আগে ২০টি আসর হয়ে গেলেও এবারেরটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ এক আবেগের, বিশেষ গৌরবের। এ প্রথম এশিয়ার মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ছেলেরা ১৯৮০ সালে এশিয়া কাপে খেললেও মেয়েদের জন্য অভিজ্ঞতা এ প্রথম।

এ আসরে অংশ নিচ্ছে ১২টি দল। বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। পিটার বাটলারের দল ‘বি’ গ্রুপে খেলবে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া ও আসরের নিয়মিত মুখ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। এছাড়া ‘এ’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, সাউথ কোরিয়া, ইরান ও ফিলিপাইন এবং ‘সি’ গ্রুপে জাপান, ভারত, ভিয়েতনাম ও চাইনিজ তাইপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

আজ আসরের পর্দা উঠলেও বাংলাদেশ প্রথমবার মাঠে নামবে মঙ্গলবার। ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে পরাশক্তি চীনের। এরপর ৬ মার্চ একই মাঠে উত্তর কোরিয়া ও ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোচদের ভাবনাজুড়ে এখন চীন ম্যাচ।

সিডনির কার্লটন উপশহরের জুবলি স্টেডিয়ামে গতকাল সকালে টানা ২ ঘণ্টা অনুশীলন করে বাংলাদেশ দল। অনুশীলন শেষে মাঠের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর থেকে উঠে আসা ডিফেন্ডার শিউলি আজিম বাংলাদেশী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানকার সুযোগ-সুবিধা সব ভালো। বিশেষ করে মাঠের কথা বলব। মাঠ কতটা ভালো, বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের দেশে এমন মাঠ থাকলে হয়তো আমরা আরো ভালো প্রস্তুতি নিতে পারতাম।’ সিডনির মাঠের বিশেষত্ব কী জানতে চাইলে শিউলি বলেন, ‘এ দেশের সব মাঠই ভালো আমাদের দেশের তুলনায়।’

চীন ম্যাচকে ঘিরেই এখন সব পরিকল্পনা কোচ পিটার বাটলারের। রক্ষণভাগকে নিশ্ছিদ্র রাখা এবং পাল্টা আক্রমণে ওঠার কৌশল শেখাচ্ছেন শিষ্যদের। স্থানীয় দল ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন আফঈদা খন্দকার, ঋতুপর্ণা চাকমারা। সেই ম্যাচে হার-জিতের চেয়েও নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ।

বাংলাদেশ দলের নিয়মিত ফিজিও অসুস্থতার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারেননি। ফলে এ নিয়ে দলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। যদিও এ সংকটের সুরাহা হয়েছে। লাল-সবুজদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলিয়ান পুরুষ ফিজিও। তিনি গত তিন-চারদিন ধরে ঋতুপর্ণাদের সঙ্গে কাজ করছেন, যা ফুটবলারদের চোটমুক্ত থাকতে বড় সহায়তা দিচ্ছে বলে দলীয় কর্মকর্তাদের দাবি।

ফরওয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতি এ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের ফিজিও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। এখানে আমরা একজন নতুন ফিজিও পেয়ে গেছি, যা দারুণ ব্যাপার। তিনি পুরুষ হলেও তার সঙ্গে কাজ করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আমরা তার সঙ্গে কাজ করতে অভ্যস্ত।’

সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়েও খুশি প্রীতি। গতকাল অনুশীলন শেষে তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছি আমরা, যা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ওই ম্যাচে আমরা যে ভুলগুলো করেছি কোচ সেসব ভুল শুধরে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।’

প্রীতির মতোই দলের আরো একঝাঁক খেলোয়াড় এ প্রথম এমন বড় আসরে খেলতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রীতি বলেন, ‘এমন বড় মঞ্চে এ প্রথম খেলবে বাংলাদেশ, এটা আমাদের গৌরবের মুহূর্ত।’ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় এবার জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন এশিয়ার মঞ্চে। প্রীতি বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলছেন, ‘খেলার সুযোগ পেলে আমি নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব।’

এ আসরটি আগামী অলিম্পিক গেমস ফুটবল ও পরবর্তী নারী ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হিসেবেও কাজ করবে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। এ ম্যাচটি জিততে পারলে সরাসরি অলিম্পিকে টিকিট মিলবে! এছাড়া আসরের সেরা ছয় দলের মধ্যে থাকতে পারলে পরের বিশ্বকাপে খেলার টিকিটও পাওয়া যাবে। একের পর এক ইতিহাস গড়া ঋতুপর্ণারা কি পারবেন দেশকে অলিম্পিক কিংবা বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিয়ে যেতে?