সিলেট টেস্টে সফরকারী নিউজিল্যান্ড আজ বৃহস্পতিবার প্রথম ইনিংস শেষে ৭ রানের লিড পেলেও দিনশেষে সংহত অবস্থানে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে টানা দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ১৩তম ওভারে আজাজ প্যাটেলের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন জাকির হাসান। টিম সাউদির করা পরের ওভারে রানআউটের শিকার হন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর দলকে টানেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার হার না মানা সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে ২১২ রান তুলে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে স্বাগতিকদের লিড ২০৫ রানের।

 

১৪তম ওভারের শেষ বলে  মাহমুদুল রানআউটের শিকার হলে শান্তর সঙ্গে উইকেটে যোগ দেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক। দুজনের দারুণ এক জুটিতে স্বস্তি ফেরে স্বাগতিকদের ড্রেসিংরুমে। তাদের দৃঢ়তায় ২ উইকেটে ১১১ রান তুলে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। যদিও চা-বিরতি থেকে ফেরার পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। সেটা নিজেদেরই ভুল বোঝাবুঝিতে। দ্রুত সিঙ্গেল নিতে তিনি দৌড় দিলেও নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা শান্ত একচুলও নড়েননি। ফলে ক্রিজে ফিরতে চেয়েও পারেননি মুমিনুল। ৬৮ বলে ৪০ রানে শেষ হয় তার ইনিংসটি। ২৭ ওভারে বোর্ডে ৭০ রান করেন বর্তমান ও সাবেক অধিনায়ক।  

 

এরপর আরেক সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে জুটি বাধেন শান্ত। এই দুজনও দিন শেষ হওয়ার আগে ২৭ ওভার ব্যাটিং করে বোর্ডে ৯৬ রান তুলেছেন। এ পথে সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। তিনি ১৯৩ বলে ১০ বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৪ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তার সঙ্গে অপরাজিত মুশফিকুর করেছেন ৭১ বলে ৪৩ রান।

 

উল্ল্যে, বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার গৌরব এখন শান্তরই। আগের সর্বোচ্চ ৯৬ রান করেছেন সাকিব আল হাসান (গ্রেনাডা, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ নেতৃত্বের অভিষেকে ৮৩ (চট্টগ্রাম, প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা), মুশফিকুর রহিম ৬৮ (চট্টগ্রাম, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ), লিটন কুমার দাস ৬৬ (মিরপুর, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান) রান করেন।

 

সিলেট টেস্টে স্বাগতিকদের ৩১০ রানের জবাবে কিউইরা প্রথম ইনিংসে ৩১৭ রানে অলআউট হয়।

 

৮ উইকেটে ২৬৬ রান তুলে বুধবার দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়ে নিউজিল্যান্ড। কাইল জেমিসন ৭ ও টিম সাউদি ১ রানে অপরাজিত ছিলেন। পার্টনারশিপটা পঞ্চাশ (৫২) পার করেই আজ এই দুজন থেমেছেন। জেমিসন ২৩ রান করে মুমিনুল হকের শিকার হলে জুটি ভাঙে। একই ওভারে কিউই দলনায়ক সাউদিকেও (৩৫) ফেরান মুমিনুল। তার জোড়া আঘাতে সকালের হতাশার সমাপ্তি ঘটে স্বাগতিকদের।

 

আগের দিন সকালে বাংলাদেশ বোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই শেষ উইকেট হারিয়ে ৩১০ রানে অলআউট হয়ে যায়। গ্লেন ফিলিপস ৪টি উইকেট নেন। এরপর ১০০ রানের মধ্যে কিউইদের ৩ উকেটের পতন ঘটায় বাংলাদেশ। যদিও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে টানেন কেন উইলিয়ামসন। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণির চ্যালেঞ্জের মুখে দারুণ লড়াই করেন তিনি। তার লড়াকু সেঞ্চুরিতে (২০৫ বলে ১০৪) ভর করেই ৮ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়তে পারে অতিথিরা। আজ টেল-এন্ডের চেষ্টায় তাদের সংগ্রহটা তিনশ ছাড়িয়ে যায়।    

 

তাইজুল ১০৯ রানে ৪টি ও মুমিনুল ৪ রানে ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, মিরাজ ও নাঈম হাসানের শিকার একটি করে উইকেট।