চলতি বছর মে মাসে দুই টেস্টের হোম সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০-তে হারানোর কৃতিত্ব দেখানো বাংলাদেশ দল এবার পথ হারাল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। বড় জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। সিরিজ বাঁচাতে এখন পরের ম্যাচ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। ৫ নভেম্বর সিলেটে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
স্বাগতিকরা গতকাল চতুর্থ দিন সকালে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় ১৭০ রানের সহজ টার্গেট। ২ উইকেট হারিয়ে এ টার্গেট ছুঁয়ে ফেলে রোস্টন চেজের দল। ব্র্যান্ডন কিং ১১৫ বলে ৮১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এছাড়া জন ক্যাম্পবেল ৪৯ ও কাভেম হজ ৩১ রান করেন।
দুই দলের সর্বশেষ ৭ টেস্টের মধ্যে এটা ক্যারিবীয়দের ষষ্ঠ জয়। ২০১৮ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে টানা দুই টেস্ট জয়ের পর টানা পাঁচ ম্যাচে হেরে যায় বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে জ্যামাইকা টেস্টে বাংলাদেশ জয় পায়। এবার মিরপুরে জয় তুলে নিল ক্যারিবীয়রা।
৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে গতকাল সকালে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। জাকের আলী ও নাঈম হাসান উভয়েই ১৮ রান নিয়ে আগের দিন অপরাজিত ছিলেন। মুমিনুল হকের জায়গায় ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে খেলা জাকের আলী দিনের প্রথম ওভারেই বিদায় নেন। স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানের করা ওভারের ষষ্ঠ বলে তিনি স্লিপে রোস্টন চেজকে ক্যাচ দেন (৮৪/৭)। এরপর হাসান মাহমুদকে নিয়ে ২৬, তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ১৭ ও শরিফুল ইসলামকে নিয়ে ১৫ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহটা দেড়শর কাছাকাছি নিয়ে যান স্পিনিং অলরাউন্ডার নাঈম হাসান। ৯১ বলে ৫২ রান করে তিনি চেজের শিকারে পরিণত হন। চেজ ও ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণির মুখে হার মেনে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ১৪২ রানে। স্বাগতিকদের ইনিংসের আয়ু ছিল ৪৮.৪ ওভার।
১৭০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল ওপেনিং জুটিতে ১১২ রান এনে দেয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয় নিয়ে আর ভাবতে হয়নি। ক্যাম্পবেল আউট হয়ে গেলেও কিং দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।
২৩ টেস্টের লড়াইয়ে এ নিয়ে ১৬ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারল বাংলাদেশ। বিপরীতে টাইগাররা জিতেছে ৫ ম্যাচে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এটা ছিল দুই দলের পঞ্চম লড়াই। এর মধ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজই জিতে নেয় চারটি ম্যাচ।
সব মিলিয়ে ২০০০ সালে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১৬৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ১১৫টিতে হেরেছে বাংলাদেশ, জয় এসেছে ২৮টি আর ড্র হয়েছে ২০টি ম্যাচ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এটা ছিল ৩১তম টেস্ট ম্যাচ। এর মধ্যে বাংলাদেশ হেরেছে ১৮টি, জয় পেয়েছে ১০ ম্যাচে আর ড্র হয় তিনটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২৭২ ও ১৪২ (নাঈম ৫২, জাকের ২২; চেজ ৫/৩৬, ওয়ারিক্যান ৪/৬৩)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৫ ও ১৭০/২ (কিং ৮১*, ক্যাম্পবেল ৪৯, হজ ৩১*; হাসান ১/১৪, শরিফুল ১/২০)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: জোমেল ওয়ারিক্যান (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।
সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০-তে এগিয়ে।










