একই দিনে খেলার ময়দানে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের দুটি ভিন্ন লড়াই হবে। আজ পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপ ক্রিকেটে মুখোমুখি হবে দুটি দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে। এদিকে, আজ ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফিফা প্রীতি ম্যাচে লড়বে এশিয়ার দুটি দেশ। 

এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। সুপার ফোর পর্বে যেতে তাই আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততেই হবে সাকিব আল হাসানদের। এ সমীকরণ ম্যাচটির গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে। এটি বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ হলেও আফগানদের প্রথম। মঙ্গলবার তারা দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে। টিকে থাকতে হলে আজ জিততেই হবে সাকিবদের, আর হারলে বিদায়। আফগানরা অবশ্য হারলেই বিদায় নেবে না। তাদের দ্বিতীয় সুযোগ থাকবে শ্রীলংকা ম্যাচে।

পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ১৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে সিংহলিজরা ১১ ওভার হাতে রেখে জয় তুলে নেয়। পরাজয় শেষে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, আফগান ম্যাচে আর এমন ভুল করতে চান না তারা। শান্তর কথায়, ‘আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ২৫০-২৬০ রান। নতুন বলে ব্যাটিং করা সহজ ছিল, যদিও বল পুরনো হতে থাকলে ব্যাটিং করা কঠিন হতে থাকে। উইকেট সহজ ছিল না, যদিও টপ অর্ডারে আমাদের জুটি গড়ার প্রয়োজন ছিল। আমরা আরো ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম। পরের ম্যাচে (আজ) আমরা এ ভুল আর করতে চাই না।’

গত মাসে আফগানিস্তানকে ঘরের মাঠে টি২০ সিরিজে হারায় বাংলাদেশ। যদিও ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে টাইগাররা। সেই স্মৃতিচারণ করে শান্ত বলেন, ‘আমরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি২০ সিরিজে ভালো করেছি। ওয়ানডেতে আমরা হেরেছি। কিন্তু অতীত নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবছি না। আমাদের দলটি যথেষ্ট ভালো। আমি মনে করি, ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে আমরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফল পেতে পারি। আমাদের পরের ম্যাচটি জিততে হবে।’

পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা সম্ভব। কিন্তু অত দূরের কথা না ভেবে আমি বরং পরের ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনা করি ও প্রস্তুতি নেই। আফগানিস্তানকে হারাতে পারলে তখন আমরা অন্য সবকিছু নিয়ে ভাবতে পারব।’

ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ১৪ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ আটটিতে ও আফগানিস্তান ছয়টিতে জিতেছে। ১১ জুলাই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সর্বশেষ মোকাবেলায় সাত উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। 

আজ জিতলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত হবে না সাকিবদের। তখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপের পরের ম্যাচের দিকে, আর নেট রানরেটে। তিন দলেরই সমান একটি করে জয় হলে তখন হিসেবে আসবে নেট রানরেট। 

ফুটবল ও ক্রিকেটের দুটি ম্যাচ একই দিনে হওয়ার কথা ছিল না অবশ্য। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) অনুরোধ করে আফগানরাই ম্যাচটি একদিন এগিয়ে এনেছে। এটা অনেকটা হুট করেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪ সেপ্টেম্বরের ফিফা প্রীতি ম্যাচ একদিন এগিয়ে এনে ৩ সেপ্টেম্বর (আজ) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে। বাফুফের এমন সিদ্ধান্তে নিজেরা ক্ষতির শিকার হবে, আর উপকৃত হবে আফগানিস্তান।

বসুন্ধরা কিংস এরেনায় ৪ তারিখের ম্যাচটি এগিয়ে এনে ৩ সেপ্টেম্বর আনা হলেও দ্বিতীয় ম্যাচের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বরই থাকছে। ওই ম্যাচটিও একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।এ প্রথম বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হতে যাচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো ভেন্যুতে। 

ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডো ৪ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর। এ সময় একটি দল সর্বোচ্চ দুটি আন্তর্জাতিক টায়ার-১ ম্যাচ খেলতে পারে। এ ম্যাচগুলো থেকে রেটিং পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১৮৯তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য এ মুহূর্তে পয়েন্ট অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে আফগানরা রয়েছে ১৫৭ নম্বরে। চলমান ফিফা উইন্ডোতে আফগানিস্তানকে দুই ম্যাচে হারাতে পারলে ভালো রেটিং পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। যদিও রেটিং পয়েন্ট অর্জনের চেয়ে অতিথিদের স্বার্থই কি বড় করে দেখল বাফুফে?

১১ সেপ্টেম্বর এশিয়ান দল ফিলিপাইনের সঙ্গে ম্যাচ খেলার কথা আফগানিস্তানের। এক উইন্ডোতে তিন ম্যাচ হয়ে গেলে একটি ম্যাচ থেকে বেশি রেটিং পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ কমে যায়। তাই আফগানরা বাফুফেকে অনুরোধ করেছে ৪ তারিখের ম্যাচটা উইন্ডোর বাইরে ৩ সেপ্টেম্বর নিতে। বাফুফে তাতে রাজিও হয়েছে। 

বাফুফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার এমন সিদ্ধান্তে তেমন ক্ষতি দেখছেন না। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আফগানদের বিপক্ষে দুটি ম্যাচকে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম পর্বের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছি আমরা। মালদ্বীপের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুই লেগের ম্যাচ দুটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৩ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ উইন্ডোর বাইরে হলেও ফিফা টায়ার-১ ম্যাচের মর্যাদা পাবে। তাই আমরা আফগানদের অনুরোধ রেখেছি।’