আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় আয়োজিত হলো আরেকটি বিশেষ অনুষ্ঠান। ফ্লেমিং অ্যাকুস্টিকস নামের এ আয়োজন ছিল সংগীত ও সুরের এক অনন্য সন্ধ্যা। মনোমুগ্ধকর এ সংগীত আয়োজন বিশ্বমানের ক্ল্যাসিকের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শককে বিমোহিত করেছে। গুলশানের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠান দর্শকের জন্য ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি, সময় ও সংগীতধারা একসঙ্গে মিলেমিশে এক অসাধারণ সুরের সংগম সৃষ্টি করেছে।

সন্ধ্যাটি শুরু হয়েছিল কিছু সুপরিচিত পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে। ছিল ওসকার রাইডিংয়ের বি মাইনর ভায়োলিন কনসার্টো, ভিভাল্ডির আ মাইনর ভায়োলিন কনসার্টো, মোজার্ট ও সেন্ট সেইনসের মিউজিক। এ চিরন্তন সংগীতগুলো পুরো সন্ধ্যাকে একটি আবেগময় ও সুরসমৃদ্ধ আবহে ভরে তুলেছিল, পাশাপাশি ব্যান্ডটির প্রযুক্তিগত পারদর্শিতা ও সংগীতবোধকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।

অনুষ্ঠানটি এরপর চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় ক্ল্যাসিকের জগতে প্রবেশ করে, যেখানে দর্শকের প্রিয় কিছু গান পরিবেশন করা হয়। এর মধ্যে ছিল দ্য গডফাদারের ‘পারলা পিউ পিয়ানো’, রোমিও জুলিয়েটের ‘আ টাইম ফর আস’, পাওলা ও লিন্ডা ম্যাককার্টনির ‘লিভ অ্যান্ড লেট ডাই’ ও এডিথ পিয়াফের ‘লা ভি এন রোজ’।

এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জসীমউদদীন ও লালন শাহের সংগীতের মাধ্যমে বাংলাদেশী সংগীতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। ‘হার কালা’, ‘আমার নিশিথ রাতের’ ও ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’-এর পরিবেশনা স্থানীয় সংগীতের সৌন্দর্য ও আবেগকে ফুটিয়ে তুলেছে।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ফ্লেমিং অ্যাকুস্টিকস তাদের নিজস্ব সংগীতধারার পরিচয় তৈরি করেছে। এর ভিত্তি মূলত বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত হলেও বিশ্বসংগীতের ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ। এবারের কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন ফ্লেমিং অ্যাকুস্টিকসের পরিচালক ইফতেখার আনোয়ার। ছিলেন কেএম জাকারিয়া (কণ্ঠ), মো. রায়হান চৌধুরী (পিয়ানো), কৃষ্ণ লাল (ড্রামস), বেহালায় সত্যজিত সরকার ও নাহিয়ান কাব্য এবং সিলভার ফ্লুটে মো. আলী আক্কাস।