ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার দিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু হলো বাংলাদেশের। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) শ্রীলংকার পাল্লেকেলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে সাকিব আল হাসানের দল। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২.৪ ওভারে মাত্র ১৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর (১২২ বলে ৮৯) লড়াকু ইনিংসের পরও সংগ্রহটা দুশর নিচেই থাকে। জবাবে ৫ উইকেট ও ৬৬ বল বাকি থাকতে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সিংহলিজরা।

 

ছোট পুঁজি নিয়েও লড়াই করে বাংলাদেশের বোলাররা। গতি বোলার তাসকিন আহমেদ তৃতীয় ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করলেন বাঁহাতি ওপেনার দিমুথ কারুনারত্নেকে। এরপর বামহাতি পেসার শরিফুলের আঘাতে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা। চতুর্থ ওভারে অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল মারতে গেলে নিশাঙ্কার ব্যাটের বাইরের কানায় লাগে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার মুশফিকুর (১৫/২)।

দুই ওপেনারকে হারিয়ে লংকানরা যখন জুটি গড়ার চেষ্টা করছিল তখন আঘাত হানেন বাংলাদেশ দলনায়ক সাকিব। তিনি বোল্ড করেন কুশল মেন্ডিসকে। ৪৩ রানে লংকানদের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটলে আশা জাগে বাংলাদেশের। যদিও এরপর সাদিরা সামারাবিক্রমা ও চারিথ আসালঙ্কার জমাট এক জুটিতে আশাভঙ্গ হয় টাইগারদের।

 

চতুর্থ উইকেটে তাদের ৭৮ রানের জুটিতে ম্যাচ হেলে পড়ে লংকানদের দিকে। স্বাগতিকরা যখন জয় থেকে মাত্র ৪৪ রান দূরে তখন মেহেদী হাসানের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে যান সামারাবিক্রমা (৭৭ বলে ৫৪)। পরের ওভারে ধনঞ্জয়াকে (৭ বলে ২) বোল্ড করেন সাকিব (১২৮/৫)। যদিও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্যটা যে মাত্র ১৬৫। আসালঙ্কার ব্যাটে (৯২ বলে ৬২*) ভর করে কাঙ্খিত জয় তুলে নেয় সিংহলিজরা।   

 

এই ম্যাচে অভিষেক ঘটে বাংলাদেশ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। যদিও অভিষেক রাঙানো হলো না তার। মাত্র দুই বল মোকাবেলা করে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। বিপর্যয়েরও সেই শুরু।

 

এরপর দলীয় ৯৫ রানের মধ্যে আউট হয়েছেন নাঈম শেখ (১৬), সাকিব আল হাসান (৫) ও তৌহিদ হৃদয় (২০)। শান্ত ও হৃদয় ৮০ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন। এরপর দলকে টানেন শান্ত ও মুশফিক। ইন-ফর্ম শান্ত চাপের মধ্যে ব্যাটিং করে ৬৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। এরপরও নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ছিল, আর শান্ত দলকে টানছিলেন। একটি সময় মহিশ থিকসানা বলে হার মানতে হয় তাকে।বোল্ড হন এই বামহাতি ব্যাটার। আউট হওয়ার আগে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ১২২ বলে খেলেন ৮৯ রানের ইনিংস। যদিও দলের হারে বিফলেই যায় শান্তর লড়াই।