দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ সবচেয়ে বড় ম্যাচ, ভারত-পাকিস্তান লড়াই। কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

‘এ’ গ্রুপের ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক টানাপড়েনে শ্রীলংকার মাঠে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার দাবি তুলেছিল বাংলাদেশ, তা মানেনি আইসিসি। বলা হয়, ম্যাচগুলো ভারতের মাঠেই খেলতে হবে। বাংলাদেশও এ শর্তে রাজি হয়নি, ফলে ছিটকে যায় বিশ্বকাপ থেকে। বাংলাদেশের জায়গায় নেয়া হয় স্কটল্যান্ডকে।

আইসিসির এমন অনড় অবস্থানের সমালোচনায় মুখর হন অনেকেই। এ সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান, এমনকি তারা ভারতের সঙ্গে ম্যাচ না খেলার হুমকিও দেয়। পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্তে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কেননা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আর্থিকভাবে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়বে সব পক্ষ। তখন লাহোরে জরুরি বৈঠকে বসেন আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির কর্মকর্তারা। সেই বৈঠকের পর কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে পাকিস্তান, ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। আইসিসি বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেবে না এবং আইসিসির একটি বাড়তি ইভেন্ট আয়োজনের সুবিধা দেবে—এ শর্তে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে রাজি হয় পাকিস্তান। আজ সেই আলোচিত, প্রতীক্ষিত ম্যাচ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটা দুই দলের নবম ও সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১৭তম লড়াই। বিশ্বকাপে আগের আটবারের দেখায় ভারত আধিপত্য করে সাতবার জিতেছে এবং সব মিলিয়ে ১৬ বারের দেখায় ১২টি জয় নিয়ে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, পাকিস্তানের জয় তিনটি। একটি ম্যাচ টাই হয়। টাই ম্যাচটিও সুপার বোলে ভারত জয়লাভ করেছে। ফলে তাদের মোট জয় ১৩টি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই দলের প্রথম দেখাটিই ‘টাই’ হয়। ২০০৭ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারত-পাকিস্তান লড়াইটা টাই হয়েছিল। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৪১ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে পাকিস্তানও ৭ উইকেটে ১৪১ রান তুলতে সমর্থ হয়। এরপর ‘বোল আউট’-এ জিতে যায় ভারত। তখন সুপার ওভার চালু হয়নি, ছিল বোল আউট। ব্যাটারবিহীন খালি স্টাম্প ভাঙার প্রতিযোগিতা। এতে উভয় দলের পাঁচজন অংশ নেন। এ লড়াইয়ে ৩-০-তে জয়লাভ করে ৩ পয়েন্ট আদায় করে নেয় ভারত।

টি-টোয়েন্টিতে দুই দল মোট ১৬ বার মোকাবেলা করেছে। এর মধ্যে আটবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। টাই ম্যাচসহ প্রথম বিশ্বকাপে দুবার দেখা হয় ভারত ও পাকিস্তানের। দুবারই জিতেছে ভারত। এরপর ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ বিশ্বকাপে টানা হারের পর ২০২১ বিশ্বকাপে জয়ের দেখা পায় পাকিস্তান। দুবাইয়ে ১০ উইকেটের বিশাল জয় পায় বাবর আজমের দল।

এরপর আবার ভারতের রাজত্ব। ২০২২ ও ২০২৪ বিশ্বকাপে টানা দুবার পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয় তারা। নিউইয়র্কে লো-স্কোরিং ম্যাচটি ছিল রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের। আগে ব্যাট করে ১১৯ রান তুলতে সমর্থ হয় ভারত। জবাব দিতে নেমে জশপ্রীত বুমরাহর গতিঝড়ের মুখে পড়ে ৯ উইকেটে ১১৩ রান তুলতে সমর্থ হয় পাকিস্তান। মর্যাদার এ লড়াইয়ে ৬ রানের জয় পায় ভারত।

বিশ্বকাপের বাইরেও টি-টোয়েন্টিতে আটবার দেখা হয় ভারত ও পাকিস্তানের। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ লড়াইয়ের পর এ ফরম্যাটে দুই দলের আরো তিনবার দেখা হয় এবং তিনবারই জিতেছে ভারত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে তিনবার দেখা হয় দুই দলের, যার তিনটিতেই জিতেছে ভারত। ‘হ্যান্ডশেক’ বিতর্কের সেই আসরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের রেশে দুই দলের অধিনায়ক হাত মেলাননি। অবশ্য ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবই আগ্রহ দেখাননি। এমনকি ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রা চিরাচরিতভাবে হাত মেলালেও এ দুই দলের ম্যাচ শেষে তা দেখা যায়নি।

মাঠের বাইরে যা-ই হোক না কেন, মাঠের লড়াইয়ে প্রতিবারই জিতেছে ভারত। গ্রুপ ম্যাচে ৭ উইকেটে, সুপার ফোরের ম্যাচে ৬ উইকেটে ও ফাইনালে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় সূর্যকুমার যাদবের দল। এছাড়া এশিয়া কাপ ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে আরো পাঁচবার দেখা হয় দুই দলের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাফল্যের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে ভারত। তারা দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। ২০০৯ সালে পরের আসরে শিরোপা জিতে নেয় পাকিস্তান। ভারত সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোজ ফাইনালে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেয়। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপার খোঁজে এবার ঘরের মাঠে খেলছে ভারত, আর পাকিস্তানের লক্ষ্য দ্বিতীয়।

চেন্নাইতে আজ বেলা সাড়ে ৩টায় ‘এ’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে নামিবিয়া খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। ভারত ও পাকিস্তানের কাছে টানা হারের পর সর্বশেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নামিবিয়ার ঝুলিতে দুই ম্যাচে শূন্য। এর আগে সকালে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে নেপাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই ম্যাচেই জিতেছে, আর নেপালকে সর্বশেষ ম্যাচে ১০ উইকেটে হারানোর লজ্জা দিয়েছে নবাগত ইতালি। দুটিতেই হেরেছে নেপাল।