ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো সংগীতের এক মনোজ্ঞ আয়োজন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সহযোগিতায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা আয়োজন করে ‘বম্বে এক্সপেরিয়েন্স’। এ বিশেষ সংগীতায়োজন কর্ণাটিক তাল, ভারতীয় হিপ-হপ ও সমকালীন জ্যাজের সংমিশ্রণে দর্শককে মুগ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পরিবেশনায় আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় শিল্পীদের একটি দল অংশ নেয়।

আয়োজনটি বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের একত্র করেছে। ছিলেন ফরাসি পিয়ানোবাদক আলেক্সান্দ্রে হের। তিনি ছন্দগত কাঠামো ও ক্রস জনরা কম্পোজিশনের জন্য পরিচিত। বহুমুখী ও প্রাণবন্ত পরিবেশনার জন্য খ্যাত ফরাসি ড্রামার পিয়েরে মঞ্জার্ড। ফরাসি বেজ প্লেয়ার গায়েল পেত্রিনা সংগীতকে আরো ছন্দময় ও প্রাণবন্ত করেন। ভারতীয় শিল্পী বিসি মঞ্জুনাথ মৃদঙ্গ ও কনকলের শিল্পী। তিনি শাস্ত্রীয় ও সমসাময়িক সংগীতের জগতে তার দক্ষতার জন্য পরিচিত। মনমীত কউর একজন র‍্যাপার, যার অন্তর্মুখী ও সামাজিকভাবে সচেতন কবিতা ভারতের হিপ-হপ পরিপ্রেক্ষিতকে নতুন দিশা দিয়েছে।

মুম্বাই ভ্রমণের সময় সেখানকার প্রাণবন্ত র‍্যাপ ও বিটবক্স সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন ফরাসি জ্যাজ সুরকার আলেক্সান্দ্রে হের। সে অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় বম্বে এক্সপেরিয়েন্স। একই সময়ে ফ্রান্সে এক মাস্টারক্লাসে হেরের পরিচয় হয় বিসি মঞ্জুনাথের সঙ্গে। সেখানে মঞ্জুনাথ কর্ণাটিক তালসংগীতের গাণিতিক কাঠামো ও হেরের নিজস্ব সংগীত রচনাশৈলীর অসাধারণ মিলগুলো তুলে ধরেন। ২০২৩ সালে ভারত সফরের সময় শৈল্পিক আদান-প্রদানের ধারাবাহিকতা হিসেবে যা শুরু হয়েছিল তা ২০২৪ সালের মার্চে গ্রেনোবলের ডেটোর্স ডি বাবেল উৎসবে একটি রেসিডেন্সি এবং ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের সময় পূর্ণাঙ্গ কোলাবোরেশনে পরিণত হয়।

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা তাদের ধানমন্ডি প্রাঙ্গণে আলেক্সান্দ্রে হের, বিসি মঞ্জুনাথ ও মনমীত কউরকে নিয়ে একটি বিশেষ মাস্টারক্লাসের আয়োজন করেছিল গতকাল। সংগীতশিল্পী, শিক্ষার্থী ও সংগীত–অনুরাগীরা শিল্পীদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং বহুমুখী শিল্পচর্চা সম্পর্কে জানার এক অনন্য সুযোগ পান।