ধর্মশালায় আজ বিশ্বকাপ ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সামনে অগ্নিপরীক্ষায় পড়ে বাংলাদেশ। টস জিতে বোলিং নেয়া বাংলাদেশের বোলারদের পিষ্ট করে ৪০ ওভারে ইংলিশ তুলে নেয় ৩ উইকেটে ২৯৮ রান। যদিও শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলাররা দারুণ জবাব দিলে ৯ উইকেটে ৩৬৪ রানে থামে ইংলিশরা।

ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে ভালো সূচনা এনে দেন জনি বেয়ারস্টো ও মালান। ৫৯ বলে ৫২ রান করে সাকিব আল হাসানের বলে বোল্ড হন বেয়ারস্টো। এরপরও রানের গতি কমেনি ইংলিশদের। বরং ভালো সূচনা পেয়ে ওপর দাঁড়িয়ে সংগ্রহটা বড় করেন মালান ও রুট।

মালান মাত্র ৯১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে এগোচ্ছিলেন ডাবলের দিকে। যদিও শেখ মেহেদী হাসান ৩৮তম ওভারে তাকে বোল্ড করেন। ১০৭ বলে ১৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন মালান। সাবেক অধিনায়ক জো রুটকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৭ বলে ১৫১ রানের জুটিতে দলের রান আড়াইশ পার করেন তিনি। এরপর অধিনায়ক জস বাটলার ১০ বলে ২০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শরিফুল ইসলামের শিকার হন। ইন সাইড এজ হয়ে বোল্ড বাটলার।  

এরপর শরিফুল ও মেহেদী হাসানের পেস ও স্পিনের সাঁড়াশি আক্রমণে বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংলিশরা। শেষ ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা ৬৬ রান তুলতে পেরেছে। ৪০ ওভারে রান তোলার যে গতি ছিল তাতে ধরে নেয়া হচ্ছিল, তাদের সংগ্রহ চারশ ছাড়িয়ে যাবে।

মেহেদী হাসান ৭১ রানে চারটি ও শরিফুল ৭৫ রানে তিনটি উইকেট নেন। সাকিব ও তাসকিন আহমেদের শিকার একটি করে উইকেট।

এ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহকে বাদ দিয়ে স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসানকে দলভুক্ত করেছে বাংলাদেশ। ইংলিশরা মঈন আলীক বসিয়ে জায়গা করে দিয়েছে পেস বোলার রিস টপলিকে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সমানে সমান। এখন পর্যন্ত চারবারের মোকাবেলায় বাংলাদেশ দুবার ও ইংল্যান্ড দুবার জিতেছে।

বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখা ২০০৭ সালে। সেবার বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারায় ইংলিশরা। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে হারায় টাইগাররা। বাংলাদেশের ঘূর্ণি বলের মুখে ২২৫ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পরে ইমরুল কায়েস, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ব্যাট ভর করে জয় পায় বাংলাদেশ।

২০১৫ সালে অ্যাডিলেডে মাহমুদউল্লাহর বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন দল। সেবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। আর টাইগারদের কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংলিশরা।

চার বছর আগে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনসে বাংলাদেশকে ১০৬ রানে হারিয়ে দেয় ইংল্যান্ড। জেসন রয়ের ১৫৩ রানের ভর করে ৩৮৬ রানের সৌধ গড়ে স্বাগতিকরা। জবাবে সাকিব আল হাসানের ১২১ রানের ক্ল্যাসিক ইনিংসও জেতাতে পারেনি বাংলাদেশকে। ইংলিশরা ওই আসরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়, আর বাংলাদেশ রাউন্ড রবিন লিগ পর্ব থেকে বিদায় নেয়।

এবারের আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুভসূচনা পেয়েছে সাকিবের দল। বিপরীতে ইংলিশরা হেরেছে নিউজিল্যান্ডের কাছে।