বিশ্বকাপ ম্যাচ মানেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের আধিপত্য। সেটি আরেকবার প্রমাণিত চলতি আসরেও। অন্তত এক ইনিংস শেষে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ শনিবার টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা পাকিস্তান স্বাগতিকদের শক্ত বোলিংয়ের মুখে ১৯১ রানে গুটিয়ে গেছে।

 

ভারতের বোলিংয়ের কোনো জবাব জানা ছিল না পাকিস্তানি ব্যাটারদের। পেস ব্রিগেডে জশপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ, হার্দিক পান্ডিয়া এবং স্পিন অ্যাটাকে কুলদীপ যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজার নিখুঁত বোলিংয়ের সামনে বেসামাল হয়ে পড়ে বাবর আজমের দল। এই পাঁচ বোলারের প্রত্যেকেই নিয়েছেন সমান দুটি করে উইকেট।

 

উদ্বোধনী জুটিতে আব্দুল্লাহ শফিক ও ইমাম-উল-হক ৪১ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন। মোহাম্মদ সিরাজের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন আগের ম্যাচে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা শফিক (২০)। দ্বিতীয় উইকেটে ইমামকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করছিলেন বাবর। যদিও ইমাম ব্যক্তিগত ৩৬ রানে পান্ডিয়ার শিকার হন।

 

এরপর তৃতীয় উইকেটে বাবর (৫৮ বলে ৫০) ও মোহাম্মদ রিজওয়ান (৬৯ বলে ৪৯) দারুণ এক জুটিতে ম্যাচে ফেরান পাকিস্তানকে। যদিও বাবরকে বোল্ড করে ১০৩ বলে ৮২ রান তোলা এই জুটি ভাঙেন সিরাজ।  

 

এ সময় কুলদীপ, জাজেদা, বুমরাহদের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ের মুখে পরবর্তী ১৬ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তাতে স্কোরটা ১৫৫/২ থেকে দেখতে না দেখতেই হয়ে যায় ১৭১/৭। ৩৪তম ওভারের শেষ বলে বুমরাহ বোল্ড করেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রিজওয়ানকে। স্কোরটা শেষ পর্যন্ত ১৯১ রানে গিয়ে থেমে যায়।    

 

বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচে ৪২.৫ ওভার আয়ু ছিল পাকিস্তান ইনিংসের।

 

দুই চিরবৈরি দেশ ১৬ বছর টেস্ট সিরিজ ও ১০ বছর ওয়ানডে কিংবা টি২০ সিরিজে মুখোমুখি হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট দল সর্বশেষ পাকিস্তান সফর করেছে ২০০৬ সালে। প্রায় এক দশক হয়ে গেল দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও মুখোমুখি হয়নি। এরপরও বৈশ্বিক আসরে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের আবেদন এতটুকু কমেনি, যার প্রমাণ আহমেদাবাদের লড়াই নিয়ে সাজসাজ রব। ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সমাগম ঘটেছে আজ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।

 

ওয়ানডে ফরম্যাটে এগিয়ে পাকিস্তান। তারা ৭৩ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ৫৬ ম্যাচে। যদিও ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাতবারের মোকাবেলায় পাকিস্তানের কাছে কখনই হারেনি ভারত।

 

বিশ্বকাপে এই দ্বৈরথের সূচনা ১৯৯২ সালে। সেবার পাকিস্তান বিশ্বকাপ জিতলেও সিডনিতে গ্রুপ ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে ৪৩ রানে। এই ধারা পরে চলতেই থাকে। বিশ্বকাপে পরের সব ম্যাচেই হেরে যায় পাকিস্তান। ১৯৯৬ সালে ৩৯ রানে, ১৯৯৯ সালে ৪৭ রানে, ২০০৩ সালে ৬ উইকেটে, ২০১১ সালে ২৯ রানে, ২০১৫ সালে ৭৬ রানে ও ২০১৯ সালে ডিএলএস মেথডে ৮৯ রানের জয় পায় ভারত।