এশিয়া কাপে আজ রোববার আফগানিস্তানের বিপক্ষে নকআউটে রূপ নেয়া ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে রেকর্ড ৩৩৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার ম্যাচে ৬৩ রানে দুই উইকেট পতনের ১৯০ বলে ১৯৪ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে দেন মিরাজ ও শান্ত। মিরাজ ১১৯ বলে ১১২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন, আর শান্ত রানআউটের শিকার করে সেঞ্চুরির পরপর (১০৫ বলে ১০৪ রান)। ৫০ ওভারশেষে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৩৪/৫।

 

ওয়ানডেতে এটাই আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৩৩১ রান এসেছিল গত জুলাই মাসে, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। সব মিলে ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ পেল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে চট্টগ্রামে ৪ উইকেটে ৩০৬ রান তুলেছিল টাইগাররা।  

 

আজ বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন নাঈম শেখ। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ইনিংসের শুরু থেকেই দারুণ খেলছিলেন তিনি। দশম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান তিনি। ৫ বাউন্ডারিতে ঝলমলে ইনিংসটা সাজিয়েছেন বামহাতি এই ব্যাটার। যদিও মুজিব উর রহমানের অফস্ট্যাম্পের বাইরে পড়া বলটি তাকে পরাস্ত করে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়।

 

এর তিন বল পর আরেক উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। গুলবাদিন নায়েবের বলে স্লিপে হাশমতউল্লাহ শহিদিকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান তৌহিদ হৃদয়। দুই বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি।


 

এরপর ওপেনার মিরাজের সঙ্গে যোগ দেন শান্ত। দারুন ফর্মে থাকা শান্ত গত ম্যাচে দলের দুঃসময়ে করেছেন ৮৯ রান। আজও হাসল তার ব্যাট। করলেন সেঞ্চুরি। লোয়ার অর্ডার থেকে উঠিয়ে ওপেনিংয়ে নামানো মিরাজ সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন। ৬৫ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি। এরপর সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১১৫ বলে। শান্ত ফিফটি করেন ৫৭ বলে। এরপর সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১০১ বলে। দুজন ১১৭ বলে ১০০ রান যোগ করেন। পরের ৯৪ রান করেন ৭৩ বলে।

 

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পান মিরাজ। গত বছর মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন প্রথম সেঞ্চুরি। শান্তও করেছেন দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি।  

 

আজ বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন এসেছে। ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম, অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান ও পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় দলে এসেছেন ব্যাটার শামীম হোসেন, ব্যাটার আফিফ হোসেন ও পেসার হাসান মাহমুদ। ওয়ানডে অভিষেকে ৬ বলে ১১ রান করে রানআউটের শিকার হন শামীম।

 

শেষ দিকে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও সাকিবের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত হয়। মুশফিক ১৫ বলে ২৫ ও সাকিব ১৮ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন। মুশফিক রানআউটের শিকার হন।  

  

পাল্লেকেলেতে প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে ৫ উইকেটে হেরে বিপাকে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। আজ তাই জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে। জিতলে সুপার ফোরে ওঠার সম্ভাবনা টিকে থাকবে, হারলে বিদায়।