বিশ্বকাপের প্রথম তিন-চার ম্যাচ খেলতে পারবেন না জেনেও ট্রাভিস হেডকে স্কোয়াডে রাখার ঝুঁকি নেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা। তিনি খেলতে পারেননি প্রথম পাঁচ ম্যাচ। গতকাল ধর্মশালায় অজিদের ষষ্ঠ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরেই ফিফটি করলেন মাত্র ২৫ বলে! এরপর ৫৯ বলে করেন সেঞ্চুরি। 

১৯তম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ অভিষেকেই সেঞ্চুরি করলেন হেড। এর মধ্যে চলতি বিশ্বকাপেই সেঞ্চুরিতে অভিষেক রাঙিয়েছেন আরো তিনজন। এরা হলেন—নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ে ও রাচিন রবীন্দ্র এবং পাকিস্তানের আব্দুল্লাহ শফিক। এবার ট্রাভিস হেড।

১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপ আসরে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেনিস অ্যামিস। এরপর অভিষেক ম্যাচ সেঞ্চুরিতে রাঙান নিউজিল্যান্ডের গ্লেন টার্নার, ইংল্যান্ডের অ্যালান লাম্ব, অস্ট্রেলিয়ার ট্রেভর চ্যাপল ও জিওফ মার্শ, জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, নিউজিল্যান্ডের নাথান অ্যাস্টল, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যারি কারস্টেন, নিউজিল্যান্ডের স্কট স্টাইরিস, জিম্বাবুয়ের ক্রেস উইশার্ট, অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, আয়ারল্যান্ডের জেরেমি ব্রে, ভারতের বিরাট কোহলি, অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ, দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার ও সর্বশেষ গতকাল ট্রাভিস হেড। 

জিম্বাবুইয়ান গ্রেট অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ানডে ও বিশ্বকাপ অভিষেকে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখান। 

গতকাল অভিষেকে সেঞ্চুরির পথে আরো বেশকিছু রেকর্ড গড়েছেন হেড। তিনি আউট হওয়ার আগে ৬৭ বলে ১০ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৯ রান করেন। উদ্বোধনী জুটিতে ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে ১১৭ বলে ১৭৫ রান যোগ করেন। ওয়ার্নারের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে এই জুটি ভাঙেন ফিলিপস। পরে হেডকে করেন বোল্ড। 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা হেডের ফিফটি চলতি বিশ্বকাপে যৌথভাবে দ্রুততম। গত ৭ অক্টোবর দিল্লিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৫ বলে ফিফটি করেছিলেন শ্রীলংকার কুশল মেন্ডিস। 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের দখলে। ২০১৫ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২১ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি। এ বিশ্বকাপেই ৪০ বলে সেঞ্চুরি করে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন ম্যাক্সওয়েল। এটা বিশ্বকাপ ইতিহাসেই দ্রুততম সেঞ্চুরি। যাই হোক, দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরি উভয় ক্ষেত্রেই ম্যাক্সওয়েলের পেছনেই থাকলেন হেড। ২৫ বলে ফিফটি আছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারিরও। ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন তিনি।

৬৫ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরের পথ ধরেন ওয়ার্নার। দুই ওপেনার পাওয়ার প্লের ১০ ওভারেই তুলেছেন ১১৮ রান। এ সময় বাউন্ডারি মেরেছেন ২১টি। অথচ এই নিউজিল্যান্ড আগের ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে পুরো ইনিংসে বাউন্ডারি দিয়েছিল ৩৬টি। উদ্বোধনী জুটিতে এতটাই ঝড় ওঠে যে প্রথম ৯ ওভারের মধ্যেই ফিফটি করেন ওয়ার্নার ও হেড!