শেষ ৩২-এ পা রাখার আগে এটি হতে পারে তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মঞ্চ। দুই ম্যাচে একই একাদশ নামিয়ে জয় পাওয়া জার্মান কোচ বিভিন্ন পজিশনে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন। চোটের কারণে নিকো শ্লটারবেকের টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন রক্ষণভাগের সমন্বয়ও যাচাই করে নিতে হবে তাকে। একই সঙ্গে ডেনিজ উনদাভ, নাদিয়েম আমিরি, জেমি লেওয়েলিং কিংবা নিক ভল্টেমাডের মতো কম সুযোগ পাওয়া ফুটবলারদেরও দেখা যেতে পারে শুরু থেকেই। ম্যাচটি জুলিয়ান নাগেলসমানের জন্য হয়ে উঠতে পারে বড় এক পরীক্ষাগার। তবে একুয়েডরের জন্য এটি কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। নকআউটে উঠতে জার্মানিকে হারাতেই হবে তাদের।

দুই ম্যাচ শেষে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে জার্মানি। ফল যা-ই হোক, শেষ ৩২-এর ম্যাচ তারা খেলবে বোস্টনে। প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফলে এ ম্যাচে ঝুঁকি নেয়ার সুযোগ আছে। তবে নাগেলসমানের স্বভাব বিবেচনায় পুরোপুরি দ্বিতীয় সারির দল নামানোর সম্ভাবনা কম। কারণ গত কয়েক বছরে বিশ্বকাপে জার্মানির ব্যর্থতার স্মৃতি এখনো তাজা। ২০১৮ ও ২০২২ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো তারা নকআউটে উঠেছে। সেই আত্মবিশ্বাসের ধারাবাহিকতা ভাঙতে চান না কোচ।

মিডফিল্ডার নাদিয়েম আমিরির কথাতেও সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা গেছে। তার ভাষায়, জয়ের ধারায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি জয় আমাদের জন্য মূল্যবান। জার্মানি থেকে অনেক সমর্থক আসবেন। তাই আমরা শতভাগ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব।

তবু একাদশে পরিবর্তন আসার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কারণ নিকো শ্লটারবেকের চোট। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালির লিগামেন্ট ইনজুরিতে টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেছে তার। ফলে রক্ষণভাগে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। দ্বিতীয়ার্ধে শ্লটারবেকের বদলি হিসেবে নামা আন্তোনিও রুডিগার এবার শুরু থেকেই খেলবেন বলেই মনে হচ্ছে। জনাথন তাহর সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডারের জুটি নকআউটের আগে পরীক্ষা করে দেখার এটিই সেরা সুযোগ।

রক্ষণভাগে আরো কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। বাঁ প্রান্তে নাথানিয়েল ব্রাউন ভালো খেললেও ডেভিড রাউমকে সুযোগ দেয়া হতে পারে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিয়মিত খেলেছেন রাউম, কিন্তু মূল আসরে এখনো প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি। কেন্দ্রীয় রক্ষণে ওয়াল্ডেমার আন্তোন বা মালিক থিয়াওকেও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে থিয়াও এখনো একটি মিনিটও খেলেননি। নাগেলসমান চাইবেন নকআউটে যাওয়ার আগে তার প্রস্তুতি যাচাই করতে।

গোলপোস্টেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ম্যানুয়েল নয়্যার দুই ম্যাচেই খেলেছেন। তবে বাছাইপর্বে দলের ভরসা ছিলেন অলিভার বাউমান। অভিজ্ঞ এ গোলরক্ষককে বিশ্বকাপ অভিষেকের সুযোগ দেয়া হতে পারে। বিকল্প হিসেবে আছেন আলেকজান্ডার ন্যুবেলও। মাঝমাঠে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন লেওন গোরেৎজকা ও আলেক্সান্ডার পাভলোভিচকে ঘিরে। প্রথম দুই ম্যাচে পাভলোভিচ খেললেও গোরেৎজকা বেঞ্চ থেকে নেমেছেন। নকআউটের আগে অভিজ্ঞ বায়ার্ন মিডফিল্ডারকে শুরু থেকে খেলিয়ে দেখা হতে পারে। একই সঙ্গে আমিরি ও অ্যাঞ্জেলো স্টিলারের মতো ফুটবলারদেরও সুযোগ মিলতে পারে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বদলি নেমে গোলের অ্যাসিস্ট করেছিলেন আমিরি। ফলে তার দাবি শক্তিশালী।

আক্রমণভাগে নাগেলসমানের সামনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিকল্প ডেনিজ উনদাভ। দুই ম্যাচেই বদলি নেমে তিন গোল করেছেন তিনি। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এমন পারফরম্যান্সের পরও যদি তিনি বেঞ্চে থাকেন, সেটি বিস্ময়কর হবে। অনেকের ধারণা, এবার কাই হাভার্টজের বদলে উনদাভকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। ডান প্রান্তে লেরয় সানের জায়গায় জেমি লেওয়েলিং সুযোগ পেতে পারেন। বিশ্বকাপ অভিষেকে তিনি ইতিবাচক ছাপ রেখেছেন। অন্যদিকে ম্যাক্সিমিলিয়ান বেয়ার ও নিক ভল্টেমাডের মতো খেলোয়াড়রাও অপেক্ষায় আছেন নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর।

তবে প্রতিপক্ষ একুয়েডরের জন্য এটি কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। টুর্নামেন্টে আসার আগে তারা ছিল ১৯ ম্যাচ অপরাজিত। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পর দ্বিতীয় হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে সেই ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে দলটি। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার, এরপর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ২৮টি শট নিয়েছিল, গোলের দেখা পায়নি। এক পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন তৃতীয় স্থানে। নকআউটে উঠতে হলে জার্মানিকে হারানোর বিকল্প নেই। ফলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে বাধ্য হবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। আর সেটিই জার্মানির জন্য নতুন এক পরীক্ষা তৈরি করতে পারে।

কারণ জার্মানি দুই ম্যাচে জয় পেলেও রক্ষণে কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ সামলাতে কয়েকবার সমস্যায় পড়েছে তারা। শ্লটারবেকের অনুপস্থিতিতে সেই দুর্বলতা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে কিনা, সেটিও দেখার বিষয়।