জয়ের ধারায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দারুণ ছন্দে থাকা নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশ। কিউইদের বিপক্ষে টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে তিন সিনিয়রের কাঁধে ভর করে ২৪৫ রানে থামল বাংলাদেশ। এ ম্যাচ জিততে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ২৪৬ রান। ব্যাট হাতে মুশফিকের ৬৬ রানের পর শেষদিকে ৪৯ বলে ৪১ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এছাড়া সাকিব আল হাসান ৪০ ও মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৩০ রান। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে কিউইদের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করে ২৪৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। 

এদিন বাংলাদেশের শুরুটা হলো দুঃস্বপ্নের মতো। সেই ব্যাটিং বিপর্যয়, সেই পুরোনো চেহারায় বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে ৫৬ রান তুলতেই একে একে সাজঘরের পথ ধরছেন টপ অর্ডারের চার ব্যাটার। ইনিংসের প্রথম বলেই ই ট্রেন্ট বোল্টকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু শটটি ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। ডিপ ফাইন লেগে দাঁড়ানো ম্যাট হেনরির কাছে গেছে ক্যাচ। ‘গোল্ডেন ডাক’ হয়ে সাজঘরের পথ ধরলেন লিটন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও ব্যর্থ ছিলেন লিটন। মাত্র ১৩ রান করেছিলেন। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। আজ আউট হলেন প্রথম বলেই শূন্য রানে।

লিটনের পর ক্রিজে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তামিমকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। দারুণ শুরুও পেয়েছেন তানজিদ তামিম। তবে তা ধরে রাখতে পারলেন না। ৮ম ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে  স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তামিম (১৭ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ১৬)।

মেহেদী হাসান মিরাজ তিন নম্বরে নেমে বেশ রানের গতি সচল করেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩০ রানে তিনিও ভুল করে বসেন। ফার্গুসনকে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই অলরাউন্ডার। ৪৬ বলের ইনিংসে তিনি হাঁকান ৪টি বাউন্ডারি। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হয়েছেন সহজ এক বলে। গ্লেন ফিলিপস নিজেও হয়তো আশা করেননি এমন বলে উইকেট পেয়ে যাবেন। আলতো করে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে পথে হাঁটেন শান্ত (৮ বলে ৭)।

দলের এই বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিম। এ জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ। তবে পঞ্চম উইকেটে ১০৮ বলে তাদের ৯৬ রানের জুটিটি অবশেষে ভেঙে দেন লুকি ফার্গুসন। ৩০তম ওভারের চতুর্থ ফার্গুসনকে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সাকিব। পরের বলে আবার চড়াও হতে দিয়ে ভুল করে বসেন টাইগার অধিনায়ক। বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে তুলে বল তুলে দেন আকাশে। ৫১ বলে সাকিবের ৪০ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার আর ২টি ছক্কার মার।

এ প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরির আশা জেগেছিল মুশফিকের। কিন্তু তিনি পারলেন না। ম্যাট হেনরির স্লোয়ার ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হলেন টাইগার উইকেটরক্ষক। তার ৭৫ বলে ৬৬ রানের ইনিংসটি ছিল ৬ চার আর ২ ছক্কায় সাজানো। এরপর তাওহিদ হৃদয়ও সাজঘরে ফিরে গেছেন ২৫ বলে ১৩ রান করে। এতে  ৩৭.৫ ওভারে ১৮০ তুলতে ৭ উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা।এতে ৫০ ওভার খেলতে পারবে কিনা বাংলাদেশ সেই শঙ্কায় উঁকি দিচ্ছিল বারবার। তবে এমন সময় অষ্টম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তাসকিন আহমেদ মিলে ৪৩ বলে যোগ করেন মূল্যবান ৩৪ রান। ১৯ বলে ২ ছক্কায় তাসকিনের ১৭ করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

তবে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ বাকি সময় বলতে গেলে একাই টেনে নিয়ে গেছেন দলকে। ৪৯ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।নিউজিল্যান্ডের লুকি ফার্গুসন ৩টি আর ট্রেন্ট বোল্ট ও ম্যাট হেনরি নেন ২টি করে উইকেট।