আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ভারত মিশনের শুরুটা রাঙাল সাকিব আল হাসানের দল। এ জয়ের মধ্য দিয়ে টানা তিন বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে টাইগাররা। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের ব্যবধান ১০৫ রান, ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জয়ের ব্যবধান ২১ রানে এবং চলতি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেট হারিয়েছে সাকিববাহিনী।
আজ (শনিবার) ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৭ ওভার ২ বলে ১৫৬ রান তুলে অলআউট হয় আফগানিস্তান। তাদের ছুঁড়ে দেয়া ১৫৭ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশও। ১৫৭ রান তাড়া করতে নেমে ২৭ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। তবে এরপরে দলের হাল ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ দুজনের ৯৭ রানের জুটিতে ৯২ বল বাকি থাকতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে এখন এটিই সবচেয়ে বেশি বল বাকি রেখে জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশের। আগের রেকর্ড ছিল ৫২ বলের, ২০১১ সালে চট্টগ্রামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।
শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। প্রথমে দুর্ভাগ্যের শিকার হলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। একটি রান নেয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নজিবুল্লাহ জাদরানের সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট হয়ে যান। ১৩ বলে ৫ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি তখন দলীয় রান ছিল ১৯। লিটন দাসের ওপর প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হলেন। ইনিংসের সপ্তম ওভারের ৪র্থ বলে ফজল হক ফারুকির বলে বোল্ড হয়ে গেলেন। কভার অঞ্চল দিয়ে মারার জন্য শট খেললেন। কিন্তু বল ভেতরের কানায় লেগে গিয়ে হিট করলো স্ট্যাম্পে। বোল্ড হয়ে গেলেন তিনি। দলীয় রান তখন ছিল ২৭।
এরপর জুটি বেঁধেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। দু’জন মিলে চেষ্টা করছেন বিপর্যয় থামানোর। যদিও এরই মধ্যে একবার লাইফ পেয়েছিলেন মিরাজ। ১৬ রানের মাথায় পয়েন্টে তার ক্যাচ ছেড়েছিলেন আফগান ফিল্ডার নজিবুল্লাহ জাদরান। ২৩ রানে নভিনের বলে ফের জীবন পেলেন মিরাজ। এবার শর্ট বলে একটু লাফিয়ে উঠে আপার কাট করেছিলেন মিরাজ। ডিপ থার্ডে থাকা মুজিব ডানদিকে ছুটে বলের নাগাল পেয়েছিলেন ভালোভাবেই। তবে দুই হাত না বাড়িয়ে একটি বাড়িয়েছিলেন তিনি। হাতে পড়লেও আটকায়নি বল। মিরাজ দ্বিতীয় দফা জীবন পেয়েছেন। দুইবার জীবন পাওয়ার সুযোগ নিয়ে মুজিবের বলে লং অনে খেলে নেওয়া সিঙ্গেলে ৫৮ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি পূর্ণ করেছেন এ অলরাউন্ডার। তবে বেশিদূর যেতে পারে নি মিরাজ। নভিনকে মিড অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে দারুণভাবে লাফিয়ে উঠে ক্যাচ নিয়েছেন রহমত শাহ। মিরাজ থেমেছেন ৭৩ বলে ৫৭ রান করে।
মিরাজ থামলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শান্ত। নভিনের বলে চার মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররাই। সাকিব ও মিরাজ ছিলেন দুর্দান্ত। শুরুতে না হলেও পরে গিয়ে পেসাররা রেখেছেন ভালো অবদান।। সকালের হালকা ভেজা আবহাওয়ায় পেসাররা সুবিধা নিতে পারবেন বলেই ভেবেছিলেন তিনি। যদিও শুরুটা ছিল হতাশার। আফগানিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার রান করছিলেন।
সবকিছুই বদলে যায় সাকিবের এনে দেওয়া প্রথম উইকেটের পর, ইব্রাহিম জাদরানকে আউট করেন তিনি। ২৫ বলে ২২ রান করে তামিমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। পরের উইকেটও সাকিবের। এবার রহমত শাহ লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ২৫ বলে ১৮ রান করে। এরপর আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদিকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৮ রান করতে তিনি খেলেন ৩৮ বল।
ইনিংসের বাকি গল্পটুকু টাইগার বোলারদের। এক প্রান্ত আগলে রাখা রহমানউল্লাহ গুরবাজও খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে তাকে শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ব্যাটিং ধসের সেই শুরু। যে কারণে ৩ উইকেটে ১১২ রান থেকে আর মাত্র ৪৪ রানই যোগ করতে পারে আফগানরা। ৩৭.২ ওভার ১৫৬ রানে অলআউট। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব ও মিরাজ দুজনেই ঝুলিতে পুড়েন তিন উইকেট। এছাড়া শরিফুল দুটি, তাসকিন ও মোস্তাফিজ নেন একটি করে উইকেট।










