চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত রাউন্ড রবিন লিগে ৯ ম্যাচে ৫৯১ রান করে চার্টের শীর্ষে অবস্থান করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বামহাতি ওপেনিং ব্যাটার কুইন্টন ডি কক। ২২ উইকেট বোলারদের চার্টে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ার লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। এবার এই দুই নাম্বার ওয়ানের লড়াই। আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই ম্যাচে হারা দলের বিদায়, আর জিতলে ফাইনাল। ডি কক ও জাম্পার জন্যও এটি শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, টিকে থাকারও লড়াই। কে কাকে নকআউট করেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

চলতি আসরে সর্বোচ্চ ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক আসর খেলা ডি কক। সর্বোচ্চ ৫৯১ রানও তার। ৬৫.৬৬ গড় আর ১০৯.২৪ স্ট্রাইক রেটে এই রান করেন ৩০ বছর বয়সী বামহাতি ব্যাটার। রানে তার পরেই আছেন নিউজিল্যান্ডের ২৩ বছর বয়সী ওপেনার রাচিন রবীন্দ্র। অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ কাটানো রাচিন ৭০.৬২ গড় আর ১০৮.৪৪ স্ট্রাইক রেটে ৫৬৫ রান করেছেন। হয়তো সেমিফাইনালে পরিসংখ্যান আরো সমৃদ্ধ করতে পারবেন।

তালিকায় আরো দুজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন। ভারতের বিরাট কোহলি ৫৪৩ রান নিয়ে তিন নম্বরে, আর অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং ব্যাটার ডেভিড ওয়ার্নার ৪৯৯ রান করে চারে অবস্থান করছেন। অর্থ্যাৎ, ব্যাটিংয়ের শীর্ষ চারে আছেন শীর্ষ চার দলের চারজন। সেমিফাইনাল খেলবে যে চারটি দল তাদের চার প্রতিনিধি হিসেবে চার্টের শীর্ষ চারে আছেন ডি কক, রাচিন, কোহলি ও ওয়ার্নার।

যদিও এই চারজনের মধ্যে বিরাট কোহলি একটি ম্যাচ কম খেলেছেন। আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে তিনি ৪৯ রান করলেই ডি কককে টপকে টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবেন। কোহলি ও ওয়ার্নার উভয়ই দুটি করে সেঞ্চুরি করেছেন। কোহলি আবার এই বিশ্বকাপেই ওয়ানডে ফরম্যাটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিতে ধরে ফেলেছেন শচীন টেন্ডুলকারকে। তার সেঞ্চুরি এখন ৪৯টি। হয়তো এই আসরেই তিনি শচীনকে টপকে এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন। আর সেটি করতে পারলে রানেও শীর্ষে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

এবার আসা যাক বোলিংয়ের লড়াইয়ে। অস্ট্রেলিয়ার ৩১ বছর বয়সী স্পিনার জাম্পা অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখিয়ে ১৮.৯০ গড় ও ৫.২৬ ইকোনোমি রেটে ২২ উইকেট শিকার করে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছেন। মাঝে শ্রীলংকার দিলশান মাদুশঙ্কার (২১ উইকেট) কাছে শীর্ষস্থান হারালেও আবার তা পুনরুদ্ধার করেছেন।

তালিকায় এরপরেই আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জেরাল্ড কোয়েৎজি (৭ ম্যাচ ১৮ উইকেট), পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি (৯ ম্যাচে ১৮ উইকেট) ও দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেন (৮ ম্যাচ ১৭ উইকেট)। ভারতের পেসার মোহাম্মদ শামি মাত্র ৪ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে তালিকার ছয় নম্বরে উঠে এসে তাক লাগিয়ে দেন। শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের বিদায়ে মাদুশঙ্কা ও শাহিনেরও মিশন শেষ। জাম্পার প্রতিদ্বন্দ্বী এখন দক্ষিণ আফ্রিকার জেরাল্ড কোয়েৎজি। তিনি সবগুলো ম্যাচ খেললে জাম্পাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারতেন। যদিও স্পিনার তারবরাইজ শামসির কাছে দুই ম্যাচে তিনি জায়গা হারান।

বর্তমান চিত্রটা বলছে, চলতি বিশ্বকাপে জাম্পাই হতে পারেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার। যদিও নকআউটে কী চমক অপেক্ষা করছে, সেটি বলা মুশকিল। প্রোটিয়ারা যদি অজিদের নকআউট করে ফাইনালে উঠে যেতে পারে, তবে কোয়েৎজির সুযোগ আসতেও পারে। আর যদি অজিরা জিতে যায় এবং জাম্পা চেনা ছন্দে থাকেন, তবে তিনিই পাবেন বোলিংয়ের মুকুট।