অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ছেলেদের এককে আজ ফাইনালে লড়বেন ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ ও ছয়বারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ। দুজনের সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জেতার সামনে জোকোভিচ, আর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম’ জেতার হাতছানি আলকারাজের সামনে।

শুক্রবার প্রথম সেমিফাইনালে আলকারাজ হারিয়েছেন জার্মানির আলেক্সান্ডার জেভেরেভকে। ওইদিন আরেক সেমিতে জোকোভিচ হারান টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ইয়ান্নিক সিনারকে।

প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টার ম্যারাথন লড়াইয়ে জেভেরেভকে ৬-৪, ৭-৬ (৭/৫), ৩-৬ (৩/৭), ৬-৭ (৪/৭), ৭-৫ গেমে হারান আলকারাজ। এটা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দীর্ঘতম সেমিফাইনাল। এ জয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন তিনি। রেকর্ড ১০ বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচ ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারান সিনারকে। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম সিনারকে তিনি হারাতে পেরেছেন। আলকারাজের ম্যাচটি দেরিতে শেষ হওয়ায় ভুগেছেন জোকোভিচ ও সিনার। তাদের ম্যাচ মেলবোর্নের স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে শেষ হয়েছে।

রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার খোঁজে খেলা জোকোভিচ ২০২৪ সালের উইম্বলডনের পর আরেকবার গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে উঠেছেন। তিনি সর্বশেষ গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতেছেন ২০২৩ সালে ইউএস ওপেনে। ১৮ বছর আগে মেলবোর্নে প্রথম শিরোপা জিতেছিলেন জোকোভিচ। আজ মেলবোর্ন পার্কে নামছেন ১১তম শিরোপার খোঁজে। জিতলেই মেলবোর্নে রেকর্ডটা আরো সংহত করার পাশাপাশি ইতিহাস গড়বেন ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপায়।

জোকোভিচের ইতিহাসের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সিনার ও আলকারাজ। তবে হাল ছাড়েননি। আরেকবার তিনি লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। এবার চূড়ান্ত দেয়াল টপকানোর হাতছানি, সামনে ‘স্প্যানিশ ম্যাটাডোর’ আলকারাজ। এ তরুণকে হারাতে পারলেই নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২৫টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের কীর্তি গড়বেন জোকোভিচ।

ইতিহাস হাতছানি দিচ্ছে আলকারাজকেও। মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম’ জয়ের সামনে তিনি। এরই মধ্যে নামের পাশে দুটি করে ইউএস ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন। এবার তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের কাছাকাছি। এই প্রথম মেলবোর্নে ফাইনালে উঠেছেন। আজ স্বপ্নপূরণের পথে তার সামনে জোকোভিচ নামক কঠিন এক ‘দেয়াল’।

দুজনের সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। এ নিয়ে জোকোভিচ বলেন, ‘কার্লোস (আলকারাজ) এ বয়সে সবই অর্জন করেছে। তার ও আমার জন্যই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনাল। কাজটা অত্যন্ত কঠিন।’

সেমিফাইনাল জিতে তিনি বলেন, ‘পরাবাস্তব লাগছে। সত্য বলতে কী, মনে হয় আমি জিতে গেছি। জানি আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং বিশ্বের নাম্বার ওয়ানকে হারাতে লড়তে হবে। আশা করি, তার সঙ্গে লড়ার মতো এনার্জি আমার আছে।’

২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর আর কোনো গ্র্যান্ড স্লাম জেতা হয়নি জোকোভিচের। অনেকেই তার শেষ দেখতে পাচ্ছিলেন। যদিও আশা ছাড়েননি সার্বিয়ান সুপারস্টার। আরেকবার আশা জেগেছে। কারণ তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে দশবার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই শিরোপা জিতেছেন। পরিসংখ্যান আর ইতিহাস তো তার পক্ষেই কথা বলছে। ৩৮ বছর বয়সী এ খেলোয়াড় বলেন, ‘আমি কখনো স্বপ্ন দেখা থামাইনি। নিজের ওপর বিশ্বাসও হারাইনি। অনেকেই আমাকে নিয়ে আর আশা দেখতে পাচ্ছিলেন না এবং বহু এক্সপার্ট তো অবসর নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, কেননা সেটা আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। তাদের ভুল প্রমাণ করার উদ্দীপনা পেয়েছি আমি, যা আজ রাতে দেখিয়েছি আমি।’