মারা গেছেন অভিনেতা ম্যাথিউ পেরি। ২৮ অক্টোবর বাড়ির টাব থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে তিনি টাবে ডুবেই মারা গেছেন। তার লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ জানিয়েছে কোনো আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। সে কারণেই পুলিশ ধারণা করছে, হট-টাবের পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে ৫৪ বছর বয়সী পেরির। আপাতত তারা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন।

ম্যাথিউ পেরি তার নিজের নামের চেয়ে চ্যান্ডলার নামেই বেশি পরিচিত। এ চরিত্রে তিনি ১০ বছর অভিনয় করেছেন টেলিভিশন সিটকম ‘‌ফ্রেন্ডস’-এ। ওয়ার্নার ব্রোস টেলিভিশন গ্রুপ ম্যাথিউর মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ ও তার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য দিয়েছে। তারা ম্যাথিউকে ‘‌আমাদের প্রিয় বন্ধু’ ও ‘‌একজন মেধাবী অভিনেতা’ বলে উল্লেখ করেছে। গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তার অসাধারণ কমেডি পৃথিবীব্যাপী প্রভাব সৃষ্টি করেছে এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। আজকের দিন আমাদের জন্য হৃদয়বিদারক। আমরা তার পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা তার ভক্তদেরও সমব্যথী।’

চ্যান্ডলার বিং চরিত্রে অভিনয় করে দুনিয়ার সিটকমপ্রেমীদের কাছে একনামে পরিচিত হয়েছেন ম্যাথিউ। কিন্তু এর আগে বেশকিছু সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপরই আসে ফ্রেন্ডস সিরিজের প্রস্তাব। তখনো হয়তো জানতেন না এটিই তাকে অমর করে রাখবে।

ম্যাথিউর জন্ম ১৯৬৯ সালে। তার বাবা আমেরিকান। নাম জন বেনেট পেরি। মা সুজান মেরি ল্যাংফোর্ড। সুজান ছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী পিয়ের ট্রুডোর ‘‌প্রেস আইডে’। ম্যাথিউর বাবা একটা সময় পরিবার ছেড়ে চলে যান। ১৫ বছর বয়সে হলিউডে আসেন তিনি। বাবাকেই খুঁজতে চেয়েছিলেন। সেখানেই পরিচালক উইলিয়াম রিচার্টের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং অভিনয়ে আসেন পেরি। ১৯৮৮ সালে ‘‌আ নাইট ইন দ্য লাইফ অব জিমি রিয়ারডন’-এ অভিনয় দিয়ে ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আসে তার। এর আগে পেরি অভিনয় করেছিলেন বেশকিছু টিভি সিরিজে।

২৪ বছর বয়সে ম্যাথিউ পেরি শুরু করেন ফ্রেন্ডস। সে সময় তিনি অভিনয় জগৎ বা দর্শকের কাছে ততটা পরিচিত ছিলেন না। এর মধ্যে আবার চ্যান্ডলার চরিত্রটি ছিল তুলনামূলক কঠিন। ২০১৯ সালে একটি সাক্ষাৎকারে ফ্রেন্ডস সিরিজের সহপরিচালক ক্রেইক বারকো বলেন, ‘‌মার্তা কফম্যান আর আমি মনে করেছিলাম চ্যান্ডলারের চরিত্রটি সুন্দর করে লেখা হয়নি। কিন্তু ম্যাথিউ সেটাকেই এত সুন্দর করে করল যে আমাদের মনে হয়েছিল এটা তার জন্যই লেখা হয়েছে।’

চ্যান্ডলার চরিত্রটি এতই জনপ্রিয় হয় যে ম্যাথিউর আসল নামটা অনেক দর্শকই মনে রাখেনি। তাকে চ্যান্ডলার বলেই ডাকত তারা। এ নিয়ে ২০১৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ম্যাথিউ। তিনি বলেছিলেন, ‘‌অনেকের সঙ্গে আমার দেখা হয় আর তারা বলে, ‘‌‘‌আরে, চ্যান্ডলার যে!’’ আমি তাদের কথার উত্তর দিই না। কেউ যদি বলে, “‍‍হ্যালো ম্যাথিউ, তোমার অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে’, সেটা শুনতে আমারো ভালো লাগে।’

কোনো কোনো সূত্র বলছে ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন তিনি। চলছিল পেইনকিলার আর পানাসক্ত হয়েছিলেন, মনে করা হচ্ছে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। চ্যান্ডলার এভাবে চলে যাবেন তা মানা যায় না।