ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে চাপ। ১-১ ড্র নিয়ে ব্রেন্টফোর্ড থেকে ফিরতেই আবারো পুরনো প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে সামনে—আর্সেনাল কি আবারো মৌসুমের শেষভাগে পা হড়কাবে?
তবু হিসাব বলছে, লিগের সবার ওপরে অবস্থান করছে মিকেল আর্তেতার দল। চার পয়েন্টের লিড, পুরো মৌসুমে মাত্র তিনটি হার। কাগজে-কলমে অবস্থান নিঃসন্দেহে সেরা। কিন্তু যেহেতু পেছনে ধাওয়া করছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার, আর লিগের শেষভাগে গার্দিওলার দল যেভাবে পয়েন্ট হারাতেই ভুলে যায়, সেখানে হয়তো এখন আর্তেতার দলকে তাড়া করছে বিগত মৌসুমগুলোর পরিসংখ্যান। গত তিন মৌসুমই দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করেছে আর্সেনাল। একবার লিভারপুল ও দুবার ম্যানসিটিকে পেছনে থেকে সামনে এসে শিরোপা উৎসব করতে দেখেছে গানার শিবির। নিজেরা পয়েন্ট হারানোর খেসারত দিয়েছে বারবার। এবার চার পয়েন্টের ব্যবধানও তাই এমিরেটসের অনেকের কাছেই নিরাপদ মনে হচ্ছে না।
ব্রেন্টফোর্ডকে হারাতে পারলে ব্যবধান হতো ছয়, আর পরের সপ্তাহে উলভসকে হারাতে পারলে সেই ব্যবধান যেত নয় পয়েন্টে। তাতে ম্যানচেস্টার সিটির পরবর্তী ম্যাচের আগেই বিশাল চাপ তৈরি করা যেত। বরং হয়েছে উল্টোটা—লিভারপুলের বিপক্ষে এরলিং হাল্যান্ডের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে সিটির জয় এবং পরের ম্যাচে ফুলহ্যামকে হারানোয় ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র তিনে।
আরো একটি অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান সামনে এসেছে—পাঁচ মৌসুমের মধ্যে মাত্র একবারই শেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে ১০টি জিততে পেরেছে আর্সেনাল। সেই সময়গুলোয় শিরোপাজয়ী দলের তুলনায় শেষ ১২ ম্যাচে কখনই আর্সেনাল বেশি পয়েন্ট পায়নি। শিরোপা লড়াইয়ের চাপ তাই ইতিহাসের মতোই এবারো ‘মনের মধ্যে তাড়া করে’ ফিরছে।
আর্তেতাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো তার দল কি চাপ সামলাতে পারবে? তিনি স্পষ্ট বললেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ জেতার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামি। দলগত ও ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের পারফরম্যান্সকে আরো উঁচুতে তুলতেই হবে।’ কোচের এ কথায় আত্মবিশ্বাস থাকলেও আর্সেনাল সমর্থকদের মনে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
ব্রেন্টফোর্ড ম্যাচে অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি ডিফেন্সের অন্যতম স্তম্ভ উইলিয়াম স্যালিবা। গত দুই মৌসুমে স্যালিবার থাকা বা না থাকার পার্থক্যই বলছে, তিনি আর্সেনালের ব্যাকলাইনের হৃৎস্পন্দন। তার সঙ্গে গ্যাব্রিয়েলের জুটি লিগের অন্যতম সেরা।
এছাড়া দীর্ঘদিনের হাঁটুর চোট থেকে ফিরেই আবার মাংসপেশির সমস্যায় পড়েছেন কাই হ্যাভার্টজ। এ অবস্থায় আর্তেতা ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরুর একাদশে নামাতে বাধ্য হন ভিক্টর গিয়োকেরেস ও পিয়েরো হিনক্যাপিকে। কিন্তু আর্সেনালের গত সাত ম্যাচে যেখানে চার বা তার বেশি পরিবর্তন এসেছে, সেখানে জয় মিলেছে মাত্র দুই ম্যাচে। অর্থাৎ আর্তেতার প্ল্যান ‘এ’র মতো ফল আনতে পারছে না বিকল্প পরিকল্পনাগুলো।
আর্সেনালের সাবেক তারকা কার্টিন কেউন টিএনটি স্পোর্টসকে বলেন, ‘মানুষ আমাকে বলছিল, ম্যান সিটি আসছে তোমাদের পেছনে। তবু দিনের শেষে আর্সেনাল চার পয়েন্ট এগিয়ে। লড়াইটা হচ্ছে কে শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে পারে।’
এদিকে পিটার ক্রাউচ মনে করেন, মানসিক চাপই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার জায়গা। তার ভাষায়, ‘শিরোপা দৌড়ে ম্যান সিটির সাম্প্রতিক ইতিহাসই ভয় ধরায়। শেষ মুহূর্তে নার্ভের চাপ থাকতেই পারে। তবু আর্সেনালের চেয়ে ভালো অবস্থানে আর কে আছে? এখনই আর্সেনালের সেরা সুযোগ। সিটি আগের মতো ভয়ংকর নয়, লিভারপুল নয়, ম্যানইউ নয়, চেলসিও নয়। শীর্ষ দলগুলোর মান কমেছে। এবারো যদি না পারে, প্রশ্ন উঠবেই।’
সমর্থকদের আশা,–উদ্বেগ, অতীতের ক্ষতচিহ্ন ও বর্তমানের চাপ—সব মিলিয়ে আর্সেনালের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুরু হচ্ছে এখন থেকে। লিগের বাকি ১২ ম্যাচ নির্ধারণ করবে আর্তেতার দল ইতিহাস পাল্টাতে পারবে, নাকি আবারো সামনে এসে দাঁড়াবে শেষ মুহূর্তে সব হারানোর ভূত।
বুধবার প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের মাঠে খেলবে আর্সেনাল। ২২ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিপক্ষ টটেনহ্যাম। ২১ ফেব্রুয়ারি ম্যানসিটি ঘরের মাঠে খেলবে নিউক্যাসলের বিপক্ষে।










