বেঙ্গালুরুতে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে বোলিং নেয়া পাকিস্তান পেয়েছে ৩৬৮ রানের পাহাড়সম টার্গেট। বাবর আজমের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে অজিদের সংগ্রহ ১৭৬ বলেই দুশ ছাড়িয়ে যায়। ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ দুজনই পাকিস্তানের বোলারদের ওপর দিয়ে টর্নেডো বইয়ে দিয়ে তুলে নেন সেঞ্চুরি। বিনা উইকেটে ২৫৯ রান তোলার পর শেষ দিকে দারুণভাবে ফিরে আসেন পাকিস্তানের বোলাররা। এরপরও ৯ উইকেটে ৩৬৭ রান তুলে নেয়ার কৃতিত্ব দেখায় অজিরা।
এই বিশ্বকাপেই শ্রীলংকার
ছুড়ে দেয়া ৩৪৫ রানের টার্গেট সফলভাবে তাড়া করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে পাকিস্তান। আজ নিজেদেরই
গড়া সেই রেকর্ডটা নতুন করে লেখার চ্যালেঞ্জ বাবরদের সামনে। ২ ওভারে পাকিস্তান তুলেছে
১২/০।
পরপর দুই বলে সেঞ্চুরি
পূর্ণ করেন ওয়ার্নার ও মার্শ। নওয়াজের করা ৩১তম ওভারের চতুর্থ বলটি লং-অনে পাঠিয়ে এক
রান নিয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান ওয়ার্নার। ৮৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার। এটা তার ২১তম
ওয়ানডে সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে রান করতে ভালোবাসেন ওয়ার্নার। দলটির বিপক্ষে
টানা চার ম্যাচেই সেঞ্চুরি করলেন তিনি!
পরের বলে সুইপার কভারে
বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মার্শ। তিনি ঠিক ১০০ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি
তুলে নেন। আজ তার ৩৩তম জন্মিদিন। জন্মদিনে সেঞ্চুরি উদযাপন করলেন রডনি মার্শপুত্র।
ওয়ার্নার ১২৪ বলে ১৬৩
ও মার্শ ১০৮ বলে ১২১ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে রানসৌধ গড়ে দেন। ওয়ার্নার ১৪টি বাউন্ডারি
ও ৯টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। আর মার্শ ১০টি বাউন্ডার ও ৯টি ছক্কা হাঁকান।
শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি
(৫/৫৪) ও হারিস রউফ (৩/৮৩) দ্রুত অজিদের উইকেট তুলে নিলে সংগ্রহ চারশ হয়নি। শেষ ৫ ওভারে
২৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেয় পাকিস্তান। ২০৩ বলে বিনা উইকেটে ২৫৯ রান থেকে শেষ পর্যন্ত
৩৬৭/৯।
অন্যভাবে বললে, ৩০ ওভারশেষে
সংগ্রহ ছিল ২০৮/০। পরের ওভারে অজিরা তুলেছে ১৫৯/৯!
পঞ্চম ওভারে শাহিনের বলে
ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ওয়ার্নার। উসামা মির সেই ক্যাচ হাত থেকে ফেলে দেন। এরপর আরো ১৫৩
রান যোগ করেছেন ওয়ার্নার। হয়তো ম্যাচটাই ফেলে দেন উসামা।
৩৫তম ওভারের পঞ্চম বলে
উসামা মিরের স্পিনে স্লিপে ক্যাচ দেন স্মিথ। যদিও তা তালুবন্দি করতে পারেননি বাবর।
সহজ ক্যাচ হতে পারতো। স্মিথ অবশ্য ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। তিনি ৭ রান করে সাজঘরে
ফিরেছেন।
সহ-অধিনায়ক স্পিনার শাদাব
খানের ফর্মটা ভালো যাচ্ছিল না। এই ম্যাচে তাকে বসিয়ে রেখে পাকিস্তান একাদশে ফেরানো
হয়েছে উসামা মিরকে। অস্ট্রেলিয়া একাদশে কোনো পরিবর্তন নেই।
পাকিস্তান টানা দুই জয়ের
পর হেরেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া টানা দুই হারের পর
ফিরেছে জয়ে। আজ নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তান জিততে মরিয়া, অজিরাও থাকতে চায় জয়ের
ধারায়। এই সমীকরণ সামনে রেখে বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি র্যাংকিংয়ের
দুই ও চার নম্বর দল।
বিশ্বকাপে দশবারের দেখায়
অস্ট্রেলিয়া ৬-৪-এ এগিয়ে রয়েছে। দুই দলের ১০টি লড়াইয়ের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান ১৯৯৯
সালের ফাইনাল। সেবার লর্ডসে শেন ওয়ার্নের (৪/৩৩) ঘূর্ণি ম্যাজিক ছাড়াও গ্লেন ম্যাকগ্রার
(২/১৩) গতিঝড়ের কবলে পড়ে ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ছোট্ট টার্গেট তাড়া করতে নেমে
অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে (৩৬ বলে ৫৪) ভর করে ৬ উইকেটের জয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা
জিতে নেয় অজিরা।
সব মিলে ওয়ানডে ফরম্যাটে
অজিরাই কর্তৃত্ব করে এসেছে। ১০৭ বারের মোকাবেলায় তাদের ৬৯ জয়ের বিপরীতে পাকিস্তান জয়
পায় ৩৪ ম্যাচে।
পাকিস্তান একাদশ
আব্দুল্লাহ শফিক, ইমাম-উল-হক,
বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল, ইফতিখার আহমেদ, মোহাম্মদ নওয়াজ, হাসান আলী,
শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ, উসামা মির।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ
মিচেল মার্শ, ডেভিড ওয়ার্নার,
স্টিভ স্মিথ, মার্নুস লাবুশেন, জস ইংলিশ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, মিচেল
স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, অ্যাডাম জাম্পা, জস হ্যাজেলউড।










