ধর্মশালায় গতকাল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৮ ওভারে ৩০ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেন সাকিব আল হাসান। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজের রেকর্ড আরো সংহত করলেন বাংলাদেশ দলনায়ক। বিশ্বকাপে তার উইকেট সংখ্যা এখন ৩৭। এদিন এক লাফে ২০ নম্বর থেকে উঠে আসেন ১২ নম্বরে। পরে ব্যাট হাতে ১৪ রান করে রান চার্টে নবম থেকে উঠে আসেন অষ্টম স্থানে। ৩০ ম্যাচে তার রান ১১৬০।
৩৯ ম্যাচে ৭১ উইকেট নিয়ে ১ নম্বরে অজি কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রা। তার পরে আছেন লংকান স্পিন কিং মুত্তিয়া মুরালিধরন (৬৮), একই দেশের পেস সেনসেশন লাসিথ মালিঙ্গা (৫৬), পাকিস্তান গ্রেট ওয়াসিম আকরাম (৫৫), অজি গতিদানব মিচেল স্টার্ক (৪৯), লংকান পেস তারকা চামিন্ডা ভাস (৪৯), ভারতের পেসম্যান জহির খান (৪৪) ও জাভাগাল শ্রীনাথ (৪৪), প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহির (৪০), নিউজিল্যান্ড ফাস্ট বোলার ট্রেন্ট বোল্ট (৪০), প্রোটিয়া ‘সাদা বিদ্যুৎ’ খ্যাত অ্যালান ডোনাল্ড (৩৭) ও সাকিব আল হাসান (৩৭)।
গতকাল ১৫৭ রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত জয়ের এ মঞ্চটা গড়ে দিয়েছেন অধিনায়ক। সাকিব যে ৩ উইকেট শিকার করেছেন, তার দুটিই এসেছে ইনিংসের শুরুতে। সেই সুবাদে আফগান ইনিংসে ফাটল ধরাতে পেরেছে বাংলাদেশ। গতকাল ধর্মশালায় ইনিংসের ফাঁকে সাকিবের বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে মিরাজকে জিজ্ঞেস করা হলে সঞ্চালক ম্যাথু হেইডেনকে এ অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘সাকিব ভাই খুব ভালো বোলিং করেছেন। শুরুর দিকে দুটি উইকেট পেয়েছেন, যা তাদের চাপে ফেলেছে। এটা আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা, কারণ অধিনায়ক সামনে রেখে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
২০০৭ সালের ১৭ মার্চ পোর্ট অব স্পেনে শিরোপাপ্রত্যাশী ভারতকে হারিয়ে চমক দেখায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ওই ম্যাচে লক্ষ্য তাড়ায় হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন বাংলাদেশের তিনজন। যাদের একজন সাকিব আল হাসান। সেই শুরু। এরপর বৈশ্বিক আসরে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই বাংলাদেশের সেরা পারফরমার সাকিব। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭টি উইকেট তার। রানেও তিনি শীর্ষে। এ ম্যাচে মাঠে নামার আগে তার বিশ্বকাপের রান সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪৬। এখন ১ হাজার ১৬০। দ্রুতই তিনি শীর্ষ পাঁচে উঠে যাবেন, এটা নিশ্চিত।
মাঝে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন তরুণ সাকিব। এবার তারই নেতৃত্বে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের এক আসরে অন্তত ৬০০ রান করা ও ১০ উইকেট নেয়া একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব। ২০১৯ সালে ৮ ম্যাচে ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রান তোলার পাশাপাশি ৩৬.২৭ গড়ে ১১ উইকেট পান তিনি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক সাকিব। ২৯ ম্যাচে ৪৫.৮৪ গড়ে তিনি করেছেন ১১৪৬ রান। তার স্ট্রাইক রেট ৮২.২৬। দুটি সেঞ্চুরির সঙ্গে ১০টি ফিফটি আছে তার।
বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করেছেন সাকিব। ৩০ ম্যাচে ৩৩.৮৩ গড়ে ও ৫.০৭ ইকোনমিতে ৩৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। একবার করে পেয়েছেন ৪ উইকেট ও ৫ উইকেট। বিশ্বকাপে ৫০ কিংবা তার বেশি রানের ইনিংস সবচেয়ে বেশিবার খেলার তালিকায় যৌথভাবে দুইয়ে আছেন সাকিব। লংকান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারার পাশাপাশি তিনিও ১২ বার এ স্বাদ নিয়েছেন। সর্বোচ্চ ২১ বার কমপক্ষে ৫০ রান করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার।
বিশ্বকাপের একই ম্যাচে ফিফটি করা ও ৫ উইকেট নেয়া মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় সাকিব। ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫১ রানের ইনিংস খেলার পর ২৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তিনি ছাড়া এমন কীর্তি আছে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে যুবরাজ ৩১ রানে ৫ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতে করেছিলেন হার না মানা ৫০ রান।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারও সাকিবের। ২০১৯ সালে আফগানদের বিপক্ষে ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ২৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে ৫ উইকেট শিকারের প্রথম নজির গড়েন সাকিব (আফগানিস্তানের বিপক্ষে)। এ তালিকায় তিনি ছাড়া আছেন মুস্তাফিজুর রহমান (দুবার)। বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি আছে সাকিবের।
২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৪ রান করেন তিনি।
বিশ্বকাপের এক আসরে অন্তত ৬০০ রান করা পাঁচ ক্রিকেটারের তালিকায় পঞ্চম স্থানে সাকিব। বাকি চারজন হলেন ভারতের শচীন টেন্ডুলকার (৬৭৩ রান, ২০০৩ সালে), অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন (৬৫৯ রান, ২০০৭ সালে), ভারতের রোহিত শর্মা (৬৪৮ রান, ২০১৯ সালে) ও অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার (৬৪৭ রান, ২০১৯ সালে)










