পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মাটিতে যৌথভাবে ষোড়শ এশিয়া কাপ ক্রিকেট শুরু হচ্ছে বুধবার। পাকিস্তানের মুলতানে এদিন আসরের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে নবাগত নেপাল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে।  

 

এশিয়া কাপে নেপালের অভিষেক ঘটছে বুধবার। সেই সঙ্গে যেকোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে দলটি। সব মিলে, দিনটি নেপালের জন্য উদযাপনের, গৌরবের।

 

এশিয়ার ক্রিকেটে একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে উঠে আসছে নেপাল। গত এপ্রিল-মে মাসে নিজেদের দেশে অনুষ্ঠিত এসিসি মেন’স প্রিমিয়ার কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েই তারা এশিয়া কাপের টিকিট পায়। ফাইনালে নেপালিরা হারায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে।

 

২০১৮ সালে ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়া নেপাল বর্তমানে এই ফরম্যাটের র‍্যাংকিংয়ে রয়েছে ১৫ নম্বরে। উন্নতির যে ধারায় রয়েছে নেপাল তাতে নিঃসন্দেহ ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে খেলবে তারা। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১৪টি দেশ।

 

অন্যদিকে, আসরের মূল স্বাগতিক পাকিস্তান এই আসরে মাত্র দুটি হোম ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। একটি বুধবার, অন্যটি তারা সুপার ফোরে উঠতে পারলে। পাকিস্তানের মাটিতে ভারতীয় দল খেলতে অস্বীকৃতি জানালে হাইব্রিড মডেলের সাহায্য নিতে হয় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে (এসিসি)। ভারত তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ও সুপার ফোরের ম্যাচ খেলবে শ্রীলংকার মাটিতে।  

 

মুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার পর্দা উঠবে ষোড়শ এশিয়া কাপের। এই ম্যাচে  নেপালকে আতিথ্য দেবে বাবর আজমের পাকিস্তান। ‘এ’ গ্রুপে পাকিস্তান তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে শ্রীলংকার পাল্লেকেলেতে ২ সেপ্টেম্বর। অন্যদিকে, ‘বি’ গ্রুপে আগামীকাল পাল্লেকেলেতে স্বাগতিক শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান যেতে হবে সাকিব আল হাসানের দলকে।

 

দুই গ্রুপ থেকে দুটি করে দল উঠবে সুপার ফোর পর্বে। সেখান থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি উঠবে ফাইনালে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ফাইনাল।

 

এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ সাতবার শিরোপা জিতে সবচেয়ে সফল দল ভারত (ছয়টি ওয়ানডে ও একটি টি২০ আসর)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়টি শিরোপা (পাঁচটি ওয়ানডে ও একটি টি২০) জিতেছে শ্রীলংকা। পাকিস্তান দুবার মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

 

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি। মোট তিনবার ফাইনাল খেলেছে টাইগাররা, তিনবারই রানার্সআপ হয় তারা। ২০১২ সালের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে এবং ২০১৬ ও ২০১৮ আসরের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।

 

শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে কৃতী ব্যাটার লিটন দাসকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তিনি জ্বরে ভুগছেন। সুস্থ হয়ে উঠতে না পারায় এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে তার খেলা হবে না। জ্বর সেরে না ওঠায় আজ মঙ্গলবারও কলম্বো রওনা দিতে পারেননি লিটন। প্রথম ম্যাচে লিটনকে ছাড়াই খেলতে হবে বাংলাদেশকে, সংবাদমাধ্যমকে এটা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন।

 

লিটন না থাকায় প্রথম ম্যাচে নবাগত ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেকের সম্ভাবনা তৈরি হলো। তিনি ওপেন করবেন নাঈম শেখের সঙ্গে। নাঈম মাত্র ৪টি ওয়ানডে খেলেছেন। তরুণ বাঁহাতি তানজিদের এখনো অভিষেক হয়নি। যদিও শ্রীলংকায় সম্প্রতি খেলে যাওয়ার অভিজ্ঞা আছে দুজনেরই। ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে ১১৬.৯৯ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ রান করেন তানজিদ, নাঈম করেন ৯৯.২০ স্ট্রাইক রেটে ১২৫ রান।

 

 

এশিয়া কাপে ৬ দলের স্কোয়াড

বাংলাদেশ: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ. হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদী হাসান, নাঈম শেখ, শামীম হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিব।

 

ভারতীয়: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমান গিল, ইশান কিশান (উইকেটকিপার), বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, কেএল রাহুল, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া (সহ-অধিনায়ক), রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, শারদুল ঠাকুর, জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কুমার। রিজার্ভ: সানজু স্যামসন।

 

পাকিস্তান: বাবর আজম (অধিনায়ক), আব্দুল্লাহ শফিক, ফখর জামান, ইফতিখার আহমেদ, ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ হারিস, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল, শাদাব খান, আগা সালমান, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম, হারিস রউফ, নাসিম শাহ, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও উসামা মির।

 

নেপাল: আরিফ শেখ, আসিফ শেখ, দিপেন্দ্র সিং আইরি, কুশল ভুর্টেল, অর্জন সাউদ, ভিম শরকি, রোহিত পাউডেল, করন কেসি, কুশল মাল্লা, প্রতীস জিসি, সোমপাল কামি, গুলশান ঝা, সন্দিপ লামিচানে, ললিত রাজবংশী, মৌসুম ঢাকাল, সুন্দীপ জোরা, কিশোর মাহাতো।

   

আফগানিস্তান: হাশমতউল্লাহ শহিদি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, মুজিব-উর-রহমান, ইব্রাহিম জাদরান, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, রিয়াজ হাসান, রহমত শাহ, ফজলহক ফারুকি, গুলবাদিন নাইব, নাজিবুল্লাহ জাদরান, করিম জানাত, নুর আহমেদ, আব্দুল রহমান, শরফউদ্দিন আশরাফ, সেলিম সাফি ও ইকরাম আলিখিল।

 

শ্রীলংকা: দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), পাথুম নিশাঙ্কা, দিমুথ করুনারত্নে, কুশল পেরেরা, কুশল মেন্ডিস, চারিথ আসালঙ্কা, সাদিরা সামারাবিক্রমা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, দুশান হেমন্ত, দুনিথ ভেলালাগে, মহেশ থিকশানা, প্রমোদ মাদুশান, কাসুন রাজিথা, দিলশান মধুশঙ্কা, মাথিশা পাথিরানা।