গত মৌসুমের হতাশা ভুলিয়ে দিয়ে ২০২০/২১ মৌসুমটি দারুণভাবে শুরু করেছে বার্সেলোনা। ব্লুগ্রানারা প্রথম দুই ম্যাচে সাত গোল করেছে, বিপরীতে একটি গোলও হজম করেনি। ১৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আনসু ফাতির অনবদ্য ফর্ম আর লিওনেল মেসির অপরিমেয় উচ্চাভিলাসে বার্সা ছুটছে অনবদ্য গতিতে।
ফাতি রোববার ভিলারিয়ালের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল। সেই ফর্ম ধরে রেখে বৃহস্পতিবার রাতে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষেও গোল করেন। এবারো তিনিই ডেডলক ভাঙেন। ১১ মিনিটে ফাতির গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। এ গোলটি জাগিয়ে তোলে রোনাল্ড কোম্যানের দলকে। ৫১ মিনিটে লুকাস ওলাজার আত্মঘাতী গোলে বার্সা ব্যবধান ২-০ করে ফেলে। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সেল্টার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সের্জি রবার্তো।
আর্নেস্তো ভালভার্দের অধীনে গত মৌসুমের শেষ দিকে মূল একাদশে জায়গা পাওয়া ফাতিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। লা লিগায় গতকাল পেয়ে গেলেন নিজের দশম গোল। ৩১ অক্টোবরের আগে আর দুই গোল পেলে তিনি ভেঙে ফেলবেন পাবলো পমবো কুইনতানার রেকর্ড, যিনি স্পেনের শীর্ষ ক্লাব ফুটবলে ১৮ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী। ১৯৩৩/৩৪ মৌসুমে ১৮তম জন্মদিনের আগেই ১১ গোল করেছিলেন কুইনতানা।
এ মুহূর্তে আনসু ফাতির সম্ভাবনা আকাশচুম্বী। এই গ্রীষ্মের শুরুর দিকে তার জন্য ১৫ কোটি ইউরোর প্রস্তাব কেন বার্সা ফিরিয়ে দিয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। এরই মধ্যে ইতিহাস গড়েছেন। বার্সার জার্সিতে লা লিগায় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন এ কিশোর।
বালাইদসে ফাতিকে লেফট-উইঙ্গার হিসেবে খেলিয়েছেন কোম্যান। আক্রমণভাগে তার সঙ্গে ছিলেন আতোয়াঁ গ্রিজম্যান, ফিলিপ্পে কুতিনহো আর মেসি। বার্সা অধিনায়ক এ ম্যাচে গোল করেননি, কিন্তু ম্যাচে ব্যবধান তিনিই গড়ে দেন। ওলাজার আত্মঘাতী গোলটির পেছনে ভূমিকা মেসিরই ছিল, আর রবার্তোকে দিয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করিয়েছেন মেসিই।
বার্সার তৃতীয় গোলদাতা রবার্তো মেসিকে নিয়ে বলেন, ‘লিও (মেসি) খেলায় ভীষণ মনোযোগী, এ নিয়েই তার সব ভাবনা। আমরা খুবই খুশি যে তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন এবং খেলার প্রতি তার তীব্র আকাঙ্খা আমাদের জন্যই ভালো।’
ফাতিকে নিয়ে রবার্তো বলেন, ‘ফাতি একাদশে থাকার যোগ্যতা রাখে। সে গোল করে চলেছে। আশাকরি সে এভাবে গোল করে যাবে ও আমাদের সাহায্য করবে।’
সূত্র: মার্কা ও বিবিসি










