বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৪১ বছর বয়সে এসেও নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ২০২৬ সালের আসন্ন আসরে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এ পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। বয়স চল্লিশের কোঠা পার হলেও মাঠের পারফরম্যান্স বা ফিটনেসে এখনও বিন্দুমাত্র মরচে পড়েনি তার। তবে ২০১৬ সালে ইউরোপ জয় করলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ এখনও পাননি তিনি। ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের হাতে এবারই ট্রফি দেখার তীব্র বাসনা ভক্ত-সমর্থকদের মনে। কারণ সম্ভবত এ আসরেই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু রবার্তো মার্তিনেজের মতে, এটাই রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ নয়! ফিট থাকলে আসন্ন ২০৩০ বিশ্বকাপেও তাকে খেলাতে সমস্যা নেই পর্তুগালে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপে স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে যৌথ আয়োজক পর্তুগাল। নিজ ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতেই পারেন রোনালদো, কিন্তু তার বয়স হবে তখন ৪৫! এ বয়সেও সিআরসেভেনকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখলে অবাক হবেন না মার্তিনেজ। কাদেনা সার রেডিও-কে মার্তিনেজ বললেন, ‘এনিয়ে কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। তার সেই যোগ্যতা আছে।’ পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী অবশ্য এখনও অবসর নেয়ার ব্যাপারে কোনো সময়সীমা জানাননি।

২০০৩ সালে পর্তুগালে অভিষেক রোনালদোর। জাতীয় দলে হয়ে সবচেয়ে বেশি ২২৬ ম্যাচ ও ১৪৩ গোল তার। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি বিশ্বকাপেই করেছেন গোল। মার্তিনেজ বললেন, ‘আমরা পর্তুগালের সব তরুণ ফুটবলারদের কাছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আদর্শ পৌঁছে দিতে চাই, কারণ সে একজন রোল মডেল।’

মার্তিনেজ জানালেন, রোনালদোর একটি ব্যাপার খুব ভালো লাগে তার—অন্য তারকাদের তুলনায় ভিন্ন মানসিকতা। তিনি বললেন, ‘আমরা (জাতীয় দলের) কোচিং স্টাফরা, একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কেবল একটি নির্দিষ্ট দলীয় কিংবা ব্যক্তিগত শিরোপা জেতার জন্য খেলে না। সে কী খায়, তা তার পরিচয় নয়, বরং তার ভেতরের ক্ষুধা দিয়ে। ক্রিশ্চিয়ানো যাই জিতুক না কেন, পরের দিন উন্নতি করার জন্য একই ক্ষুধা থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা ব্যালন ডি’অর জেতা অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছিলাম এবং পরের দিন তাদের ক্ষুধা কমে যায়। রোনালদোর ক্ষেত্রে সে ভিন্ন এক মানসিকতার উদাহরণ।’