স্পিনার রিশাদ হোসেনের ৬ উইকেটে ভর করে ২০৭ রানের পুঁজি নিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০৮ রান তাড়া করতে নেমে রিশাদের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত ক্যারিবীয়রা ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায়।

বিনা উইকেটে ৫১ রান তুলে নেয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৩ রানে অলআউট! ডেডলক ভাঙেন রিশাদ। অলিক আথানেজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। এরপর একে একে সাজঘরে পাঠান কেসি কার্টি, ব্র্যান্ডন কিং, শেরফান রাদারফোর্ড, রোস্টন চেজকে। ক্যারিবীয়দের পতন হওয়া প্রথম পাঁচটি উইকেটই নেয়ার কৃতিত্ব দেখান ডানহাতি স্পিনার রিশাদ।

ক্যারিবীয়রা ১০০ রান ছোঁয়ার পর গুদাকেশ মোতিকে সাজঘরে পাঠান মেহেদী হাসান মিরাজ। পরে তানভীর ইসলাম একটি ও মুস্তাফিজুর রহমান দুটি উইকেট নিয়ে কোণঠাসা করে ফেলেন অতিথি দলকে। রিশাদের করা ইনিংসের ৩৯তম ওভারের শেষ বলে স্লিপে মিরাজকে ক্যাচ দেন জেইডেন সিলস (১৩৩/১০)।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানো বাংলাদেশকে দুশ রানের পুঁজি এনে দেন তাওহীদ হৃদয় (৯০ বলে ৫১), অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৭৬ বলে ৪৬) ও রিশাদ হোসেন (১৩ বলে ২৬)। ছোট পুঁজি নিয়েও ঘূর্ণিতে ভর করে জিতেছে বাংলাদেশ। এদিন দারুণ কীর্তি গড়েন রিশাদ। ওয়ানডেতে ৫ উইকেট শিকারি বাংলাদেশের প্রথম ডানহাতি স্পিনার তিনি। এছাড়া ওয়ানডেতে ৬ উইকেট শিকারি বাংলাদেশের প্রথম স্পিনারও ২৩ বছর বয়সী রিশাদ। এর আগে ৬ উইকেট নেয়া মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনরা সবাই পেস বোলার।

টানা চারটি ওয়ানডে হারের পর জয় পেল বাংলাদেশ। আনন্দিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘টানা চার ম্যাচ হারলেও বিশ্বাস ছিল আমরা ফিরব। অবশ্যই এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ছেলেরা দারুণ খেলেছে। কৃতিত্ব ব্যাটারদের দিতে হবে—বিশেষ করে শান্ত ও হৃদয়কে এবং অভিষিক্ত অঙ্কনকে। সে চাপের মুহূর্তে অনেক শান্ত ছিল। আর শেষদিকে দারুণ এক ইনিংস খেলে রিশাদ।’

মঙ্গলবার একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। এ ম্যাচটি জিতলে সিরিজ নিশ্চিত হবে স্বাগতিক দলের। এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডে সিরিজ খেলে উভয় দল সমান ছয়বার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ হয় ক্যারিবীয়রা। যদিও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গত বছর ডিসেম্বরে ৩-০-তে হেরে এসেছে বাংলাদেশ দল। ওয়ানডেতে ৪৮ বারের মোকাবেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪টি ও বাংলাদেশ ২২টি জয় পেয়েছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪৯.৪ ওভারে ২০৭ (হৃদয় ৫১, অঙ্কন ৪৬, রিশাদ ২৬; সিলস ৩/৪৮, চেজ ২/৩০, গ্রিভস ২/৩২)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৯ ওভারে ১৩৩/১০ (ব্র্যান্ডন কিং ৪০, আথানেজ ২৭; রিশাদ ৬/৩৫, মুস্তাফিজ ২/১৬)। ফল: বাংলাদেশ ৭৪ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: রিশাদ হোসেন (বাংলাদেশ)।