এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বে টানা দুই হারে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সুযোগ শেষ হয়ে যায়। সাকিব আল হাসানের দল অবশ্য খালি হাতে ফিরতে চায়নি। শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জিততে চেয়েছে। জিতেছেনও সাকিবরা। শুক্রবার নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ভারতকে ৬ রানে হারিয়ে দিয়েছে টাইগাররা। জয়টি আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজ ও আগামী মাসের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন টাইগার অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

গতকাল শ্রীলংকা থেকে দেশে ফিরেছে ক্রিকেট দল। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের মিরাজ বলেন, ‘শেষ ম্যাচটা জেতায় দলের মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস যোগ করবে। ভারত এই টুর্নামেন্টে খুব ভালো খেলছে। ম্যাচটা এমন ছিল—আমরা জিতলেও এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে আমাদের মধ্যে এই বিষয়টা কাজ করেছে, যদি ভারতের সঙ্গে জিততে পারি, বিশ্বকাপের যাওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসটা ভালো থাকবে। বিশ্বকাপ বড় ইভেন্ট, খেলাও ভারতে। সেখানে যাওয়ার আগে দলের স্পিরিটটা বেড়ে যাবে। সেটাই হয়েছে। দলের খেলোয়াড়রা খুব ভালো খেলেছে।’

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রাপ্তি নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই দুটি জয়। আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে। আর তরুণেরা যেভাবে খেলেছে, যেমন সাকিব (তানজিম হাসান) অভিষেকে ভালো করেছে, হৃদয় (তৌহিদ) সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে ভালো জুটি করেছে। এই ম্যাচে লোয়ার অর্ডার থেকেও রান এসেছে। এটা আমাদের দলের জন্য অনেক ইতিবাচক দিক।’

মিরাজ মনে করেন ইনজুরির সমস্যা না থাকলে বাংলাদেশ দল আরো ভালো করত। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যারা চোটে পড়েছে, তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তামিম (ইকবাল) ভাই দলের সঙ্গে ছিলেন না চোটের কারণে। শান্ত (নাজমুল হোসেন) খেলার ভেতর চোটে পড়েছে। সে কিন্তু দুটি ম্যাচ খেলেছে, দুটিতেই বড় ইনিংস খেলেছে। লিটন (দাস) ভাই অসুস্থ ছিলেন। মুশফিক (মুশফিকুর রহিম) ভাইকে ব্যক্তিগত কারণে খেলার মাঝেই চলে আসতে হয়েছে। সব মিলিয়ে যদি সবাই সুস্থ থাকত, তবে খুব ভালো একটা টুর্নামেন্ট হতো। সব মিলিয়ে মনে করি, বিশ্বকাপের আগে আমরা সবাই সুস্থ হয়ে, মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় থেকে বিশ্বকাপে যেতে চাই।’

শ্রীলংকার কাছে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। যদিও পরের ম্যাচে খাদের কিনারে থাকা বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়ায়। আফগানদের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি করেন শান্ত ও মিরাজ। অনেকের চোটের কারণেই এশিয়া কাপে মিরাজকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপনিংয়ে খেলতে হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার এশিয়া কাপে আমাকে বিভিন্ন রোল দেয়া হয়েছে। এটা মূলত দলের সমন্বয়ের জন্যই হয়েছে। আমাদের ওপেনাররা যদি শুরু থেকে সুস্থ থাকত, তাহলে কিন্তু আমি ওপেন করতাম না। যারা ওপেনার ছিল, তারাই করত। একদিন খুব ভালো হয়েছে। পরে ভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মাঝখানে খেলেছি, মুশফিক ভাই ছিলেন না।’