ধর্মশালায় আজ রোববার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা নিউজিল্যান্ড পুরো ৫০ ওভার খেলে ২৭৩ রান তুলে অলআউট হয়েছে। ড্যারিল মিচেলের সেঞ্চুরির পরও কিউইরা ৩০০ রান তুলতে পারেনি মূলত শেষ দিকে ভারতীয় বোলিং সাফল্যে। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার সুযোগ পেয়েই ৫ উইকেট শিকার করে উপেক্ষার জবাব দিলেন ভারতের পেস বোলার মোহাম্মদ শামি।

 

চলতি বিশ্বকাপে এই দুই দল অপরাজিত। ৪ ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট তুলে নিয়ে টেবিলের এক নম্বরে নিউজিল্যান্ড। সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ভারত। নিট রানরেটে এগিয়ে কিউইরা। আজ যারা জিতবে তারা এককভাবে টেবিলের শীর্ষে থাকবে। এই লড়াইয়ে ভারতকে ২৭৪ রানের টার্গেট ছুড়ে দিল কিউইরা।

 

ছোট্ট বাউন্ডারি ও রাতের শিশিরের কথায় মাথায় টস জিতে বোলিং নেন রোহিত শর্মা। এরপর ১৯ রানের মধ্যে ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়াংকে বিদায় করে তার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন ভারতের বোলারার। শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করেন জশপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ। চাপের মুখে দ্রুতই দুই উইকেট হারায় কিউইরা। সিরাজের বলে ফরওয়ার্ড স্কয়ার লেগে নিচু ক্যাচ দেন ব্যাটিংয়ে কিউইদের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা কনওয়ে (৯/১)। শ্রেয়াস আইয়ার অবিশ্বাস্যভাবে ঝাপিয়ে পড়ে এই ক্যাচটি নেন।

 

এরপর উইল ইয়াং। শামি নবম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই নিজের প্রথম বলে বোল্ড করেন ইয়াংকে। ইনসাইড এজ হয়ে বল আঘাত হানে স্ট্যাম্পে (১৯/২)।

 

এরপর প্রায় ২৫ ওভারেরও দীর্ঘ সময় ভারতের জন্য হতাশা উপহার দেন রাচিন রবীন্দ্র ও ড্যারিলে মিচেল। এ দুজন তৃতীয় উইকেটে ১৫২ বলে ১৫৯ রানের জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফেরান। দুজন সমানতালে রান তোলেন। এই জুটিতে মিচেলের অবদান ৭৫ ও রাচিনের ৭৩। রাচিনকে আম্পায়ার দু দুবার আউট দিলেও তিনি রিভিউ নিয়ে প্রতিবার বেঁচে যান। অবশেষে ৮৭ বলে ৬টি বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৭৫ রান করে মোহাম্মদ শামির শিকার হন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিউই অলরাউন্ডার। লং-অনে তার ক্যাচ নেন শুভমান গিল (১৭৮/৩)।

 

এরপর বাকিদের নিয়ে লড়ে বোর্ডে আরো প্রায় ১০০ রান যোগ করেন মিচেল। অধিনায়ক টম ল্যাথামকে নিয়ে ২০ বলে ২৭, গ্লিন ফিলিপসকে নিয়ে ৪৫ বলে ৩৮ রান, মার্ক চ্যাপম্যানকে নিয়ে ১৬ বলে ১৪ ও লোক ফার্গুসনকে নিয়ে ১২ বলে ১৩ রান যোগ করেন। এ পথে ১০০ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। এটা ওয়ানডেতে মিচেলের পঞ্চম সেঞ্চুরি।

 

৫০তম ওভারে শামিকে পরপর ছক্কা ও চার মারেন মিচেল। পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে বিরাট কোহলিকে ক্যাচ দেন তিনি। এ সময় তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ১২৭ বলে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১৩০ রান। শেষ বলে ট্রেন্ট বোল্ট হন রানআউট।    

 

শামি ৫৪ রানের খরচায় নেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এ নিয়ে তৃতীয়বার ৫ উইকেট শিকার এই ফাস্ট বোলার। স্পিনার কুলদীপ যাদব ৭৩ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। জশপ্রীত বুমরাহ ও সিরাজ উভয় ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ৪৫ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন!


 

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে চোটের কারণে হার্দিক পান্ডিয়া ছিটকে যান। দলে জায়গা হারান শার্দূল ঠাকুরও। তাদের জায়গায় ভারতের একাদশে এসেছেন সূর্যকুমার যাদব ও মোহাম্মদ শামি। এক পান্ডিয়ার কারণেই দলে দুটি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হলো ভারত। তার ব্যাটিংয়র বিকল্প হিসেব সূর্যকুমার ও বোলিংয়ের অভাব পূরণ করতে নেয়া হয় শামিকে। সেই শামিই ৫ উইকেট নিয়ে তিনশর আগে আটকালেন কিউইদের।

 

এর আগে স্বাগতিকরা টানা চার ম্যাচে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড হারিয়েছে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানকে।