এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৬ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এদিন নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করেন বাংলাদেশ। জবাবে ভারত ৪৯.৫ ওভারে অলআউট হয় ২৫৯ রানে। ফলে ৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ।
শুক্রবার শ্রীলংকার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে
এশিয়া কাপের ১৬তম আসরের ১২তম ম্যাচে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ।
এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫.৪ ওভারে
মাত্র ২৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে টাইগাররা।
ভারতীয় তারকা পেসার মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড
হয়ে ফেরেন লিটন কুমার দাস। একই অবস্থা তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। তিনি শার্দুল
ঠাকুরের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। ৩.১ ওভারে ১৫ রানে ফেরেন দুই ওপেনার। সুযোগ পেয়েও সুবিধা
করতে পারেননি জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে যাওয়া তারকা ওপেনার এনামুল হক বিজয়। তিনি ফেরেন
১১ বলে মাত্র ৪ রানে।
দলীয় ৫৯ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন
মিরাজ। তার আগে ২৮ বলে এক বাউন্ডারিতে ১৩ রান করেন এই অলরাউন্ডার।
আরো একবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অল্পতেই গুটিয়ে
যাবে বাংলাদেশ, শঙ্কা ছিল তেমন। কিন্তু সাকিব আল হাসান আর তাওহিদ হৃদয় দলকে বাঁচালেন
বড় বিপদ থেকে। তাদের শতরানের জুটি আর শেষদিকে লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে
৮ উইকেটে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
৮৫ বলে ৮০ রান করেন সাকিব। ৮১ বলে ৫৪ করেন
হৃদয়। নাসুম ৪৫ বলে ৪৪ আর ২৩ বলে ২৯ রান করেন মেহেদী হাসান।
২৬৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৭ রানেই
২ উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায় ভারত। রোহিত শর্মা ও তিলক ভার্মাকে ফেরান তরুণ
পেসার তানজিদ হাসান সাকিব।
এরপর তৃতীয় উইকেটে ৮৭ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন
শুভমান গিল ও লোকেশ রাহুল। এই জুটির বিচ্ছেদ ঘটান মেহেদি হাসান। তার শিকার হয়ে ফেরেন
লোকেশ রাহুল।
এরপর ভারতীয় শিবিরে চতুর্থ আঘাত হানেন মেহেদি
হাসান মিরাজ। তার শিকার হয়ে ফেরেন ইশান কিশান। ৯৪ রানে ৪ উইকেট পতনের পর সূর্যকুমার
যাদবকে সঙ্গে নিয়ে ৫৫ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন শুভমান গিল। সূর্যকুমারকে আউট করে জুটি
ভাঙেন সাকিব।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের শিকার হওয়ার আগে ৩৪
বলে তিন বাউন্ডারিতে ২৬ রান করেন সূর্যকুমার। তার বিদায়ে ৩২.৪ ওভারে ১৩৯ রানে পঞ্চম
উইকেট হারায় ভারত।
মোস্তাফিজের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মিস
করেন রবিন্দ্র জাদেজা। বল গিয়ে সোজা আঘাত হানে স্টাম্পে। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে
ফেরেন রবিন্দ্র জাদেজা। তার আগে ১২ বলে করেন ৭ রান।
ব্যাটসম্যানদের এই আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম
ছিলেন শুভমান গিল। তিনি ইনিংসের শুরু থেকেই একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের
দুয়ারে নিয়ে যান। জয়ের জন্য শেষ দিকে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৩৮ বলে ৫৭ রান। খেলার এমন
অবস্থায় মেহেদি হাসানের শিকার হয়ে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন শুভমান গিল।
তার আগে ১২৮ বলে ৮টি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেন।
শুভমান গিল আউট হওয়ার পর শার্দুল ঠাকুরের সঙ্গে
২৮ বলে ৪০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান অক্ষর পাটেল। জয়ের জন্য শেষ ১২
বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। মোস্তাফিজের করা ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে
গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন শার্দুল ঠাকুর। তার আগে ১৩ বলে ১১ রান করেন তিনি।
জয়ের জন্য শেষ ১১ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৭
রান। ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পরের বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন অক্ষর
প্যাটেল। ৪৯.৫ ওভারে রানআউট হন মোহাম্মদ শামি। ২৫৯ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। ফলে ৬ রানের
জয় নিয়ে এশিয়া কাপ শেষ করল বাংলাদেশ।










