গতবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ১০ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৭ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক। যদিও এবার প্রথম ইনিংস পর্যন্ত এখনো নিষ্প্রভ এ গতিদানব। গতকাল আহমেদাবাদে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় অজিরা। ওই ম্যাচের আগ পর্যন্ত ৬ ম্যাচে তার শিকার ৪৩.২৮ গড়ে ৭ উইকেট, যা তার নামের সঙ্গে সত্যিই বেমানান। সেরা বোলিং ফিগার ২/৪৩।

স্টার্ক না পারলেও পারছেন তার স্বদেশী অ্যাডাম জাম্পা। ৩১ বছর বয়সী এ লেগস্পিনার গতকাল পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে টেবিলের এক নম্বরে ছিলেন। ৭ ম্যাচে সমান ১৮ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শ্রীলংকার পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা। গতকালই তাকে টপকে শীর্ষে উঠে যান জাম্পা। 

এ দুজনের পরই দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেন, পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি, ভারতের জসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ শামি, দক্ষিণ আফ্রিকার জেরাল্ড কোয়েৎজি, নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার, পাকিস্তানের হারিস রউফ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা।

চমক দেখাচ্ছেন ভারতের পেসার শামি। তিনি মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেই ১৪ উইকেট শিকার করে ঢুকে পড়েছেন শীর্ষ দশে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মুম্বাইতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৮ রানে ৫ উইকেট শিকার করে ভারতকে ৩০২ রানের বিশাল জয় এনে দিতে রাখেন অগ্রণী ভূমিকা। এ গতিতে ছুটলে তিনি যে টুর্নামেন্ট শেষে শীর্ষ উইকেট শিকারি বোলার হবেন, তা চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায়। শ্রীলংকা ম্যাচেই ৫ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের মালিক হয়েছেন। এ পথে তিনি টপকে যান জহির খান (৪৪) ও জাভাগাল শ্রীনাথকে (৪৪)। 

শ্রীলংকার ৩০২ রানে হারের ম্যাচে কীর্তি গড়েছেন মাদুশঙ্কা। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তার ৮০ রানে ৫ উইকেটই সেরা বোলিং ফিগার। যদিও বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৫ উইকেটশিকারিদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি রান খরচ করেছেন এবং ওয়ানডেতে যা পাঁচ উইকেটশিকারিদের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যয়বহুল বোলিংয়ের নজির। 

এবারের বিশ্বকাপে ব্যাটিংয়ে সবার শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক। ‌এ বিশ্বকাপ খেলেই অবসর নেবেন ডি কক। শেষ বিশ্বকাপটা তিনি দারুণভাবে রাঙাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরিতে ৫৪৫ রান করে চার্টের শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। ১১২.৬০ স্ট্রাইক রেট ও ৭৭.৮৫ গড়ে রান করেছেন এ বামহাতি ওপেনিং ব্যাটার। ৫৪টি বাউন্ডারি ও ১৮টি ছক্কা মেরেছেন ডি কক। আজ ভারতের বিপক্ষেও ছন্দ খুঁজে পেলে নিজেদের অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাবেন তিনি। 

শুধু রানেই নয়, সেঞ্চুরিতেও শীর্ষে ডি কক। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র। ডি ককের চেয়ে একটি সেঞ্চুরি দূরে তিনি। তৃতীয় সর্বোচ্চ দুটি সেঞ্চুরি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফন ডার ডুসেন ও অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার। ৪৪২ রান করে চার্টের তিনে থাকা ভারতের বিরাট কোহলি একটি সেঞ্চুরি ও চারটি ফিফটি করেছেন। তিনি আরো অন্তত তিনবার সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েছেন। আর এক রান করলেই গতবার করা নিজের রান ছুঁয়ে ফেলবেন কোহলি। এদিন, ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো এক পঞ্জিকাবর্ষে এক হাজার রান করলেন কোহলি, যা ইতিহাসে আর কারো নেই। 

এদিকে, ডি কক আরেকটি সেঞ্চুরি করলে ছুঁয়ে ফেলবেন রোহিত শর্মার কীর্তি। এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরির কীর্তি আছে রোহিতের। গত আসরে তিনি এ কীর্তি গড়েন। এবার রোহিত একটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি নিয়ে ৪০২ রান করে আছেন তালিকার পাঁচ নম্বরে। 

৩৬৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম আছেন ছয় নম্বরে। শীর্ষ ছয়ে দুজন করে ভারতীয় ও প্রোটিয়া। আজ এ দুই দলের লড়াই হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে। এ ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই হবে দুই দলের ব্যাটারদের মধ্যেও। তারা একে অপরকে ছাড়িয়ে যেতে চাইবেন আজ। 

রানে মার্করামের পর আছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩৫৯), দক্ষিণ আফ্রিকার ফন ডার ডুসেন (৩৫৩), নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল (৩৭৫), পাকিস্তানের আব্দুল্লাহ শফিক (৩৩৬), শ্রীলংকার সাদিরা সামারাবিক্রমা (৩৩১) ও দক্ষিণ আফ্রিকার হাইনরিখ ক্লাসেন (৩১৫)। 

এবার বোলিং কিংবা ব্যাটিং কোনোটিরই শীর্ষ দশের মধ্যে নেই বাংলাদেশের কেউ। গতবার ৮ ইনিংসে ৬০৬ রান করে সাকিব আল হাসান ছিলেন তিন নম্বরে। বোলিংয়েও তিনি নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। আবার উইকেট শিকারের চার্টে যুগ্মভাবে তিনে ছিলেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি ৮ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২০ উইকেট। এবার ৭ ম্যাচে ৯ উইকেটশিকারি মেহেদী হাসান মিরাজই বল হাতে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। আর ব্যাট হাতে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার মাহমুদউল্লাহ। শীর্ষ দশে না থাকলেও ৬ ম্যাচে ৬৮.৫০ গড়ে ২৭৪ রান করেছেন তিনি। একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি করেছেন এ ডানহাতি ব্যাটার।