যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দ্বিতীয় রাউন্ডে এলিটদের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশও। সম্প্রতি দুই লেগের খেলায় মালদ্বীপকে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় হারানোর কৃতিত্ব দেখায় হাভিয়ের কাবরেরার দল। মালেতে প্রথম লেগের খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। 

এ জয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে গেল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে। সেখানে ‘আই’ গ্রুপে বাংলাদেশকে খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনের মতো তিন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। তিনটি দলই ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশ যেখানে ১৮৯ নম্বরে, সেখানে অস্ট্রেলিয়া ২৭, ফিলিস্তিন ৯৭ ও লেবানন ১০১ নম্বরের দল। অস্ট্রেলিয়া গত বছর কাতারের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলেছে এবং তারা বিশ্বকাপে প্রায় নিয়মিত দল। কাতার বিশ্বকাপে তো তিউনিসিয়া ও ডেনমার্কের মতো দলকে হারিয়ে তারা শেষ ষোলোয়ও খেলেছে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কাছে হার মানে অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে (২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত) দ্বিতীয় রাউন্ডে দুই লেগের খেলায় অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়ে যথাক্রমে ৫-০ ও ৪-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সামনে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবু দ্বিতীয় রাউন্ডে ছয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তির।  বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আনন্দে বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা বলেন, ‘এমন লড়াই প্রত্যাশিত ছিল। জমজমাট লড়াই হয়েছে। শক্তিশালী একটা দলের বিপক্ষে খুবই আঁটসাঁট একটা ম্যাচ হলো। মানসম্পন্ন ফুটবল খেললাম আমরা, বিশেষ করে মাঝমাঠে ও আক্রমণভাগে। ছেলেরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়াকু ফুটবল খেলেছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ইতিবাচক ফল এসেছে। এখন আমাদের সামনে গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ।’

২০২২ বিশ্বকাপেও দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। সেবার প্রথম রাউন্ডে লাওসকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে লাল-সবুজরা। ‘ই’ গ্রুপে কাতার, ওমান, আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টেবিলের একেবারে তলানিতে থেকে মিশন শেষ করে বাংলাদেশ। ৮ ম্যাচ খেলে ৬টি হার ও দুটিতে ড্র করেন জামাল ভূঁইয়ারা।

এবার বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডের বৈতরণী পার হয়েছে পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, চাইনিজ তাইপে, মিয়ানমার, হংকং, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়া। 

বাছাই পর্বের প্রথম রাউন্ডে ২০টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দুই লেগের এ লড়াই শেষে ১০টি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে মোট ৩৬টি দল ৯টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে এবং প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল (মোট ১৮টি) উঠবে তৃতীয় রাউন্ডে। সেখানে তিনটি গ্রুপে খেলবে ছয়টি করে দল। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে এবং এর পরের দুটি করে দল চতুর্থ রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। চতুর্থ রাউন্ড থেকে দুটি দল পাবে বিশ্বকাপে টিকিট, আর প্লে-অফের জন্য একটি দল চূড়ান্ত হবে। 

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলবে মোট ৪৮টি দল। বাছাই পর্ব শেষে বিশ্বকাপের মূল লড়াই। স্বাগতিক ৩টি দেশ ছাড়া বাকি ৪৫টি দেশ আসবে বাছাই পর্ব পেরিয়ে। এশিয়া মহাদেশ (এএফসি) থেকে সরাসরি ৮টি ও আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলে আরো একটি দলের বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।