পাকিস্তানের লাহোরে রোববার এশিয়া কাপ ক্রিকেটের গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তানকে ৮৯ রানে হারিয়ে সুপার ফোর পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচটি লাহোরেই খেলবে টাইগাররা। বুধবার স্বাগতিক পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে সাকিব আল হাসানের দল।

 

আফগানদের হারানোর পর বাংলাদেশের নিট রানরেট দাঁড়িয়েছে (+) ০.৩৭৩। শ্রীলংকার (+) ০.৯৫১ আর আফগানিস্তানের (-) ১.৭৮০। মঙ্গলবার লাহোরে শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন, বাংলাদেশের সুপার ফোরে খেলা নিশ্চিত। শ্রীলংকাকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আফগানিস্তান যদি সুপার ফোরে ওঠে, তবে শ্রীলংকা বিদায় নেবে।

    

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫ উইকেটে ৩৩৪ রানের সৌধ গড়ে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নামা মিরাজ ১১৯ বলে ১১২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন, আর শান্ত ১০৫ বলে ১০৪ রান করেন।


 

৩৩৪ রান ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ, আর ওয়ানডেতে যেকোনো দলের বিপক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এশিয়ার কোনো দলের বিপক্ষেও সর্বোচ্চ এটি। সব মিলে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দুটি সংগ্রহ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এ বছর মার্চে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যথাক্রমে ৩৩৮ ও ৩৪৯ রান করেছিল বাংলাদেশ।  

 

বড় দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৩৩/৮ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩০/৬ রানের দুটি তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ রয়েছে টাইগারদের।

 

আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৩৩১ রান এসেছিল গত জুলাই মাসে, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। সবমিলে ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ পেল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে চট্টগ্রামে ৪ উইকেটে ৩০৬ রান তুলেছিল টাইগাররা।

 

শান্ত ও মিরাজের বীরত্বের পর বাংলাদেশের পেস বোলরারা গুঁড়িয়ে দেন আফগানদের। তাসকিন আহমেদ ৪৪ রানে ৪টি, শরিফুল ইসলাম ৩৬ রানে ৩টি ও হাসান মাহমুদ ৬১ রানে ১টি উইকেট নেন। স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও নেন ১টি উইকেট।

 

এবার সুপার ফোর পর্বে লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। এটি সুপার ফোরে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে, এবারের আসরেও সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচ। সুপার ফোরে পাকিস্তানে এই একটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে। বাকি মাচগুলো হবে শ্রীলংকায়।

 

ফরম্যাট এমনভাবে করা হয়েছে, যেন ভারতের কোনো ম্যাচ পাকিস্তানে না পড়ে। গ্রুপের ফল যা-ই হোক না কেন, পাকিস্তান ‘এ-১’ ও ভারত ‘এ-২’ এবং শ্রীলংকা ‘বি-১’ ও বাংলাদেশ ‘বি-২’ হিসেবে সুপার ফোরে খেলবে। এই হিসেবে বুধবার লাহোরে ‘এ-১’ পাকিস্তান ও ‘বি-২’ বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে। ৯ সেপ্টেম্বর কলম্বোয় সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। কোনো অঘটন না হলে প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 

সুপার ফোরের পাঁচটি ম্যাচ ও ফাইনাল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা থাকলেও সেপ্টেম্বরে কলম্বোয় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে ম্যাচগুলো সরিয়ে দ্বীপদেশের অন্য কোনো ভেন্যুতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। সেখানে সায় আছে আয়োজক পাকিস্তান ও শ্রীলংকার।