ভারতের বিপক্ষে হারের বৃত্তেই থাকল পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারল তারা। চলতি এশিয়া কাপে দুবাইয়ে গ্রুপ পর্বে বিধ্বস্ত হওয়ার পর গতকাল একই মাঠে সুপার ফোরের ম্যাচেও হেরেছে সালমান আগার দল। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭১ রান তুলতে সমর্থ হয় পাকিস্তান। ব্যাটিং শক্তিধর ভারত এ রান তাড়া করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে।
পাকিস্তান ১৭১ রান তোলার পর লড়াইয়ের আভাস মিললেও বাস্তবে তেমনটি ঘটল না। ভারতের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপের কাছে আত্মসমর্পণই করল পাকিস্তানি বোলাররা। ওপেনিং জুটিতেই ৫৯ বলে ১০৫ রান তুলে ম্যাচটি প্রায় শেষ করে দেন অভিষেক শর্মা ও ভারতের টেস্ট অধিনায়ক শুবমন গিল। দশম ওভারে গিলকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন ফাহিম আশরাফ। ২৮ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৪৭ রান করেন গিল।
পরের ওভারেই সূর্যকুমার যাদব (০) সাজঘরে ফিরে যান হারিস রউফের শিকার হয়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ২ উইকেট হারালেও টলেনি ভারত, কারণ ৫৭ বলে মাত্র ৬৬ রানের সহজ সমীকরণের সামনে ছিল তারা। ফিফটির পর ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকা অভিষেককে থামান স্পিনার আবরার আহমেদ। তার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানার কাছে হারিস রউফের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর সাঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে ২৬ বলে ২৫ ও হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে ১৩ বলে ২৬ রানের জুটিতে ভারতকে দাপটে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিলক ভার্মা।
এর আগে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সূর্যকুমার। দুবাইয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপ ম্যাচের মতো এদিনও পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগার সঙ্গে হাত মেলাননি কিংবা কথাও বলেননি ভারতীয় অধিনায়ক। আগের ম্যাচের মতোই টস ও ম্যাচের ফল গেল তার পক্ষে।
এ ম্যাচে ওপেনার শাহিবজাদা ফারহানের ফিফটিতে ভালো সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। তিনি ৪৫ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৫৮ রান করেন। এছাড়া সাইম আইয়ুব ১৭ বলে ২১, মোহাম্মদ নওয়াজ ১৯ বলে ২১, ফাহিম আশরাফ ৮ বলে ২০ রান করেন। ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন শিবম দুবে।
দারুণ ফিফটি করা ফারহান জীবন পান ম্যাচের তৃতীয় বলেই। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে থার্ড ম্যানে ফারহানের ক্যাচ ফেলেন অভিষেক শর্মা। জীবন পেয়ে তিনি দারুণ ব্যাটিং করেন। সাইমকে নিয়ে ৪৯ বলে ৭২ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দেন ফারহানই।
দুর্দান্ত সূচনা করেছিলেন পাকিস্তান ওপেনার ফখর জামানও। বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বিদায় ঘটে তার। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ফখর। ভারতের উইকেটকিপার সাঞ্জু ক্যাচটি ঠিকভাবে নিয়েছেন, নাকি বল তার গ্লাভসে জমা হওয়ার আগে মাটিতে পড়েছে, তা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল না। টিভি রিপ্লেতে মনে হয়েছে, বল আগে মাটিতে পড়ে স্যামসনের গ্লাভসে গেছে। বাংলাদেশী আম্পায়ার গাজী সোহেল আউট দেননি। এরপর টিভি আম্পায়ারের কোর্টে যায় বল। ‘বেনিফিট অব ডাউট’ চিরাচরিতভাবে ব্যাটসম্যানের পক্ষেই যাওয়ার কথা। যদিও ফখরকে আউট দিলেন টিভি আম্পায়ার রুচিরা পালিয়াগুরুগে।
৯ বলে ১৫ রান করা ফখর মাঠ ছাড়ার সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে যায়।
হার শেষে পাকিস্তান দলনায়ক সালমান আগার বলেছেন, পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ থেকে তাদের ছিটকে দেয় ভারত। তিনি বলেন, ‘আমরা ১৫ রান কম করেছি, বিশেষ করে ১০ ওভারে ৯১ রান করার পর সংগ্রহটা আরো বড় হতে পারত। এর পরও ১৭১ ভালো সংগ্রহ ছিল।’ তিনি জানান, তারা এখন শ্রীলংকা ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১৫ বারের মোকাবেলায় ১২টি জয় নিয়ে ভারতই এগিয়ে থাকল। পাকিস্তান জিতেছে ৩টি। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে ২০১৬ ও ২০২২ (দুবার) আসরে হারানোর পর চলতি আসরেও দুবার পাকিস্তানকে হারাল ভারত।
এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আগামীকাল শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে পাকিস্তান, পরদিন ভারতের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৭১/৫ (ফারহান ৫৮, সাইম ২১, নওয়াজ ২১, ফাহিম ২০*; শিবম দুবে ২/৩৩)। ভারত: ১৮.৫ ওভারে ১৭৪/৪ (অভিষেক ৭৪, গিল ৪৭, তিলক ৩০*; হারিস রউফ ২/২৬)। ফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: অভিষেক শর্মা (ভারত)।










