অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স একটি নতুন সিনেমায় অভিনয় করছেন। নাম ‘ডাই মাই লাভ’। ৭ নভেম্বর এটি ‘মুবি’তে স্ট্রিম হবে। সিনেমাটির প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর পডকাস্ট ‘দ্য ইন্টারভিউ’য়ে অংশ নেন। সেখানে তিনি খোলাখুলিভাবে জানান, এখন আর রাজনীতি নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নন। অস্কারজয়ী এ অভিনেত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালে তার কঠোর সমালোচক ছিলেন। নির্বাচনের পর তিনি এক নিবন্ধে লিখেছিলেন, ‘ট্রাম্পের জয়ে এখন শুধু শ্বেতাঙ্গ পুরুষরাই আমেরিকায় নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করে।’ সেই তিনিই এখন কোনো মন্তব্য করতে চান না।

পডকাস্টে কথোপকথনের একপর্যায়ে উপস্থাপক গার্সিয়া-নাভারোর প্রশ্নের উত্তরে লরেন্স বলেন, ‘আমি জানি না আমার বলা উচিত কিনা। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন ছিল একেবারে বিশৃঙ্খল। আমি ভাবতাম, কীভাবে আমরা এটা মেনে নিচ্ছি? কিন্তু নির্বাচনের পর প্রমাণ হয়েছে, সেলিব্রিটিরা মানুষের ভোটের সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা রাখে না। তাহলে আমি কেন আমার মতামত দিয়ে দেশের মধ্যে বিভাজন আরো বাড়াব?’

এরপর লরেন্স নিজেও বদলে গেছেন। তিনি এ নিয়ে বলেন, ‘আমি এখন এক ধরনের ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। কারণ আমি একজন শিল্পীও। আমি চাই না আমার রাজনৈতিক মতের জন্য কেউ আমার সিনেমা বা শিল্পকর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিক। যদি আমি এমন কিছু বলতে না পারি যা শান্তি বা সমাধানের দিকে নিয়ে যায়, তাহলে আমি সমস্যার অংশ হতে চাই না।’

লরেন্স জানান, তিনি এখন তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই প্রকাশ করেন। তার প্রযোজনা সংস্থার দুটি প্রকল্প আছে। এর মধ্যে ‘ব্রেড অ্যান্ড রোজেস’ আফগানিস্তানের তিন নারীর জীবনের গল্প বলবে। এছাড়া ‘জুরাউস্কি ভার্সাস টেক্সাস’ গর্ভপাতবিষয়ক তথ্যচিত্র।

আগের রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কিনা জানতে চাইলে লরেন্স মজা করে বলেন, ‘সম্ভবত আছে! আমি যা কিছু বলেছি বা করেছি সবকিছুরই আফসোস আছে।’

তবে তিনি যোগ করেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ ‘ভিন্ন’ মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, তিনি কী করতে পারেন এবং আমরাই তা বেছে নিয়েছি।’

লরেন্সের এ প্রচারণা সফরজুড়ে নিজের ক্যারিয়ার ও জনমতের পরিবর্তন নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ারকে ২০২১ সালে লরেন্স বলেছিলেন, ‘সবাই আমার প্রতি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল, আমিও নিজের প্রতি।’

পুরনো সাক্ষাৎকারে নিজের ‘বিরক্তিকর’ আচরণের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাক্ষাৎকার দেয়া ভয়ানক। আপনি নিজেকে প্রকাশ করেন আর তারপর সবাই আপনার কথাগুলো বিশ্লেষণ করে। আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম।’

এসব কারণে এখন তিনি অনেক বেশি সতর্ক ও সংযত। লরেন্স বলেন, ‘আমি বড় হয়েছি। আমি এমন কিছু বলতে চাই না যা কেবল ফাঁকা আওয়াজের মতো শোনায়।’