নভেল করোনাভাইরাসমহামারীর কবলে পড়ে মার্চের মাঝামাঝিতেই একে একে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের খেলাধুলা। শুরুতে দর্শকবিহীন মাঠে ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করলেও, পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো। তখন থেকেই ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা। এমনকি অনেক ক্লাব খেলোয়াড়দের বেতনও কমিয়ে দেয়। বার্সেলোনা এবং বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, আগামী কয়েক মৌসুমের দল বদলে তাদের পক্ষে বড় অংকের অর্থ খরচ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এরপরও দলবদলে অর্থ ছিটানো বন্ধ হয়নি। ট্রান্সফার উইন্ডো এখনো বন্ধ না হলেও খরচ হয়ে গেছে সবমিলিয়ে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড। যেখানে একাই ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। শেষ পর্যন্ত এটি যে বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।
প্রথমে মহামারীর কারণে বন্ধ এবং পরে দর্শকবিহীন মাঠে ম্যাচ আয়োজন, সবমিলিয়ে ধস নেমেছিল ক্লাবগুলোর আয়ে। যদিও দলবদলে সে প্রভাব খুব সামান্যই দেখা গেছে। ট্রান্সফারমার্কেট.সিও.ইউকের ওয়েবসাইটের হিসাব অনুযায়ী, ২৭ জুলাই থেকে দলবদল শুরু হওয়ার পর ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলো খরচ করেছে ১ দশমিক ০৩ বিলিয়ন পাউন্ড। ইংল্যান্ডের দলবদল এমন গতি পাওয়ার পেছনে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে চেলসির দলবদলে ফিরে আসা।
অবশ্য এমন না যে, পরিসংখ্যান এখানেই থেমে যাবে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দলবদলের সময় হাতে আছে। এর মাঝে নিশ্চিতভাবে আরো কিছু দলবদল দেখা যাবে। গত কয়েকদিনে বেশ কিছু বড় অংকের দলবদল দেখা গেছে। যেখানে গোলরক্ষক এডোয়ার্ড মেন্ডিকে দলে টানার জন্য চেলসি খরচ করেছে ২২ মিলিয়ন পাউন্ড, জার্মান মিডফিল্ডার কাই হাভের্ৎজের জন্য তারা খরচ করেছে ৭২ মিলিয়ন পাউন্ড। দলবদলে ব্যস্ত সময় পার করেছে ম্যানচেস্টার সিটিও। দলে নতুন রিক্রুট ফেরান টরেসের জন্য তারা খচর করেছে ২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড, নাথান একের জন্য দিয়েছে ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড। পাশাপাশি তারা বেনফিকা থেকে ৬২ মিলিয়ন পাউন্ডে এনেছে রুবিন ডায়াসকে। ফলে পেপ গার্দিওলা সিটিতে আসার পর ২০১৬ সাল থেকে কেবল ডিফেন্ডারদের পেছনেই খরচ করেছেন ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড।
এত খরচের পরও খুব স্বাভাবিভাবেই দলবদলের খরচে গত মৌসুমের তুলনায় বেশ পিছিয়েই থাকবে ইউরোপের ক্লাবগুলো। গত গ্রীষ্মে ইউরোপের ক্লাবগুলো খেলোয়াড় কেনাবেচায় খরচ করেছে ৫ বিলিয়ন পাউন্ড। যার ১ দশমিক ৪ বিলিয়নই এসেছিল প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো থেকে।
এদিকে প্রিমিয়ার লিগের দলবদলে বড় অংক যোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছেন জাদোন সানচো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাকে প্রিমিয়ার লিগে ফেরানোর জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সানচো নিজেও আগ্রহী ফেরার ব্যাপারে। এখন কেবল বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে টাকা পয়সায় মেলার অপেক্ষা। তবে কোন কোন ক্লাব খেলোয়াড় না কেনার ব্যাপারে বেশ অটল। এই তো কদিন আগেই রিয়াল মাদ্রিদ বস জিনেদিন জিদান চলতি দলবদলে খেলোয়াড় কেনার সম্ভাবনায় দাড়ি টেনে দিয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, মার্কা










