কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেই স্প্যানিশ আর্মাডা হোঁচট খেয়েছে। দুর্বল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফলে আজ রাত ১০টায় আটলান্টায় সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটি স্পেনের জন্য হয়ে উঠেছে নিজেদের ছন্দ ও আক্রমণের ধার ফিরে পাওয়ার লড়াই।
কাগজে-কলমে গ্রুপ ‘এইচ’-এ স্পেন ও উরুগুয়েকেই ফেভারিট ধরা হয়েছিল। সৌদি আরব ও বিশ্বকাপে অভিষিক্ত কেপ ভার্দের লড়াই হবে সেরা তৃতীয় দলের একটি স্থান পাওয়ার জন্য—এমন ধারণাই ছিল অধিকাংশের। কিন্তু এক ম্যাচ শেষে চার দলই সমান এক পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। ফলে গ্রুপের সমীকরণ এখন বেশ জটিল।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল আক্রমণভাগে ধার না থাকা। বলের দখলে আধিপত্য ছিল, সুযোগও তৈরি হয়েছে যথেষ্ট। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে ২৭টি শট নিয়েছিল স্পেন। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি। স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারসাবাল ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টায় বলই স্পর্শ করতে পারেননি উল্লেখযোগ্যভাবে। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও শেষ তৃতীয়াংশে ছিল না ক্ষিপ্রতা।
এ অবস্থায় স্পেনের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হতে পারে লামিনে ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে ফেরায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাকে শুরু থেকে নামানো হয়নি। শেষ ২০ মিনিটে মাঠে নেমেই অবশ্য আক্রমণে প্রাণ ফেরান বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক। একটি পরিষ্কার গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে ইয়ামালকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এছাড়া ম্যাচে নিকো উইলিয়ামসও প্রথম একাদশে জায়গা পেতে পারেন। গাভি ও ফেরান তোরেসের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল।
অন্যদিকে সৌদি আরবও আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। চার বছর আগে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ কাঁপানো সৌদিরা আবারো চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে। কোচ জর্জিওস ডোনিস সম্ভবত উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলা একাদশেই আস্থা রাখবেন।
সৌদির মূল শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। সালেম আল-দাওসারি, ফেরাস আল-ব্রিকান ও মুসাব আল-জুয়াইরের মতো ফুটবলারদের নিয়ে তারা যেকোনো মুহূর্তে বিপদ তৈরি করতে সক্ষম। কেপ ভার্দে যে রক্ষণাত্মক ছক ব্যবহার করে স্পেনকে আটকে রেখেছিল, সৌদি আরবও অনেকটা একই পথ অনুসরণ করতে পারে।
সৌদি আরব যে স্পেনের জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, সেটি ভালোভাবেই উপলব্ধি করছে স্প্যানিশ শিবির। কেপ ভার্দের বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোকে তাই ‘ওয়েক-আপ কল’ বা সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন স্প্যানিশ রক্ষণভাগের তারকা মার্ক কুকুরেয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধাক্কা আমাদের সময়মতো সতর্ক করে দিয়েছে। আমরা বুঝতে পেরেছি বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো কিছুই সহজ নয়। প্রতিটি ম্যাচে আমাদের শতভাগ মনোযোগ দিতে হবে, কারণ যেকোনো দলই যে কাউকে হারিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখে।’"তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন একটি ধাক্কা খাওয়াকে দলের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছেন এ ডিফেন্ডার। তার মতে, পরের কোনো রাউন্ডে এমনটা হলে সরাসরি ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ফিরতে হতো।
অবশ্য স্প্যানিশ শিবির চাইলে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের স্মৃতি থেকেও অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারে। ওই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইনিয়েস্তা-জাভি-ক্যাসিয়াসদের স্পেন।










