বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ
ও ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহৎ জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। আজ বুধবার দিল্লিতে বিশ্বকাপে
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডের দিন নেদারল্যান্ডসকে ৩০৯ রানের বিশাল
ব্যবধানে হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাদের ৩৯৯ রানের জবাবে ডাচরা মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে গিয়ে
লজ্জাজনক রেকর্ড গড়ে।
বিশ্বকাপে এর আগের বড়
জয়টিও ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ২০১৫ সালে পার্থে আফগানিস্তানকে ২৭৫ রানে হারায় অজিরা। আজ
তারা জিতল ৩০৯ রানে। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়টি ভারতের। ২০২৩ সালে কেরালায়
শ্রীলংকাকে ৩১৭ রানে হারিয়েছিল তারা। নেদারল্যান্ডসকে ৩০৯ রানে হারিয়ে তাদের পরেই জায়গা
পেল অস্ট্রেলিয়া। স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ৮ রানে চারটি ও পেসার মিচেল মার্শ ১৯ রানে
দুটি উইকেট নেন।
দিল্লিতে ৭ অক্টোবর শ্রীলংকার
বিপক্ষে ৪৯ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছিলেন দক্ষিণ
আফ্রিকার এইডেন মার্করাম। ১৮ দিন পর সেই রেকর্ড ভাঙলেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাক্সওয়েল। কাকতালীয়ভাবে
আজ সেই একই মাঠে মাত্র ৪০ বলে সেঞ্চুরি করলেন অজি মিডল অর্ডার ব্যাটার। তার দ্রুততম
সেঞ্চুরি ছাড়াও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৯৩ বলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেন ডেভিড ওয়ার্নার।
জোড়া সেঞ্চুরি ও জোড়া ফিফটিতে ভর করে ডাচদের বিপক্ষে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৯৯ রান তুলে
নেয় অজিরা।
বিশ্বকাপের দ্রুততম ও
ওয়ানডের চতুর্থ দ্রুততম সেঞ্চুরি করলেন ৩৫ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েল। ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে
দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সের। ২০১৫ সালে জোহানেসবার্গে
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের কোরি
অ্যান্ডারসন ৩৬ বলে ও পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদির ৩৭ বলে সেঞ্চুরির কীর্তি আছে। ওই তিনজনের
পরই নিজের নামটি লিখিয়ে নিলেন ম্যাক্সওয়েল। এটা ওয়ানডেতে ১৩৪ ম্যাচে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।
ওপেনিংয়ে নেমে ৯১ বলে
সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ওয়ার্নার। এটা তার ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি। এর আগে পাকিস্তানের
বিপক্ষেও করেন সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপে ষষ্ঠ ও সব মিলে ওয়ানডেতে ২২তম সেঞ্চুরি পেলেন ওয়ার্নার।
পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেক
সেঞ্চুরিয়ান মিচেল মার্শ আজ ৯ রান করে সাজঘরে ফেরার পর ওয়ার্নার দ্বিতীয় উইকেটে স্টিভ
স্মিথকে নিয়ে ১৩২ রান ও তৃতীয় উইকেটে মার্নুস লাবুশেনকে নিয়ে ৮৪ রানের জুটি গড়েন। উইকেটকিপার
জস ইংলিশ ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হন।
ছয় নম্বরে নামা ম্যাক্সওয়েলের
সঙ্গে ওয়ার্নারের জুটি এক রানের। ওয়ার্নার শিকার হন ফন বিকের (২৬৭/৫)। তখন খেলা বাকি
১১.৫ ওভারের। এটুকু সময়ের মধ্যেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অজিদের সংগ্রহটাও চারশ ছুঁই ছুঁই
করে দেন ম্যাক্সওয়েল। ফন বিকের বলে আউট হওয়ার আগে ৯ চার ও ৮ ছক্কায় মনোহরী ইনিংসটি
খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
আইপিএলের নিয়মিত মুখ হওয়ার
কারণে ভারতের স্টেডিয়ামগুলো তার হাতের তালুর মতোই চেনা। আজ সেটি তিনি প্রমাণও করলেন
চার-ছক্কার ফুরঝুরিতে।
ম্যাক্সওয়েলকে সুযোগ সঙ্গ
দেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। এ দুজন মাত্র ৪৪ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে কামিন্সের
অবদান মাত্র ৮, আর ম্যাক্সওয়েলের ৯১! এটাই প্রমাণ করছে, কতটা বিস্ফোরক ছিলেন ম্যাক্সওয়েল।
শেষ ১০ ওভারে ১৩১ রান
তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন মুম্বাইতে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ১০ ওভারে ১৪৪ রান তুলেছিল
দক্ষিণ আফ্রিকা।
স্মিথ ৬৮ বলে ৭১ ও লাবুশেন
৪৭ বলে ৬২ রান করেন। লোগান ফন বিক ৭৪ রানে চারটি ও বাস ডি লিডি ১১৫ রানে দুটি উইকেট
নেন। বাস ডি লিডি ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিংয়ের রেকর্ড গড়লেন। অস্ট্রেলিয়ার
পেসার মিক লুইস ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০ ওভারে ১১৩ ও একই দেশের স্পিনার
অ্যাডাম জাম্পা এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১৩ রান খরচ করেন।
ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার
কাছে হেরে এবারের বিশ্বকাপ আসরে অত্যন্ত বাজে সূচনা হয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। যদিও
এরপর ধীরে ধীরে ফিরে আসে প্যাট কামিন্সের দল। শ্রীলংকা ও পাকিস্তানকে টানা হারিয়ে তারা
ভালোভাবেই টিকে থাকে সেমির রেসে। আজকের জয়ের পর ৫ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা চতুর্থ
স্থান সংহত করল।










