সাকিব
আল হাসান বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক বিতর্কিত চরিত্র। সবচেয়ে খ্যাতিমান খেলোয়াড়, শীর্ষ
পারফরমার, বিতর্কেও নাম্বার ওয়ান। মাঝেমধ্যেই ক্রিকেট ট্যুরে থাকা অবস্থায় দল ছেড়ে
দেশে এসে শোরুম উদ্বোধন করা, কখনোবা খুনের আসামির স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন করতে গিয়ে
সমালোচনার মুখে পড়া কিংবা পুঁজিবাজারের বিতর্কিত ব্যক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা—এসব
কারণে প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হন সাকিব।
তিনি
আবারও তুমুল আলোচনায়। ক্রিকেটের এই তারকা এখন যে রাজনীতির ময়দানেরও তারকা। আসন্ন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য
দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবেই রাজনীতিতে ‘অভিষেক’ ঘটল তার। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান
অধিনায়ক তিনি। এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে নামছেন। নৌকার মাঝি হতে ঢাকা-১০,
মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ এই তিনটি আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন। অবশেষে তাকে
মাগুরা-১ আসন থেকে মনোনয়ন দিল আওয়ামী লীগ। রোববার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করেন দলের
সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গত
২১ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন সাকিব। গত
কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, সাকিব ঢাকা-১০ কিংবা মাগুরা-১ আসনে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন।
সেই গুঞ্জন সত্যি হলো। তাকে নিজ জেলা থেকেই মনোনয়ন দেয়া হলো। সাকিবকে মনোনয়ন দিতেই
ছেঁটে ফেলা হলো বর্তমান সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরকে।
আলোচনায় আসার কারণ সাকিব এখনো জাতীয় দলে খেলছেন এবং তিনি অধিনায়ক, আর দলের সেরা খেলোয়াড়ও। ৩৬ বছর বয়সী সাকিবের নেতৃত্বেই সদ্যই ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ। তিনি ৬৬টি টেস্ট, ২৪৭টি ওয়ানডে ও ১১৭টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশ দলের হয়ে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি২০ লিগে নিয়মিত মুখ।
যেমন,
শনিবার রাতে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) পক্ষ থেকে এক টুইট (এক্স) করে জানানো
হয়, তিনি এবারের আসরের ড্রাফটে আছেন সর্বোচ্চ গ্যাটাগরিতে। প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে
থাকা সাকিব দল পেলেই প্রায় দেড় কোটি টাকা পাবেন।
এই
খুশির খবর আসার পরদিনই তিনি পেলেন আরো বড় এক খবর। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এই
ক্রিকেট তারকা এবার লড়তে যাচ্ছেন সংসদ নির্বাচনে।
দেশে
কিংবা বিদেশে খেলার অঙ্গন থেকে রাজনীতির মাঠে নামার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়।
ক্রিকেটেও এটি নতুন কিছু নয়। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ইমরান
খান তো পরবর্তীতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন
সাবেক ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার জর্জ উইয়াহ।
বাংলাদেশেও
নজির আছে। সদ্য সাবেক ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা বর্তমান সংসদের সদস্য। সাবেক
টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়ও সংসদ সদস্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে।
এবার আরেক খ্যাতিমান ক্রিকেটার সংসদে যাওয়ার পথে এক পা দিয়ে রাখলেন।
বর্তমান
খেলোয়াড় হয়েও সাকিবের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন সাবেকরা।
অধিনায়ক রকিবুল হাসানকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যেকোনো লোকের নির্বাচন
করার অধিকার আছে। যেকোনো কিছুই সে করতে পারে। তবে আমি আশা করেছিলাম, আরেকটু পরে
হলে ভালো হতো। সাকিব যেহেতু এখনো ক্যাপ্টেন। তবে এরপর তো আবার পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে
হবে। হয়তো এ কারণে সে নাম লেখাল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে তার এলাকা থেকেই
মনোনয়ন দিল, তার জনপ্রিয়তাটা কাজে লাগাতে চাইবে।’
একটু
আগেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কিছুটা ক্ষতি হলো কিনা? রকিবুল
এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ওইভাবে ক্রিকেটে মনোযোগী হতে কি আর পারবে। সংসদ সদস্য হলে
তাকে তো ওইদিকেই মনোযোগ দিতে হবে। তবে সে অনেক উঁচু মানের খেলোয়াড়। সে যদি নিজেকে
ব্যালেন্স করে, তবে হয়তো পারবে। তবে এটা খুবই কঠিন হবে। এতটা সহজ হবে না। ক্ষতি তো
হবেই। ক্রিকেটে তার সার্ভিসটা তো আমরা তখন পাব না। সে জনগনকে সময় দেবে। তখন আর
ক্রিকেটে সময় দিতে পারবে না। তবে প্রত্যেকটা মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা
থাকে, পছন্দ থাকে।’
স্বাধীনতার
পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা বলেন, ‘সে এখনো অনেক ইয়াং।
তিন তিনজন ক্রিকেটার নিয়ে গেল। পাপন (নাজমুল হাসান পাপন, বিসিবি সভাপতি) আছে। কাজেই,
ওখানে তো ছোটখাট ক্রিকেট বোর্ড হয়ে যাবে।’
বিতর্কিত
চরিত্র হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে সাকিবের সমালোচনা করলেও রাজনীতিতে সাকিবের উজ্জ্বল
ভবিষ্যতই দেখেন হীরা। তিনি বলেন, ‘এমপি তো বেশ আকর্ষণীয় পদ। হয়তো পরে সে ক্রীড়া
মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীর মতো কোনো দায়িত্বও পেয়ে যাবে।’
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক ক্রিকেটার বলেন, ‘সাকিবের অনেক টাকা-পয়সা। আমার মনে হয়,
সে এখানে অনেক টাকা বিলাবে।’
সাকিব
কি পারবেন ক্রিকেটের বিতর্ক মুছে রাজনীতিতে স্বচ্ছ্ব ভাবমূর্তি তৈরি করতে?










