প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প খাতের নতুন গন্তব্য হিসেবে একটি প্রতিযোগিতামূলক, নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক অংশীদার হতে পারে।

আজ বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে সকালে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে চীনের ৮০টি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, সরকারের নীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা, প্রত্যাশা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে এবং ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যেই নতুন লাইসেন্স দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, চীনে রাষ্ট্রীয় সফরকালে বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনা ও উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

মাহদী আমিন বলেন, চীনা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরো কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।

তারেক রহমানের সঙ্গে আজ চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবেলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়। চীনা মন্ত্রী এ খাতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মাহদী আমিন জানান, আজ স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হবে। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন।

এর পর আগামীকাল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ঐতিহাসিক গ্রেট হলে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।