প্রকল্পের ভূমিকা হবে মানুষের জন্য আরো উন্নত ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরি করা।

et