আগামী ৫ অক্টোবর
ভারতে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে
ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার লড়াই দিয়ে পর্দা উঠছে এবারের আসরের। আরেকটি
বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন করে স্বপ্ন বুঁনছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে
বৈশ্বিক আসরে এখনো সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারেনি বাংলাদেশ দল। সর্বশেষ চারটি
আসরে তিনটি করে ম্যাচ জিতেছে টাইগাররা। বৈশ্বিক আসরে তারা মাত্র একবারই নকআউট পর্বে
খেলেছে, যা ক্রিকেট-পাগল দেশটির জন্য হতাশাজনক রেকর্ডই।
২০১৯ সালের
বিশ্বকাপে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানকে হারালেও নিজেরা
হেরেছে বাকি পাঁচ ম্যাচে। এবার ভারতের মাটিতে কতদূর যাবে সাকিব আল হাসানের দল?
বাংলাদেশ দলের
বর্তমান ফর্ম ওঠা-নামার মধ্যে রয়েছে। এশিয়া কাপে সুপার ফোর পর্বে খেলে। যেখানে শেষ
ম্যাচে ভারতকে হারায় সাকিবের দল। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে পরীক্ষা
নিরীক্ষা করতে গিয়ে ২-০তে সিরিজ হেরে বসে স্বাগতিকরা। ওই সিরিজে মোট ১৮ জন খেলেছেন
বাংলাদেশের হয়ে, আর দলকে নেতৃত্ব দেন প্রথমে লিটন দাস ও পরে নাজমুল হোসেন শান্ত।
চোট তো লেগেই
আছে দলের সঙ্গে। হাঁটুর চোটে পড়েন পেস বোলার এবাদত হোসেন, তামিম ইকবাল দীর্ঘদিন
ধরে পিঠের চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন। মাঝেমধ্যে হ্যামস্ট্রিং ভোগায় মেহেদী হাসান
মিরাজকে।
এই পরিস্থিতিতে
২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এই দল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা
তুঙ্গে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে রাখা হয়নি দলে। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কে দেশের
ক্রিকেটাঙ্গন এখন সরগরম। তামিম ভক্তরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, আবার কেউবা তাকে বাদ
দেয়ার পক্ষে কথা বলছেন। যদিও এসব পেছনে ফেলে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে পৌঁছে
গেছে ভারতে। এরই মধ্যে গুয়াহাটিতে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে তারা ৭ উইকেটে হারিয়ে
দিয়েছে শ্রীলংকাকে। আগামীকাল একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ার্মআপ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ
ইংল্যান্ড।
তামিম না থাকলেও
বাংলাদেশ স্কোয়াডে আছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং অনূর্ধ্ব-১৯
বিশ্বকাপজয়ী দলের চার সদস্য তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম, তানজিম হাসান সাকিব
ও শরিফুল ইসলাম।
এবারও বাংলাদেশ
দলের কাণ্ডারি হতে পারেন অধিনায়ক সাকিব। তিনি ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—এই তিন
বিভাগে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পাশাপাশি দলকে নেতৃত্ব মতো কঠিন কাজটিও করতে হবে।
২০১৯ সালের
বিশ্বকাপে ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রান করেন সাকিব। বাংলাদেশ মাত্র তিনটি ম্যাচ জিতে রাউন্ড
রবিন লিগ থেকে বিদায় নিলেও আসরটি সাকিবের জন্য অবিস্মরণীয়। যদিও সতীর্থদের কাছ
থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা তিনি পাননি।
গত আগস্টে তামিম
পদত্যাগ করার পর ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পান সাকিব। টেস্ট ও টি২০ অধিনায়ক আগে থেকেই
ছিলেন। এখন তিন ফরম্যাটে তিনি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। ভারতীয় কন্ডিশনে তার ১০ ওভার
বোলিংয়ের পাশাপাশি ৪ নম্বরে ব্যাটিংটা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দলের আরেক জ্যেষ্ঠ
সদস্য মুশফিকুর এবার ব্যাটিংয়ে অন্যতম ভরসা। এ বছর তিনি দারুণ ফর্মে আছেন।
বোলিংয়ে গত কয়েক
বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাসকিন আহমেদ এবং এই আসরেও দলের পেস অ্যাটাকে তিনিই
থাকবেন নেতা।
হৃদয়, তানজিদ ও
তানজিম তাদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন। সাদা বলে সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে সবচেয়ে বেশি
আলো ছড়িয়েছেন পেস বোলার শরিফুল ও ব্যাটার হৃদয়। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে
নিজের প্রথম বছরেই ৫০০ রান করার কৃতিত্ব দেখান হৃদয়। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও আলো
ছড়ানোর অপেক্ষায় তিনি।
এটা সাকিব,
মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর শেষ বিশ্বকাপ আসর। সাকিব এরই মধ্যে অবসরের পরিকল্পনার কথা
জানিয়েছেন। যদিও মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ কোনো ঘোষণা এখনো দেননি। তবে এটাই তাদের শেষ
বিশ্বকাপ, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। তিনজনের মধ্যে সাকিবই তিন ফরম্যাটে এখনো খেলে
যাচ্ছেন।










