ভারতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ১৬ জন আম্পায়ারের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। তাদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। এই প্রথম বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের কোনো আম্পায়ার। 

সাবেক বাঁহাতি স্পিনার সৈকত বাংলাদেশের আম্পায়ারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯টি টেস্ট, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২টি ওয়ানডে ও সর্বোচ্চ ৪৩টি টি২০ ম্যাচ অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে পরিচালনা করেছেন। এবার তার ক্যারিয়ারে দারুণ এক মাইলফলক যুক্ত হতে চলেছে। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আম্পায়ার হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে চলেছেন। 

ওয়ানডে ও টি২০ মিলিয়ে এ প্রথম বিশ্বকাপে আম্পায়ার হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের কেউ। 

লিগ পর্বের জন্য আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিসহ মোট ২০ জন অফিশিয়ালের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। ১৬ আম্পায়ারের মধ্যে ১২ জন আইসিসির এমিরেটস এলিট প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত। তারা হলেন ক্রিস্টোফার গ্যাফানি (নিউজিল্যান্ড), কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলংকা), মারাইস এরাসমাস (দক্ষিণ আফ্রিকা), মাইকেল গফ (ইংল্যান্ড), নিতিন মেনন (ভারত), পল রাইফেল (অস্ট্রেলিয়া), রিচার্ড ইলিংওর্থ (ইংল্যান্ড), রিচার্ড কেটলবরো (ইংল্যান্ড), রডনি টাকার (অস্ট্রেলিয়া), জোয়েল উইলসন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), আহসান রাজা (পাকিস্তান) ও আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক (দক্ষিণ আফ্রিকা)। বাকি চারজন হলেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, অস্ট্রেলিয়ার পল উইলসন, ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হোয়ার্ফ ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিস ব্রাউন। 

এ আম্পায়ারদের মধ্যে তিনজন ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তারা হলেন ধর্মসেনা, এরাসমাস ও টাকার। ওই ম্যাচ পরিচালনাকারীদের মধ্যে শুধু নেই আলিম দার, যিনি এ বছর মার্চে এলিট প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ান। 

আইসিসির এলিট প্যানেল ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিউজিল্যান্ডের জেফ ক্রো, জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি পাইক্রফট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিচি রিচার্ডসন ও ভারতের জাভাগাল শ্রীনাথ। এ চারজনই সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।  

৫ অক্টোবর আহমেদাবাদে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন মেনন ও ধর্মসেনা। আর পল উইলসন থাকবেন টিভি আম্পায়ার। চতুর্থ আম্পায়ার থাকবেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা। ম্যাচ রেফারি পাইক্রফট। 

তবে সৈকতই কিন্তু আইসিসি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ অফিশিয়াল নন। এর আগেও বাংলাদেশের দুই আম্পায়ার আইসিসি বিশ্বকাপে ম্যাচ অফিশিয়াল হিসেবে পেয়েছিলেন দায়িত্ব।

১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক আসরেই বাংলাদেশের আম্পায়ার সয়লাব হোসেন টুটুল ম্যাচ অফিশিয়াল হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। রিজার্ভ আম্পায়ারও ম্যাচ অফিশিয়াল হিসেবে গণ্য। সেবার রিজার্ভ আম্পায়ার হিসেবে পাঁচটি ম্যাচে দায়িত্ব পেয়েছিলেন টুটুল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম অনফিল্ড আম্পায়ারও তিনি। ২০০১ সালে বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন তিনি। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট ম্যাচে (নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে) ফিল্ড আম্পায়ারিংয়ে ইতিহাস রচনা করা জাতীয় দলের প্রথম বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক মনি ২০১১ বিশ্বকাপে রিজার্ভ আম্পায়ার লিস্টে ছিলেন।