তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী প্রয়াত কিংবদন্তি ফু্টবলার পেলেকে পেছনে ফেলে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন নেইমার জুনিয়র। শনিবার ভোরে নিজ দেশের বেলেম শহরে বলিভিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে জোড়া গোল করে এ কীর্তি গড়েন নেইমার। ম্যাচে ৫-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
ইতিহাসের সেরা ফুটবলার খ্যাত পেলে ১৯৫৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ব্রাজিলের হয়ে ৭৭টি গোল করেন। ৩১ বছর বয়সী নেইমার ব্রাজিলের হয়ে খেলছেন ২০১০ সাল থেকে। আল হিলালে খেলা এই ফরোয়ার্ড এখন ১২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে করেছেন ৭৯টি গোল।
অবশ্য ব্রাজিলের সকার কনফেডারেশনের হিসাবে, ১১৪ ম্যাচে ৯৫টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা পেলে। তবে ক্লাবের বিপক্ষে জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচে পেলের গোলগুলো ফিফা বিবেচনা করে না। সে হিসেবে ফিফা স্বীকৃত ম্যাচে পেলের গোল ৭৭টি।
পেলে ফাউন্ডেশন অবশ্য নেইমারের গোলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা লিখেছে, ‘ফিফার অফিশিয়াল ম্যাচে গোলে রাজাকে টপকে যাওয়ায় নেইমার জুনিয়র তোমাকে অভিবাদন। নিশ্চিতভাবেই পেলেও তোমার প্রশংসা করছে আজ।’
এদিকে নারী-পুরুষ মিলিয়ে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ডটা এখনো অধরা রয়ে গেছে নেইমারের। ব্রাজিলের নারী ফরোয়ার্ড মার্তা ১৭১ ম্যাচে ১১৫ গোল করে সেলেসাওদের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ধরে রেখেছেন। এ বছর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মার্তা খেলেছেন ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের সর্বশেষ বিশ্বকাপ।
গতকাল ম্যাচে মাঠে নামার আগে ৭৭ গোল নিয়ে পেলের সঙ্গে রেকর্ড ভাগাভাগি করছিলেন নেইমার। প্রথম গোলটি করে কাল টপকে যান পেলেকে। রেকর্ড গড়া গোলটি আসে ৬১ মিনিটে। নিচু হয়ে আসা ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি। পেলের মতোই তিনি বাতাসে ঘুসি ছুড়ে সাফল্য উদযাপন করেন। এটা ছিল ম্যাচে ব্রাজিলের চতুর্থ গোল। এরপর ইনজুরি টাইমে করেন দলের পঞ্চম ও নিজের রেকর্ড ৭৯তম গোল। অবশ্য ম্যাচে হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন তিনি। ১৭ মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন স্যান্টোস, বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ড। ওই সময় বলটি রুখে দেন গোলরক্ষক গুইলারমো ভিসকারা।
রেকর্ড গড়ার পর ব্রাজিল সকার কনফেডারেশন প্রেসিডেন্ট এদনালদো রদ্রিগেজ তাকে স্মারক উপহার দেন। এ সময় নেইসার বলেন, ‘আমি অনেক খুশি। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কখনো ভাবিনি যে এখানে পৌঁছতে পারব।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি বলতে চাই, এই রেকর্ডের মানে এই নয় যে আমি পেলের চেয়ে কিংবা জাতীয় দলের অন্য কারো চেয়ে ভালো। আমি সবসময় জাতীয় দলে নিজের গল্প লিখতে চেয়েছি এবং আজ সেটি পেরেছি।’
নেইমারের প্রশংসা করে ব্রাজিল কোচ ফার্নান্দো দিনিজ বলেন, ‘গোল করা, রেকর্ড ভাঙা বলে দেয়, সে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকতেই ভালোবাসে। সে মস্ত বড় এক নায়ক। মানুষের এটা স্বীকার করতে হবে ও মানতে হবে। দর্শকদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেতে তাকে আর কিছু করতে হয়। কারণ সে সহজাত এক প্রতিভা।’
ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের সবচেয়ে সাম্প্রতিক ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হার। এরপর তো জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়। চলতি বছর সেলেসাওদের প্রথম তিনটি ম্যাচ তিনি খেলেননি। ফিরলেন রাজার মতোই। মাত্র ৩১ বছর বয়সেই নেইমারকে বাতিল বলে গণ্য করছে না সেলেসাওরা। জোড়া গোলে তিনিও বুঝিয়ে দিলেন এখনই ফুরিয়ে যাননি।
জাতীয় দলের ২০১৩ সালের কনফেডারেশন কাপ ছাড়া বড় কোনো অর্জন নেই নেইমারের। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে লজ্জাজনক পরাজয়ের শিকার হয় ব্রাজিল। লাতিন জায়ান্টরা ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে যায়। ইনজুরির কারণে ব্রাজিলের ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকাজয়ী দলে ছিলেন না নেইমার। আর সর্বশেষ ২০২১ সালের আসরে তার দল ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায়।
ক্লাব ফুটবলে নেইমার দুটি লা লিগা, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, পাঁচটি লিগ ওয়ান ও একটি কোপা লিবার্তাদোরেস শিরোপা জিতেছেন।










