অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে চলমান বিশ্বকাপেই নিজেদের গড়া সফল রানতাড়ার রেকর্ড ভাঙতে হতো পাকিস্তানের। ইমাম-শফিকের ফিফটি ও রিজওয়ানের ব্যাটিংয়ে সে পথে এগোচ্ছিল পাকিস্তানিরা। কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতায় সেটি যথেষ্ট না হওয়ায় ৬২ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অস্ট্রেলিয়ানরা।

শুক্রবার (২০ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৬৭ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৪৫.৩ ওভারেই ৩০৫ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানরা। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের পর উপমহাদেশের বাকি দুই পরাশক্তি শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার চারে উঠে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন একসঙ্গে দুই অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ লগ্নে প্রত্যাঘাত করেন পাকিস্তানের বোলাররা। একটা সময় ৩৮ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবুও দুই ওপেনারের দাপটে নির্ধারিত ৫০ ওভারে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া তুলে ৯ উইকেটে ৩৬৭ রান। বল হাতে একা লড়াই করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১০ ওভারে একটি মেডেন-সহ ৫৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন পাক পেসার।

জয়ের জন্য ৩৬৮ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা দারুণ হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া যেভাবে উদ্বোধনী জুটিতে দুরন্ত সূচনা এনেছিল, সেভাবেই পাকিস্তানকে শুরু থেকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন দুই ওপেনার আসাদুল্লাহ শফিক ও ইমাম উল হক। তাদের অর্ধশতকের ওপর ভর করে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিতে ২১ ওভারে ১৩৪ রান উঠে।

কিন্তু ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোয় গিলে ছন্দ হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। মার্কাস স্টয়নিসের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই শফিকের বিদায়ে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়।  সাজঘরে ফেরার আগে সাতটি বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ৬১ বলে ৬৪ রান করেন শফিক।

স্টয়নিসের করার পরের ওভারে ফিরে যান আরেক ওপেনার ইমামও। স্টয়নিসের শর্ট লেংথের বলে আপার কাট করেছিলেন ইমাম। কিন্তু টাইমিংয়ে তালগোল পাকানোয় স্কয়ারে সেই ক্যাচ তালুবন্দি করেন স্টার্ক। আউট হওয়ার আগে ১০টি চারে ৭১ বলে ৭০ রান করেন বাহাঁতি ওপেনার।

ক্রিজে নেমেই দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দুর্দান্ত কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বরাবরই জ্বলে ওঠা বাবর আজম। কিন্তু ইনিংসের ২৭তম ওভারে তার বিদায়ে পাকিস্তান সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায়। তিন বাউন্ডারিতে ১৪ বলে ১৮ রান করেছিলেন বাবর।

হুট করে ঝিমিয়ে পড়া পাকিস্তান ম্যাচে টিকে ছিল মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিলের জুটিতে। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ৫৭ রান। তবে ৩৫তম ওভারে কামিন্স এসে সেই জুটি ভেঙে দেন। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের বলে স্টয়নিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন পাঁচটি চারে ৩০ রান করা শাকিল।

আস্কিং রানরেট ক্রমে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন ইফতিখার আহমেদ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দারুণ এক ডিসিশন রিভিউয়ে কাটা পড়েন এ ডানহাতি ব্যাটার। ৩৮তম ওভারে জাম্পার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ইফতিখার। তিন ছক্কায় ২০ বলে ২৬ রান করেন তিনি। এক প্রান্ত আগলে পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রেখে অস্ট্রেলিয়ার পথের কাঁটা হয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। নিজের পরের ওভারে তাকেও এলডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জাম্পা।

রিজওয়ানের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার জয়টা শুধুই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ৩১ রানের মধ্যে পাকিস্তানের শেষ চার উইকেট তুলে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারে অজিরা। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের মধ্যে চার উইকেট নিয়ে সফলতম ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা। দুইটি করে উইকেট নেন কামিন্স ও স্টয়নিস। এছাড়া, মিচেল স্টার্ক ও জর্জ হ্যাজলউড নেন একটি উইকেট।