বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা ছিল। কেপ ভার্দের বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই যেন সব জবাব দিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। গতকাল রাতে আটলান্টায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরো জোরালো করল স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। চতুর্থ মিনিটেই দূরপাল্লার শটে প্রতিপক্ষকে সতর্কবার্তা দেন তিনি। এরপর একের পর এক আক্রমণে সৌদি রক্ষণকে চাপে রাখে স্প্যানিশরা। দশম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত এক নিচু ক্রস পাঠান মিকেল ওইয়ারসাবাল। পেছনের পোস্টে দৌড়ে গিয়ে সহজ টোকায় বল জালে জড়ান ইয়ামাল। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের পাশাপাশি ইতিহাসেও নাম লেখান তিনি। ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপের অষ্টম কনিষ্ঠতম গোলদাতা হয়েছেন বার্সেলোনার এ তারকা।
প্রথম গোলের পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। ২১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওইয়ারসাবাল। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে কাছ থেকে বল জালে পাঠান তিনি। মাত্র আড়াই মিনিট পর আবারো গোল করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। এবার দানি ওলমোর হেড থেকে পাওয়া বল পেছনের পোস্টে ঠেলে দিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। ২৪ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
প্রথমার্ধজুড়ে সৌদি আরব প্রায় অসহায় ছিল। সালেম আল-দাওসারিরা মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও স্পেনের রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে ওইয়ারসাবাল বিরতির আগেই হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। ৩৬তম মিনিটে তার চমৎকার চিপ শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
বিরতিতে কোচ দে লা ফুয়েন্তে সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেন। গোলদাতা ইয়ামাল ও ওইয়ারসাবালকে তুলে নেন তিনি। তাদের জায়গায় মাঠে নামেন ফেরান তোরেস ও ইয়েরেমি পিনো। দ্বিতীয়ার্ধের তিন মিনিটের মাথায় আসে চতুর্থ গোল। মার্ক কুকুরেয়ারার শট প্রথমে ঠেকান সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস। ফিরতি বলে রক্ষণ সামলাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন ডিফেন্ডার হাসান আল-তামবাকতি। গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও থামেনি স্পেন। পেদ্রো পোরো, ফেরান তোরেস ও পেদ্রিরা আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেন।
৬০তম মিনিটে সৌদি মিডফিল্ডার মোহাম্মদ কান্নো রদ্রির সঙ্গে দ্বৈরথে কনুই ব্যবহার করায় হলুদ কার্ড দেখেন। কয়েক মিনিট পরই দলকে সতেজ রাখতে একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তন আনেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। দানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনার জায়গায় মাঠে নামেন নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনো। সৌদি আরবও কয়েকটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ৬৫তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে স্পেন। মেরিনোর নিখুঁত থ্রু পাসে রক্ষণভেদ করে এগিয়ে যান ফেরান তোরেস। তবে ভালো অবস্থান থেকেও শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। ৬৮তম মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতির সময় স্পেন তাদের শেষ পরিবর্তনটি করে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা পেদ্রির জায়গায় মাঠে নামেন ফাবিয়ান রুইস।
ম্যাচের শেষ দিকে সৌদি আরব কিছুটা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে, যদিও তাতে ফল মেলেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দেন ফেরান তোরেস। যদিও গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
এ জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই পায়নি স্পেন, ফিরে পেয়েছে আত্মবিশ্বাসও। বিশ্বকাপে টানা ২৯৪ মিনিট গোলহীন থাকার হতাশাজনক ধারাও ভেঙেছে তারা। ইয়ামাল ও ওইয়ারসাবালের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আটলান্টায় নিজেদের শিরোপার দাবিটা আরো জোরালো করল লা রোজা।










