আর মাত্র চারদিন পরই ভারতের মাটিতে বসছে ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসর। নতুন আরেকটি বিশ্বকাপ সামনে রেখে সবাই এখন চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন রেকর্ডের পাতায়। আগের ১২টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার, আর সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা।
১৯৯২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে ৪৫ ম্যাচে ৫৬.৯৫ গড়ে ২ হাজার ২৭৮ রান করেছেন টেন্ডুলকার। এ পথে তিনি রেকর্ড ১৫টি হাফ সেঞ্চুরি ও ৬টি সেঞ্চুরি করেন। সেঞ্চুরিতেও তিনি রেকর্ড গড়েছিলেন, যা গত আসরে ছুঁয়ে ফেলেন তার স্বদেশী রোহিত শর্মা। দুজনেরই সেঞ্চুরির সংখ্যা ৬টি। ৫টি করে সেঞ্চুরি আছে কুমার সাঙ্গাকারা ও রিকি পন্টিংয়ের।
রানে টেন্ডুলকারের পরেই আছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (১৭৪৩), শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারা (১৫৩২), ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা (১২২৫) ও দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স (১২০৭)।
শীর্ষ পাঁচে থাকতে না পারলেও সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ২০০৭ থেকে এখন পর্যন্ত মোট চারটি বিশ্বকাপে ২৯ ম্যাচে ১১৪৬ রান করে সাকিব আছেন ৯ নম্বরে। বিশ্বকাপে ২৯ ম্যাচ খেলে ৪৫.৮৪ গড়ে রান করেছেন তিনি। ২০১৯ বিশ্বকাপে ৬০৬ রান করে তালিকার ৯ নম্বরে উঠে আসেন সাকিব। এবার তিনি আরো অনেক উপরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
৯ নম্বর থেকে দ্রুতই পাঁচে ঢুকে যাওয়ার হাতছানি সাকিবের সামনে। ৬২ রান করলেই দক্ষিণ আফ্রিকান গ্রেট এবি ডি ভিলিয়ার্সকে টপকে সাকিব উঠে আসবেন শীর্ষ পাঁচে। ২০০৭ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিনটি বিশ্বকাপ খেলা ডি ভিলিয়ার্স ২৩ ম্যাচে করেছেন ১২০৭ রান। তিনি এখন অবসরে। তাকে টপকাতে খুব অসুবিধা হওয়ার কথা না সাকিবের। অবশ্য তার আগে জ্যাক ক্যালিস (১১৪৮), সনাথ জয়সুরিয়া (১১৬৫) ও ক্রিস গেইলকে (১১৮৬) টপকে যেতে হবে তাকে।
৩৬ বছর বয়সী সাকিবের এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাই যা করার এ আসরেই করতে হবে। আর শীর্ষ পাঁচে উঠে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তার সামনে। চলতি বিশ্বকাপে রাউন্ড রবিন লিগে ৯টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই ৯টি ম্যাচের সবগুলোতে খেললে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব অবলীলায় টপকে যাবেন ডি ভিলিয়ার্সকে। এমনকি লংকান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারার ১৫৩২ রানও টপকে যাওয়া কঠিন নয়।
তবে বর্তমানে যারা খেলে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে বিশ্বকাপে সাকিবেরই রান বেশি। তার ওপরে যে কয়জন আছেন তারা সবাই অবসর নিয়েছেন। এমনকি তার পরের সাতজনই অবসরে। ভারতের সুপারস্টার বিরাট কোহলি ২৬ ম্যাচ খেলে ১০৩০ রান করে সাকিবের কাছাকাছি দূরত্বে রয়েছেন। ১৮ ম্যাচে ৯৯২ রান করে এর পরেই অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার।
বাংলাদেশের আরেক তারকা ব্যাটার মুশফিকুর রহিম বিশ্বকাপে ২৮ ম্যাচ খেলে করেছেন ৮৭৭ রান। এছাড়া তামিম ইকবাল ৭১৮ রান করেছেন ২৯ ম্যাচে। যদিও বিশ্বকাপে রানটা বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ আর পাচ্ছেন না তামিম। কেননা পিঠের চোটের কারণে তিনি এবারের বিশ্বকাপে দলে সুযোগ পাননি।
ব্যাটিং কিংবা বোলিং কোনোটিতেই শীর্ষ পাঁচে না থাকলেও একটি জায়গায় সাকিব নাম্বার ওয়ান। বিশ্বকাপে অলরাউন্ডারদের তালিকায় তিনি এক নম্বরে। বিশ্বকাপে অন্তত হাজার রান এবং ন্যূনতম ৩০ উইকেট নেয়া অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে সাকিব। বর্তমানে যারা খেলছেন তাদের কেউই সাকিবের সঙ্গে এ তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি। বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে সাকিব একাই এ অভিজাত ক্লাবের সদস্য।
সব মিলিয়ে সাকিব ছাড়া আর দুজনের রয়েছে হাজার রান ও অন্তত ২০ উইকেট শিকারের কীর্তি। এরা হলেন শ্রীলংকার জয়সুরিয়া (৩৮ ম্যাচে ১১৬৫ রান ও ২৭ উইকেট) ও জ্যাক ক্যালিস (৩৬ ম্যাচে ১১৪৮ রান ও ২১ উইকেট)।
এক আসরে সর্বোচ্চ ৬৭৩ রান করার কীর্তি টেন্ডুলকারের, তেমনি এক আসরে সর্বোচ্চ ২৭ উইকেট শিকারের রেকর্ডটা অস্ট্রেলিয়ার গতি বোলার মিচেল স্টার্কের। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ইনিংসটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মার্টিন গাপটিলের। ২০১৫ সালের আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৩৭ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। আর বিশ্বকাপে সেরা বোলিং ফিগার ম্যাকগ্রার। ২০০৩ সালে নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৫ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছিলেন এ ফাস্ট বোলিং স্টার।
ব্যক্তিগত এসব রেকর্ডের বাইরে দলীয় অনেক রেকর্ডের জন্ম হয়েছে বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডটা অস্ট্রেলিয়ার গড়া। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে পার্থে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৪১৭ রান তুলেছিল অজিরা। চারশর ওপরে স্কোর আছে আরো তিনটি। ২০০৭ সালে বারমুডার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৪১৩ রান করেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি চারশোর্ধ্ব স্কোর রয়েছে। ২০১৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪১১ ও একই আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০৮ রান করে প্রোটিয়ারা।
বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন সংগ্রহই বা কাদের। ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩৬ রানে গুটিয়ে গিয়ে কানাডা তাদেরই আগের রেকর্ডটা ভেঙে দেয়। ১৯৭৯ সালের আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৫ রান করেছিল কানাডা। এছাড়া নামিবিয়া ৪৫ ও বাংলাদেশের ৫৮ রানের লজ্জা আছে।










