গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়েই আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শুরু হলো ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। লর্ডসের ফাইনাল, আহমেদাবাদ দুই ম্যাচেই টস জিতেছে নিউজিল্যান্ড। দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক, সিদ্ধান্ত দুটোই বদলেছে। এবার কিউই অধিনায়ক টম লাথাম টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ম্যাচে কিউই একাদশে আছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্র। তার জন্মের পর ভারতের সাবেক তারকা রাহুল দ্রাবিড় ও শচিন টেন্ডুলকারের নামের সঙ্গে মিল রেখেই ক্রিকেট পাগল রবি কৃষ্ণমূর্তি ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘রাচিন’। 

তার এ নামের এ রহস্য নিয়ে কথা বলতেই তিনি হেসে গণমাধ্যমকে জানান, রাহুলের প্রথম দুই অক্ষর ‘আর’ ও ‘এ’ এবং শচীনের শেষ চার অক্ষর ‘সি’, ‘এইচ’, ‘আই’, ‘এন’ মিলিয়ে আমার নাম রাখা হয়েছে। অর্থাৎ রাহুলে ‘‌রা’‌, আর শচিনের ‘‌চিন’‌ থেকে রাচিন নাম রেখে বাবা। তিনি দুজনেরই অনেক বড় ভক্ত। ক্রিকেটার এবং মানুষ হিসেবেও। 

রাচিনের বাবা রবি কৃষ্ণমূর্তির আদি বাড়ি বেঙ্গালুরুতে।এখানেই বড় হয়েছেন। তারপর চলে যান ইংল্যান্ডে। কয়েকবছর সেখানে কাটিয়ে পাকাপাকিভাবে চলে যান নিউজিল্যান্ডে। ওয়েলিংটনে বসবাস শুরু করেন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার রবি কৃষ্ণমূর্তি। সেখানেই জন্ম রাচিনের। একসময় বেঙ্গালুরুতে ক্রিকেট খেলতেন রবি কৃষ্ণমূর্তি। মেয়েকে ক্রিকেটার করতে চেয়েছিলেন। মেয়ের ক্রিকেটের প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ছেলে রাচিনের ক্রিকেটের প্রতি দারুণ আগ্রহ ছিল। ছেলেকে ক্রিকেটার করবেন বলে উঠেপড়ে লেগে যান রবি কৃষ্ণমূর্তি। ওয়েলিংটনে ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করে দেন। এমনকি ওয়েলিংটন থেকে মাঝেমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর স্পোর্টস ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসতেন। গত ৪ বছর ধরে হ্যাট হকসের হয়ে অনন্তপুরে ক্রিকেটের পাঠ নিতে আসতেন রাচিন। 

ভারতে আসা নিয়ে রাচিন জানান, ছোটকালে কয়েকবার ভারতে আমার দাদা-দাদি, কাজিনদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমার জন্য সেসব খুবই সুন্দর মুহূর্ত ছিল। আশা করি, বিশ্বকাপের সময় আবার ওদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাব। একই সঙ্গে বাবা মায়ের দেশ ভারতে খেলা রোমাঞ্চকর বলে মত তার।

ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তার। দলের তার ভূমিকা নিয়ে রাচিন বলেন, শেষ দিকে ঝড়ো ৩০-৪০ রান কিংবা বল হাতে একটি জুটি ভাঙার কাজ করতে হবে আমাকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জন্য নিজের করণীয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো করার পথে এটা সবচেয়ে বড় সহায়ক।