আলেক্সান্ডার জেভেরেভসহ আরো অনেকের সঙ্গে গ্রিক
উদীয়মান তারকা স্তেফানোস সিসিপাস টেনিসে নতুন প্রজন্মের মশাল বহন করে চলেছেন। আজ
ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় খেলোয়াড় নোভাক জোকোভিচের
বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের পরীক্ষায় নামছেন তিনি।
আজ যদি জোকোভিচকে হারাতে পারেন ২২ বছর বয়সী
সিসিপাস, তবে ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী
খেলোয়াড় হিসেবে রোলাঁ গারোঁয় ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখাবেন তিনি।
আজ আরেক সেমিফাইনালে রেকর্ড ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন
স্পেনের রাফায়েল নাদালের মুখোমুখি হবেন আর্জেন্টিনার ২৮ বছর বয়সী খেলোয়াড় দিয়েগো
শোয়ার্জম্যান। জিতলে ফ্রেঞ্চ ওপেনে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নাদালকে হারানোর
কৃতিত্ব দেখাবেন তিনি। এর আগে রোলাঁ গারোঁয় নাদালকে হারাতে পেরেছেন ২০০৯ সালে
সুইডেনের রবিন সোডারলিং ও ২০১৫ সালে জোকোভিচ। ২০১৬ সালে কব্জির চোটের কারণে তৃতীয়
রাউন্ডের আগে নাম প্রত্যাহার করে নেন স্প্যানিশ ম্যাটাডোর। এছাড়া ২০০৫ সালে যাত্রা
শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাকি মিশনগুলোয় রোলাঁ গারোঁয় শিরোপা হাতে নিয়েছেন
নাদালই।
যদিও গত মাসেই রোমে মাটির কোর্টে কোয়ার্টার
ফাইনালে নাদালকে হারিয়ে দেন শোয়ার্জম্যান। প্যারিসেও মাটির কোর্টে খেলা। রোমের সেই
জয় থেকে প্রেরণা নিতেই পারেন তিনি। আবার নাদালও চাইবেন ওই হারের প্রতিশোধ নিতে।
শেষ আটে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন
ডমিনিক থিয়েমকে হারানো শোয়ার্জম্যান আজকের সেমিফাইনাল নিয়ে বলেন, ‘যদি ইতিহাস দেখি, তবে আমার খুব বেশি আত্মবিশ্বাস খুঁজে
নেয়ার সুযোগ নাই। কিন্তু হ্যাঁ, আমি তাকে হারাতে পারি। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
শোয়ার্জম্যানকে নিয়ে নাদাল বলেন, ‘সে খুব বড় আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসছে।
রোমে ফাইনাল খেলেছে, এখানে সেমিফাইনাল। আমাকে সেখানে
হারিয়েছে। এটা তার জন্য বাড়টি আত্মবিশ্বাস দেবে। আমি সেটা জানি।’
এদিকে ১৭ বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী জোকাভিচ ২০২০
সালে ৩৭ ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে হেরেছেন। একমাত্র হারটিও আবার এসেছে ইউএস ওপেনের
শেষ ষোলোয় লাইন জাজের গায়ে বল মেরে ডিসকোয়ালিফায়েড হওয়ার মধ্য দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ান
ওপেন ছাড়াও এ বছর তিনি শিরোপা জিতেছেন দুবাই, সিনসিনাটি ও রোমে। আরব আমিরাতে ফাইনালে তিনি ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারান সিসিপাসকে। আজ রোলাঁ
গারোঁয় সেমিফাইনালে সেই সিসিপাসের মুখোমুখি হবেন।
কোয়ার্টার ফাইনালে পাবলো কারেনো বুস্তার বিপক্ষে ম্যাচে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হয়েছেন জোকোভিচ, যদিও স্প্যানিশ প্রতিপক্ষ প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি আদৌ শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ছিলেন কিনা।
জোকোভিচ পূর্ণ সুস্থ
হয়েই আসছেন, এমনটা ভেবেই কোর্টে নামবেন সিসিপাস। তার
কথায়, ‘চোটের বিষয়টি এখানে কোনো কিছুতেই ভূমিকা রাখবে না। আমাকে শুধু নিজের খেলাটাই
খেলতে হবে। গত কয়েকটি ম্যাচে আমি যে প্রবলতা আর মনোযোগ দিয়ে খেলেছি, এখনো তেমনই খেলে যেতে চাইব।’
সিসিপাস জিতলে হুয়ান
মার্টিন দেল পোত্রোর পর সবকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে কোনো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠবেন।
২০০৯ সালে ২০ বছর বয়সে ইউএস ওপেনের ফাইনাল খেলেছিলেন দেল পোত্রো, জিতেছিলেন শিরোপাও।
দেল পোত্রোর ওই
জয়ের পর ৪০টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ভাগাভাগি করেন মাত্র পাঁচজন—জোকোভিচ, নাদাল, রজার ফেদেরার, অ্যান্ড মারে ও স্তান ভাভরিঙ্কা।
যদিও নতুন প্রজন্ম
আশা দেখাচ্ছে। গত মাসে ২৩ বছর বয়সী জেভেরেভকে হারিয়ে ইউএস ওপেন জয় করেন ২৭ বছর বয়সী
থিয়েম।
আজ প্রথম সেমিফাইনালটি
শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়, যাতে লড়বেন নাদাল ও শোয়ার্জম্যান। এ ম্যাচ
শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বেন সিসিপাস ও জোকোভিচ।
সূত্র: বিবিসি ও ফ্রেঞ্চ ওপেন










